ভবিষ্যতে যাওয়া সম্ভব হলে অতীতে ফেরা যাবে না কেন
আমাদের মাথায় প্রায়ই চিন্তা আসে, টাইম ট্রাভেল কি আসলেই করা যায়?
উত্তর অনেকভাবেই দেওয়া যায়। টাইম ট্রাভেল বলতে আমরা বুঝি ভবিষ্যতে অথবা অতীতে ভ্রমণ। আগে ভবিষ্যতে ভ্রমণ নিয়ে বলি—
এটি বিজ্ঞানে একটি প্রমাণিত সত্য। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী এটি মূলত দুটি উপায়ে ঘটে—
১. গতির মাধ্যমে: যদি আলোর গতির কাছাকাছি কোনো মহাকাশযানে ভ্রমণ করেন, তবে আপনার জন্য সময় পৃথিবীর তুলনায় অনেক ধীরে চলবে। ধরা যাক, কেউ যদি মহাকাশে পাঁচ বছর কাটিয়ে পৃথিবীতে ফেরে, এসে দেখবে পৃথিবীতে হয়তো ৫০ বছর পার হয়ে গেছে। এভাবে সে নিজের অজান্তেই ভবিষ্যতে পৌঁছে যাবে।
২. মহাকর্ষের মাধ্যমে: বিশাল ভরের কোনো বস্তুর (যেমন ব্ল্যাকহোল) কাছে সময় ধীর হয়ে যায়। ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি কিছু সময় কাটিয়ে ফিরে এলে আপনি পৃথিবীর সাপেক্ষে ভবিষ্যতে পৌঁছে যাবেন।
এখন আসি অতীতে ভ্রমণ নিয়ে—
অতীতে ভ্রমণ: অতীতে ফিরে যাওয়া তাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত কঠিন এবং অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, এটি হয়তো কখনোই সম্ভব হবে না। এর প্রধান কারণগুলো হলো—
১. ওয়ার্মহোল: বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মহাবিশ্বে এমন কিছু সুড়ঙ্গ থাকতে পারে, যা মহাকাশের দুটি ভিন্ন বিন্দু ও সময়কে যুক্ত করে। একে ‘আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ’ বলা হয়। তবে এই সুড়ঙ্গগুলোকে স্থিতিশীল রাখা এবং এর ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করা বর্তমান বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
২. যৌক্তিক প্যারাডক্স: অতীতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ অতীতে গিয়ে তার নিজের দাদাকে হত্যা করে, তবে সেই ব্যক্তির জন্ম হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ ধরনের লজিক্যাল সমস্যাগুলো অতীতে ভ্রমণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. হকিংয়ের মতবাদ: স্টিফেন হকিং ‘ক্রনোলজি প্রটেকশন কনজেকচার’ দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, প্রকৃতির নিয়মগুলো সম্ভবত অতীতে ভ্রমণকে বাধা দেয়, যাতে মহাবিশ্বের শৃঙ্খলা নষ্ট না হয়।
আইনস্টাইনের থিওরি অনুযায়ী, আপনি যদি আলোর গতির (প্রতি সেকেন্ডে ৩ লাখ কিলোমিটার) কাছাকাছি গতিতে ছুটতে পারেন, তবে আপনার জন্য সময় ধীর হয়ে যাবে এবং আপনি ভবিষ্যতে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু মানুষের তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’-এর গতি আলোর গতির মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৬৪ শতাংশ। এই গতিতে সময় যেটুকু ধীর হয়, তা কয়েক মিলিসেকেন্ডের সমান, যা আমাদের জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে না। আবার আলোর গতির কাছাকাছি পৌঁছাতে যে পরিমাণ জ্বালানি বা শক্তির প্রয়োজন, তা তৈরি করার প্রযুক্তি বর্তমানে পৃথিবীতে নেই। একটি মাঝারি ওজনের মানুষকে আলোর গতির ৯০ শতাংশ গতিতে পাঠাতে যে শক্তি লাগবে, তা পুরো পৃথিবীর বর্তমান শক্তির চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি।
একটি মজার তথ্য
রাশিয়ান মহাকাশচারী সের্গেই ক্রিকালেভ এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টাইম ট্রাভেলার। তিনি মহাকাশে মোট ৮০৩ দিন কাটিয়েছেন এবং পৃথিবীর তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে ভ্রমণ করেছেন। ফলে তিনি পৃথিবীর ঘড়ির তুলনায় শূন্য দশমিক শূন্য ২ সেকেন্ড ভবিষ্যতে পৌঁছে গেছেন! অর্থাৎ তিনি তাঁর নিজের সময়ের চেয়ে শূন্য দশমিক শূন্য ২ সেকেন্ড কম বয়স্ক।
শিক্ষার্থী, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ