প্রিয় পদ্মা
আজ বিশ্ব চিঠি দিবস। এ উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা আয়োজন করেছে চিঠি লেখা উৎসব। এতে বন্ধুসভার বন্ধুরা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে সেরা তিনটি চিঠি বন্ধুসভার পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
প্রিয় পদ্মা,
তোমাকে অনেক না–বলা কথার মধ্য থেকে কিছু কথা আজ লিখে জানাতে চাই। কথাগুলো জেনে তোমার অনুভূতি কেমন হবে তা ঠাহর করতে পারছি না। কিন্তু তোমাকে জানিয়ে রাখতে চাইছি।
শোনো তবে। কৈশোরের দিনগুলোয় সুরমার সঙ্গে ছিল আমার ভীষণ ভালো সম্পর্ক। ক্লাসরুমের জানালাগুলো দিয়ে তাকালেই তার দেখা মিলত। ক্লাসের ফাঁকে এমনকি ক্লাস চলার সময়ও যে কত কত বার তার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকতাম তা আজ শুধুই স্মৃতি। তার বয়ে চলা, তার ভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছিল খুব। সেই যে এক অভ্যাস হলো পছন্দের কারও দিকে একমনে চেয়ে থাকার, তুমি ভালো করেই জানো এখনো আমার মধ্যে তা রয়েছে।
যাহোক, টিফিনের সময়ে সুরমার পাশে বসে ঝালমুড়ি আর শিঙাড়া খাওয়ার মুহূর্তগুলো এখন আমার জীবনের সবচেয়ে দামি মুহূর্ত হয়ে গেছে। সেই অনুভূতি তুমি কখনো আমায় দিতে পারবে না। এই কথা শুনে তুমি আবার রাগ কোরো না। তোমার কাছে বসে আমি শুনতে পাই শত জনপদের হাজারো বিচিত্র গল্প, যা তুমি আমাকে বলার জন্য নিয়ে আসো। সত্যি বলছি, এত এত গল্প আমাকে আগে কেউ বলেনি। এই যে সময় পেলেই তোমার পাশে এসে বসি, তা ভালো লাগা থেকেই।
তোমার সঙ্গে প্রায় তিন বছরের এই সম্পর্কে তুমি আমায় জীবনবোধের যে দর্শন শিখিয়েছ, তা অমূল্য। এত বিপর্যয়ের মধ্যে তোমার টিকে থাকা হয়তো আমাকে জীবনের সবচেয়ে দামি শিক্ষাটিই দিয়েছে। এখন কী হয়েছে জানো, প্রায়ই আমার মনটা বিষণ্ন হয়ে ওঠে এই ভেবে যে আর কিছু মাস পরেই তোমাকে ছেড়ে যেতে হবে। চাইলেও তোমাকে সঙ্গে নিতে পারব না, যেমনটা আমি পারিনি সুরমাকে সঙ্গে রাখতে। কিন্তু তোমাকে কখনো না ভোলার কথা দিচ্ছি। সব প্রয়োজনে তোমার এই বন্ধুকে তুমি পাবে।
ইতি,
তোমার সঙ্গে কথা বলা সেই তরুণ।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, রাবি বন্ধুসভা