কেনিয়ার করুণ পতন কি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা?

২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে কেনিয়া সেমিফাইনাল খেলেছিল।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ২০টি দল। কিন্তু এর মধ্যেও খুঁজে পেলাম না কেনিয়া নামের দেশটি; যারা একসময় বাংলাদেশের চেয়েও ভালো ক্রিকেট খেলত।

২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে কেনিয়া সেমিফাইনাল খেলেছিল। শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশকে হারানোর পর পুরো ক্রিকেট–দুনিয়া তাকিয়ে ছিল নাইরোবির দিকে। সেই সময়ে বাংলাদেশ-কেনিয়া মুখোমুখি হয়েছে কয়েকটি ওয়ানডে ম্যাচে, যার মধ্যে কেনিয়া ছিল অনেক এগিয়ে। আর আজ? সেই কেনিয়াকে খুঁজতে হয় আফ্রিকা কোয়ালিফায়ারের তৃতীয় সারিতে।

১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও কেনিয়া মোট ৭টি ওয়ানডে খেলেছে। কেনিয়া জিতেছে ৬টি, বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ১টি। ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়া বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ৩২ রানে। সেই সময় কেনিয়া ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮-৯ নম্বরে, বাংলাদেশ তার নিচে।

আজ সেই সমীকরণ উল্টে গেছে। বাংলাদেশ টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই শীর্ষ ১০–এর দল। আর কেনিয়া? টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩৩ নম্বরে, ওয়ানডে স্ট্যাটাসই হারিয়েছে ২০১৪ সালে।

কেন এমন হলো? উত্তর একটাই, প্রশাসনের ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। ২০০৪-এর পর কেনিয়া ক্রিকেট বোর্ডে শুরু হয় দুর্নীতি, কোন্দল আর নেতৃত্বের শূন্যতা। টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়েছে, কোচিং সিস্টেম ভেঙে পড়েছে, স্পনসর পালিয়েছে। রাজনীতিকেরা বোর্ডকে বানিয়ে ফেলেছেন নিজেদের খেলার মাঠ। ফলে স্টিভ টিকোলো, থমাস ওদোয়ো, মরিস ওদুম্বেদের মতো তারকাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর তৈরি হয়নি।

কেনিয়ার গল্প আসলে ক্রিকেট–বিশ্বের জন্য একধরনের শিক্ষা। সাফল্য টেকে না, যদি তার নিচে শক্ত ভিত্তি না থাকে।

আরও পড়ুন

এই গল্প শুধু কেনিয়ার নয়, আমাদের জন্যও সতর্কবার্তা। বাংলাদেশ যখন ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছিল, তখন কেনিয়াই ছিল আমাদের চেয়ে শক্তিশালী। আজ আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, সেখান থেকে কেনিয়া অনেক পিছিয়ে। এই পতন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্রিকেট বাঁচাতে হলে রাজনীতিকে মাঠের বাইরে রাখতে হবে। প্রশাসনকে দিতে হবে স্বাধীনতা ও জবাবদিহি এবং গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী ঘরোয়া লিগ, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এবং জাতীয় পর্যায়ের কাঠামো।

কেনিয়া আজও ফিরতে পারে। কিন্তু তার জন্য দরকার সৎ নেতৃত্ব আর রাষ্ট্রের সদিচ্ছা। নইলে ২০০৩-এর সেই সেমিফাইনাল শুধুই একটা বিস্মৃত স্মৃতি হয়ে থাকবে; যেখানে একটি জাতি নিজের স্বপ্ন নিজের হাতে গলা টিপে মেরে ফেলেছে।

বন্ধু, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা