বাংলাদেশবিহীন টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ কি রং হারাল
শনিবার শুরু হয়েছে আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশের জন্য এটি উৎসবের নয়, বরং লজ্জা ও ক্ষোভের দিন। কারণ, ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর গড়াল বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই।
২০০৭ সালে এই টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হওয়ার পর টানা ৯টি আসরে খেলেছে বাংলাদেশ। মাঠের পারফরম্যান্স যেমনই হোক, অংশগ্রহণের অধিকার কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। কিন্তু এবার সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো ক্রিকেটীয় কারণে নয়, নিরাপত্তা ও রাজনীতির অজুহাতে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। সেটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু আইসিসির প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়কর! সমাধানের পথ না খুঁজে সরাসরি বাংলাদেশকেই বাদ দেওয়া হলো। প্রশ্ন হলো, আইসিসি কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে অক্ষম, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবেই শক্তিশালী পক্ষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে?
বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে যুক্ত করা হলো। এর ফলে টুর্নামেন্টের আকর্ষণ যে মারাত্মকভাবে কমেছে, তার প্রমাণ মিলছে টিকিট বিক্রির ভয়াবহ ধসে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে হাজার হাজার আসন ফাঁকা, এ দৃশ্য বিশ্বকাপের ভাবমূর্তির জন্যই লজ্জাজনক। দর্শকশূন্য গ্যালারি কি আইসিসির ভুল সিদ্ধান্তের নীরব প্রতিবাদ নয়?
আরও বড় প্রশ্ন উঠে আসে ন্যায়সংগত আচরণ নিয়ে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়া হলো উগ্রবাদী চাপের মুখে। পাকিস্তান নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানাল। অথচ বাংলাদেশকেই সবচেয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া হলো পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছেঁটে ফেলে দিয়ে। তাহলে কি ক্রিকেটে নিয়ম এক, কিন্তু প্রয়োগ ভিন্ন?
এই বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন আলোচনা ক্রিকেট নয়, রাজনীতি, নিরাপত্তা আর দ্বিমুখী নীতির। মাঠে কে কত রান করল, সেটার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে আইসিসি কি সত্যিই নিরপেক্ষ একটি সংস্থা?
বাংলাদেশ না থাকায় এই বিশ্বকাপ যে অনেকটাই রংহীন, তা সাবেক বর্তমান ক্রিকেটারদের কণ্ঠেই ধরা পড়ছে। আকরাম খান, হাবিবুল বাশারের মতো মানুষরা যাঁরা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অংশ তাঁদের হতাশা কেবল আবেগ নয়, এটি একটি ক্রিকেট জাতির অপমানের প্রতিফলন।
বিশ্বকাপ খেলাটা শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি একটি দেশের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও পরিচয়ের প্রশ্ন। সেই স্বপ্নকে উপেক্ষা করে যদি নিরাপত্তার দায় এড়িয়ে, রাজনৈতিক সুবিধার হিসাব মেলানো হয়; তাহলে ক্রিকেট আর খেলাই থাকে না, হয়ে ওঠে ক্ষমতার প্রদর্শনী।
বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের চোখে এই বিশ্বকাপ উৎসব নয়, এটি প্রশ্নবিদ্ধ, অসম্পূর্ণ ও অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত এক আসর।
সভাপতি, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা