চেষ্টা না করেও কর্মক্ষেত্রে কীভাবে নেতা হয়ে উঠবেন
দক্ষ নেতাদের নেতৃত্বে উঠে আসার পথ লক্ষ করলে একটি বিষয় বোঝা যায়, তাঁরা সাধারণত শুরুতেই নেতা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাননি; বরং নিজেদের কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছেন।
নেতৃত্বের শুরু যেভাবে
কোনো কমিটিতে যোগ দেওয়া, নতুন প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়া কিংবা নিয়মিত কাজের বাইরে বাড়তি দায়িত্ব গ্রহণ—এ ধরনের ছোট সুযোগই অনেক সময় নেতৃত্বের প্রথম ধাপ হয়ে ওঠে। সাধারণত নির্ভরযোগ্যতা, কাজের প্রতি আগ্রহ এবং অন্যদের সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করার সক্ষমতার কারণেই তাঁদের এসব দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এসব সুযোগ তাঁদের নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এবং প্রতিষ্ঠানে নিজেদের কাজের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়। পরে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁদের কাছে আসতে থাকে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের প্রধান ভাবনা থাকে, কাজটি গুরুত্বপূর্ণ, এটি করা দরকার এবং অন্য কেউ এগিয়ে না এলে নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করা উচিত।
এটি ‘সেবামূলক নেতৃত্ব’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এমন নেতারা শুধু নিজের সাফল্য নয়, দল ও প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকেও গুরুত্ব দেন।
ভালো কর্মী মানেই ভালো নেতা নয়
নেতৃত্বে যাওয়ার পথ সব সময় যোগ্যতার ভিত্তিতে তৈরি হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠানে কাউকে পদোন্নতি দেওয়ার সময় তাঁর বর্তমান নেতার সঙ্গে মিল, ব্যক্তিগত পছন্দ কিংবা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ করার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো, কেউ তাঁর বর্তমান কাজটি খুব ভালো করেন বলেই তাঁকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া।
কিন্তু একজন ভালো কর্মী হওয়ার জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন, একজন ভালো ব্যবস্থাপক হওয়ার জন্য তার পাশাপাশি ভিন্ন কিছু দক্ষতাও দরকার। যেমন মানুষ পরিচালনা, যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়া ও দলকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।
এ পার্থক্যকে বোঝাতে ‘পিটার প্রিন্সিপল’ ধারণাটি প্রায়ই উল্লেখ করা হয়। এর মূল কথা হলো, প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা পদোন্নতি পেতে পেতে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন, যেখানে নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তাঁদের যথেষ্ট নেই।
ধরা যাক, একজন বিক্রয়কর্মী নিয়মিত ভালো কাজ করছেন। তাঁকে ব্যবস্থাপক করা হলো। কিন্তু ভালো বিক্রয়কর্মী হওয়া এবং একটি দল পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকলে নতুন ব্যবস্থাপক নিজে যেমন সমস্যায় পড়তে পারেন, তেমনি তাঁর অধীন কাজ করা কর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
একইভাবে একজন সফল ব্যবস্থাপককে আরও বড় কৌশলগত নেতৃত্বের পদে বসালেও নতুন দায়িত্বের জন্য নতুন দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে।
নেতৃত্বে যেতে চাইলে কী করা উচিত
পদোন্নতির সুযোগ এলেই সেটিকে স্বাভাবিকভাবে ভালো সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। নতুন দায়িত্বটি নিজের দক্ষতা, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ভেবে দেখা দরকার।
নেতৃত্বে যাওয়ার ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক, নিজের কাজকে অর্থপূর্ণ করে তোলার উপায় খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে নিজের আগ্রহ ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন দায়িত্ব বা কাজ যুক্ত করা যেতে পারে।
কর্মজীবনের প্রতিটি নতুন ধাপকে শেখা এবং নতুন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট একটি দায়িত্ব ভবিষ্যতে বড় সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে। আর নতুন পদে যাওয়ার পর মনে রাখা দরকার, যে দক্ষতার কারণে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, সে দক্ষতাই নতুন দায়িত্বে সফল হওয়ার জন্য যথেষ্ট না–ও হতে পারে। নেতৃত্ব একটি চলমান শেখার প্রক্রিয়া। তাই নতুন দায়িত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দক্ষতাও নিয়মিত গড়ে তুলতে হবে।