মানুষের কোন দক্ষতা এআই প্রতিস্থাপন করতে পারবে না
‘পৃথিবী বদলে গেছে, যা দেখি নতুন লাগে।’ সত্তরের দশকের এই গান যেন প্রযুক্তি–দুনিয়ায় আবার নতুন করে সুর দিচ্ছে। কারণ, পৃথিবীর এই বদলে যাওয়া গত কয়েক দশকের চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। বদলে দিয়েছে মানুষের চিন্তার দুনিয়া। বিজ্ঞানের প্রসারের আগে প্রাচীন মিসরে জাদুবিদ্যাচর্চার প্রচলন ছিল। সেই জাদুবিদ্যা যেন আবার ফিরে এসেছে প্রযুক্তিবিদ্যার হাত ধরে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নামে।
প্রযুক্তির এই জাদুবলে যেমন মানুষের কাজ সহজ হয়েছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে জীবন–জীবিকা। এআই যখন একাই অনেকের কাজ নিমেষেই করে দিতে পারছে। অফিস–বাসা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে নিজেদের উপস্থাপনের জন্য প্রযুক্তির সার্বিক ব্যবহারের সহজলভ্যতা অনেক পেশাদারের জন্য হুমকির হলেও কিছু পেশা আছে, যেগুলো দখলে নিতে পারবে না এআই। মানুষের এসব দক্ষতা সহজে প্রতিস্থাপন করা কঠিন।
সমালোচনামূলক চিন্তা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, দর-কষাকষি, সহমর্মিতা, সৃজনশীলতা, দল পরিচালনা ও জটিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার গুরুত্ব সব সময় সমান থাকবে। তাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে শক্তিশালী কর্মীর পরিচয় হতে পারে তিনটি বিষয়—
১. নিজের বিষয়ে গভীর জ্ঞান
২. এআই ব্যবহারের দক্ষতা
৩. মানুষের সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতা।
এআইয়ের অগ্রগতিতে চাকরির বাজারে পরিবর্তন আসবে। কিছু কাজ কমবে, কিছু কাজ বদলাবে, নতুন কিছু কাজ তৈরি হবে। এই পরিবর্তনের গতি হয়তো আগের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চেয়ে দ্রুতও হতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মানুষের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে; বরং প্রয়োজন বদলে যাচ্ছে।
আগে একজন কর্মীর কাছে টাইপ করা, হিসাব করা বা তথ্য খোঁজার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন সেই কাজের বড় অংশ প্রযুক্তি করে দিতে পারে। ফলে মানুষের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—কী করতে হবে তা বোঝা, কেন করতে হবে তা জানা এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভালো ফলাফল তৈরি করা।
চাকরির বাজারে তাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সুবিধা পেতে পারেন তাঁরা, যাঁরা এখন থেকেই শেখা শুরু করবেন। এআইকে ভয় পাওয়ার চেয়ে বরং প্রশ্ন করা দরকার, ‘আমার কাজের কোন অংশটি এআই করতে পারে?’
তারপর আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
‘এআই ব্যবহার করে আমি কীভাবে এমন একজন কর্মী হতে পারি, যাঁকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাদ দেওয়া কঠিন?’
সম্ভবত এটাই এআইয়ের যুগে চাকরি টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বাস্তব কৌশল।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য সুযোগ কোথায়?
তরুণদের বড় একটি অংশ চাকরির জন্য দেশীয় বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআই আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার সুযোগও বাড়াচ্ছে। একজন দক্ষ কর্মী বাংলাদেশে বসেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য সফটওয়্যার তৈরি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডিজাইন, গবেষণা, কনটেন্ট বা ডেটা বিশ্লেষণের কাজ করতে পারেন।
বর্তমানে বাড়ছে এআই অটোমেশনের চাহিদা। তবে এখানে একটি ভুল ধারণা এড়িয়ে চলা দরকার। এআই টুল ব্যবহার করতে পারা মানেই আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ কর্মী হয়ে যাওয়া নয়। প্রয়োজন হবে পেশাগত জ্ঞান, ভালো যোগাযোগ, নির্ভরযোগ্যতা, সময়নিষ্ঠা এবং মানসম্মত কাজের প্রমাণ।
দপ্তর সম্পাদক, বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ