প্রিয় তেতু
প্রথমবারের মতো অনলাইনে চিঠি লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। এতে অসংখ্য চিঠি এসে জমা হয়। প্রতিযোগিতায় সমন্বয়ক ছিলেন ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর হাসান। বিচারকদের যাচাই বাছাইয়ের পর সেরা চিঠিগুলো প্রকাশ করা হলো।
প্রিয় তেতু,
নামটা শুনে নিশ্চয়ই চমকে উঠলি? মনে পড়ল আমাকে? কতকাল দেখি না তোকে। কেমন আছিস? শোন, আমি তোকে ফরমালভাবে চিঠি লিখতে পারব না। তোর সঙ্গে ফরমাল কথা আমার কখনো আসেনি, এখনো আসে না। অনেক কথা বলা হয়নি তোকে তখন। এখন যে সেই কথাগুলো কতভাবে মনে হয়, কী বলব তোকে।
গত পরশু তোর কথা খুব মনে পড়ছিল। বাজার নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। পথে দুজন কলেজপড়ুয়া ছেলে ঝগড়া করছিল। তারা বন্ধু হবে হয়তো। মজার ব্যাপার হলো, ঝগড়ার কারণ ছিল পরীক্ষায় একজন আরেকজনকে না দেখানো। আমি তখন মুচকি হেসে পাশ কেটে চলে আসছিলাম। মনে পড়ল তোর কথা।
মনোবিজ্ঞান পরীক্ষার কথা মনে আছে? আমি ৩০ নম্বরের অঙ্কটা ভুল করেছিলাম। কেটেকুটে সে কী অবস্থা! তুই কানাঘুষায় শুনছিলি আমার অঙ্কটা ভুল। আমি তো প্রায় মাথা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভাবছিলাম, আমার রেজাল্ট শেষ। চশমা খুলে বসে ছিলাম। হঠাৎ চশমা পরে তাকিয়ে দেখলাম, আমার বেঞ্চের ওপর তোর মেইন খাতাটা। আমাকে দেখানোর জন্য তুই মেইন খাতাটাও দিয়ে দিয়েছিলি। হল থেকে বের হয়ে তোকে খুব জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করছিল, কিন্তু পারিনি।
আর ওই যে, বাসের কথা মনে আছে। আহা! আমার পা কেটে গিয়েছিল বলে তুই কতই–না চিৎকার করেছিলি। মনে হয়েছিল, ড্রাইভারকেই মেরে ফেলবি। আমি অবশ্য সেদিনও তোকে ধন্যবাদ দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। কী করব, তোকে ধন্যবাদ দিতে কেমন যেন লাগে আমার। অথচ আজ দেখ, কোথায় আছিস সেটাই জানি না। শোন, আমার নম্বর আগেরটাই আছে। এই চিঠিটা দেখতে পেলে আমাকে ফোন করিস তো। কথা আছে অনেক। আমি জানি, নাম দেখে তুই আমাকে চিনবি।
আরেকটা কথা, তুই শুনেছিস মনে হয়, তোর প্রিয় কাকা মানে আমার বাবা দুই বছর আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বাবা তোর কথা বলতেন অনেক। এত সৎ মানুষ নাকি কম হয়। বাবার জন্য দোয়া রাখিস। আশা রাখি, আমাদের দেখা হবে। তখন আমাকে চিনবি তো! চিনবি, অবশ্যই চিনবি। না চিনলে আমি নিজেই চিনে নেব। ভালো থাকিস।
ইতি,
মৌ
১০ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহ