প্রিয় চলন্তিকা
আজ বিশ্ব চিঠি দিবস। এ উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা আয়োজন করেছে চিঠি লেখা উৎসব। এতে বন্ধুসভার বন্ধুরা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে সেরা তিনটি চিঠি বন্ধুসভার পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
২০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
উপশহর, সেক্টর-২
রাজশাহী।
প্রিয় চলন্তিকা,
শুভ জন্মবার্ষিকী! সেই সঙ্গে আষাঢ়ী শুভেচ্ছা নিয়ো। অতি বিলম্বের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই উপহার আটকে রেখে বসে আছি। শুধু মান্ধাতার আমলের সংস্কৃতির সঙ্গে মৌ-স্বাক্ষর করার কারণে। চিঠি লিখতে এবং পেতে যে আমি খুব আনন্দ পাই!
সে যা–ই হোক, আমাদের প্রতি সপ্তাহে একটি করে প্রজেক্ট সাবমিশন থাকে। কাজেই হালকা চাপ থাকায় তোমাকে লেখার সময় পাইনি। আজ রাতে কোনো চাপ না নিয়ে লিখতে বসে গেলাম। তুমি মনে হয় এখন পরীক্ষার শেষ প্রান্তে চলে এসেছ। কেমন হলো? চিঠির সঙ্গে পাঠানো উপহারটা হয়তো খুব ছোট বা সামান্য, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার একরাশ ভালোবাসা আর শুভকামনা।
বাস্তবতা কিছুটা কিন্তু ভিনটেজ যুগে নয়, সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলে। তবু ব্যস্ততার এই ঘূর্ণিপাকে পড়ে প্রায়ই ভাবি—ইশ্! বড় হয়ে যদি টাইম মেশিনে চড়ে স্কুলজীবনে ফিরে গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই গল্প করা যেত! বড় হওয়ার এই একটা অসুবিধা। চাইলেও সবার সঙ্গে কিন্তু এক্সক্লুসিভলি বহির্মুখী হওয়া যায় না। আষাঢ় আমার মতো ইন্ট্রোভার্টদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও সেরা মাস। কিন্তু বগুড়ার সেই বৃষ্টিভেজা আষাঢ়ে সতেজ গন্ধ আর পাই না। রাজশাহীতে তো বৃষ্টিই হয় না। আচ্ছা, আমি যে এভাবে তোমাকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামির ভূমিকায় রেখে বকবক করে চলেছি; তুমি কি বিরক্ত হচ্ছ? এতে কিন্তু আমার কোনো দোষ নাই। চিঠি তো একপ্রকার মনোলগ। এখানে তুমি আমার কথার ত্বরিত জবাব দিতে অপারগ। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই এত কথা লিখছি।
তা ছাড়া আমার মনে হয়, তুমি আমার কলমি বন্ধু হওয়ার সাহস দেখাবা না, তবে দেখালে তারিফ করতেই হয়। আমার মনোলগ আর দীর্ঘ না করি; কাগজের নিম্ন অংশে চলে এসেছি। লেখাপড়ার চাপের মাঝেও একটু সময় বের করে নিজের ভালো লাগার কাজগুলো করিও। সিঙ্গাপুর ডেইজি বা এই আমার দেওয়া ভৃঙ্গরাজ ফুলের মতো আগ্রাসী হয়ে নিজের যত্ন নিয়ো ঠিকঠাক। বর্ষার বর্ষণে মুখরিত হোক তোমার জীবন।
যাহোক, আমি তোমাকে একজন হিসেবে ধারণা করি। সেটাই তুমি হলে মন্দ হয় না।
ভালোবাসাসহ
নাতিস
সদস্য, রাবি বন্ধুসভা