প্রিয় মানসী

প্রিয় মানসী,

চিঠি দিবসের শুভেচ্ছা নিয়ো। প্রায় অর্ধযুগ ধরে তোমার চিঠির অপেক্ষায় আছি। ভুলে ভরা বানানের অমিত বাসনার কথা এখন আর জানাও না; তাই আমি আহত হই। গভীর রাতে মায়ের বকুনির আড়ালে লুকিয়ে কাঁপিত হাতে চিঠি লেখার তাড়া নেই আর। প্রকৃতি কবে যে সেই কষ্টের মুক্তি দিয়েছে তোমাকে। তবু মনে হয়, এই বুঝি ডাকপিয়ন ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে আমার হাতে গুঁজে দেবে তোমার চিঠির খাম। কিন্তু চিঠি দিবসে ডায়েরিসহ তোমার শেষ চিঠি পেয়েছিলাম ২০২০ সালের শুরুর দিকে। যেখানে মাত্র চারটি শব্দ ছিল। সেই শব্দগুলোই হৃদয়ের খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে রইল আজ অবধি।

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা রাখার আগেই আমরা হাওয়া হয়ে গেলাম। সবকিছু মিলিয়ে গেল, আর সম্পর্কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল এক অদৃশ্য দেয়াল। এর নেপথ্যে কী ছিল, তা আজও জানি না। জানতে খুব ইচ্ছা হয়, কিন্তু কুলিয়ে উঠতে পারি না। বহু কারণ খুঁজেছি আর খুঁজেছি তোমাকেও। কোথাও তুমি নেই। আকাশের নীলে নেই, হাওয়ায় নেই, চিরচেনা গ্রামের পথে তোমার পদচিহ্নও নেই। শুধু হৃদয়ের তলানিতে জমে আছ তুমি।

আরও পড়ুন

সেদিন শুনলাম, তোমার বিয়ে হয়েছে বছর তিনেক আগে। তোমার কোলজুড়ে এসেছে নাড়িছেঁড়া ধন। এতে মোটেও ঈর্ষান্বিত হইনি। তবে জানতে ইচ্ছা হয়, তুমি থিতু হয়েছ কোথায়। কেমন যাচ্ছে তোমার দিনমান। কখনো কি মনে পড়ে, পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটা কৈশোরের সোনালি দিনগুলোর কথা? হয়তো মনে পড়ে না। কারণ, এখন তুমি নারীত্বের নাটাইয়ে সংসারের ঘুড়ি ওড়াচ্ছ।

শেষবার তুমি যেহেতু আমার জন্য চারটি শব্দ ব্যয় করেছ, আমি জীবনের সমস্ত অনুভূতি তোমার নামে লিখে দিলাম। স্নিগ্ধ বাতাসে আমাকে খুঁজে নিয়ো; বাতাসরূপী আমি মোলায়েম আলিঙ্গনে জড়িয়ে নেব তোমায়। পল্লিকবির মতো, তোমাকে নিয়ে আমারও একটা শেষ লাইন আছে—‘জীবনে ভালো লাগিবার লোক, কোটিতে গুটিক মেলে।’

ইতি
তোমার করুণার পাত্র,
জ ই আবরার