প্রিয় সিমিন
আজ বিশ্ব চিঠি দিবস। এ উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা আয়োজন করেছে চিঠি লেখা উৎসব। এতে বন্ধুসভার বন্ধুরা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে সেরা তিনটি চিঠি বন্ধুসভার পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।
প্রিয়,
না–বলা কিছু কথা বলছি, মন দিয়ে শোনো। মতিহারের সবুজ চত্বরে আসার পর থেকে মনের মধ্যে অনেক প্রেম ছিল, ভালোবাসা ছিল, অনুভূতিও ছিল। কিন্তু এসব কিছু প্রকাশের জন্য সঠিক মানুষটির বড়ই অভাব ছিল। সে আর আমি একই ভবনে ক্লাস করি, একই বারান্দা দিয়ে হাঁটি, একই সেশনের, তবু অচেনা। দু’বছরে ৭৫৩ একরে একবারও দেখা হলো না।
ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার সময়গুলোতে হতাশ লাগত, ফাঁকা ফাঁকা লাগত। সে সময় সবকিছুতেই তীব্র শূন্যতা অনুভব করতাম। চব্বিশ সালের ফেব্রুয়ারিতে পৃথিবী থেকে বাবার বিদায়, পাঁচই আগস্ট–পরবর্তী সময়ে বড় ভাইয়ার রাজশাহী থেকে ঢাকাতে বদলি। সবকিছুতেই শূন্যতা! জীবন নিয়ে হিসাব কষতে বসি। ক্যাম্পাস থেকে কিছু মানুষের স্নেহ-ভালোবাসা ছাড়া আর কী নিয়ে যাচ্ছি? উত্তরে আর কিছু খুঁজে পাই না।
পঁচিশ সালের শুরুর দিক, রাজশাহীতে তখন হাড় কাঁপানো শীত। অদৃশ্য কোনো এক রূপকথার গল্পের মতো কল্যাণীর খোঁজ পাই। কথা হয়, দেখা হয়, মনের ভেতর কী যে প্রেম! কিন্তু বলা হলো না, অদ্ভুত এক অনুভূতি; যা বলে-কয়ে প্রকাশ করার সাধ্য আমার নেই। অবশেষে, প্রায় এক মাসের মধ্যে নানান জল্পনাকল্পনার মধ্য দিয়ে আমার সেই পূর্ণতা পাই। আর না–বলা কথাগুলো বলতে থাকি। জীবনের নতুন গল্প লিখতে শুরু হয়। আমাদের জীবনে নেমে আসে বসন্তের সুবাতাস। দীর্ঘ সময় ধরে যার অপেক্ষায় ছিলাম, সে এসে নতুন করে জীবন সাজাতে শুরু করে। সত্যি বলতে, জীবন অদ্ভুত রকম সুন্দর। রব আমাদের এপার-ওপার সব সময় রহমতের চাদরে আগলে রাখুক, আমিন।
ইতি,
তোমার ‘স্বপ্নের পুরুষ’
সদস্য, রাবি বন্ধুসভা