‘দম’ কি বাংলা সিনেমায় দম আনতে পেরেছে

চলচ্চিত্র ‘দম’–এর দৃশ্যে আফরান নিশো ও পূজা চেরী। ছবি: চরকির সৌজন্যে

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে সারভাইভাল ড্রামা খুব বেশি দেখা যায় না। সেই জায়গা থেকে ‘দম’ একটি সাহসী ও ব্যতিক্রমধর্মী নির্মাণ। এটি শুধু একজন মানুষের বেঁচে থাকার গল্প নয়; বরং প্রতিকূলতার মুখে মানুষের অদম্য মানসিক শক্তির এক শক্তিশালী উপাখ্যান। সিনেমার নামটিও গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর দৃশ্যায়ন। কাজাখস্তানের পাহাড়ি ও মরুভূমির কঠিন পরিবেশকে এমনভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে যে দর্শক সহজেই সেই নিঃসঙ্গতা ও ভয়াবহতার মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারেন। বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্যে প্রধান চরিত্রের একাকিত্বকে ক্যামেরার ভাষায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে আফরান নিশো নিঃসন্দেহে সিনেমাটির প্রাণ। তাঁর ক্লান্ত দৃষ্টি, ক্ষতবিক্ষত শরীর ও দীর্ঘ একাকী লড়াই চরিত্রটির সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত করে। গাধার পিঠে ওঠানোর পর নিশ্বাস যেন আটকে গিয়েছিল, নিশোর মতো আমিও চেয়েছিলাম গাধা যেন না থামে।

পূজা চেরী যেন ‘অশনি সংকেত’–এর ববিতা। অশ্রুসিক্ত নয়নে পূজার অভিনয় মন ছুঁয়েছে। যেকোনো চরিত্রে দারুণভাবে নিজেকে মানিয়ে নেন চঞ্চল চৌধুরী। ‘দম’–এ ছিল তাঁর ম্যাজিক্যাল উপস্থিতি।

আরও পড়ুন

রেদওয়ান রনির গল্প বলার ধরনটিও উল্লেখ করার মতো। এর আগে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন প্রথম সিনেমা ‘চোরাবালি’ দিয়ে, এরপর ‘আইসক্রিম’, এবার ‘দম’। ‘দম’–এ ‘প্রহর’ গানটি যেন সব প্রবাসীর মনের সুর। পুরো ঘটনাপ্রবাহ মূল চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে যাওয়ায় দর্শক তাঁর ভয়, হতাশা, যন্ত্রণা ও আশার অংশীদার হয়ে ওঠেন। ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্কের স্মৃতিগুলো গল্পে আবেগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেক দৃশ্যে সংলাপের পরিবর্তে নিশ্বাসের শব্দ, বাতাসের হাহাকার কিংবা পদচারণের আওয়াজ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সিনেমাটির আবহ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

পোশাক, মেকআপ ও প্রোডাকশন ডিজাইন গল্পের বাস্তবতাকে আরও দৃঢ় করেছে। আবহসংগীত দর্শকদের টান টান উত্তেজনার মধ্যে ধরে রাখে। বিশেষ করে মরুভূমির নিঃসঙ্গতা ও পালিয়ে বাঁচার মুহূর্তগুলোয় সংগীতের ব্যবহার প্রশংসার দাবি রাখে।

সবশেষে ‘দম’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়; এটি সাহস, আত্মবিশ্বাস ও বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষার গল্প। দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সংগ্রামের মিশেলে নির্মিত এই সিনেমা প্রমাণ করে শক্তিশালী গল্প ও আন্তরিক নির্মাণ আজও দর্শককে গভীরভাবে স্পর্শ করতে পারে।

বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা