কীভাবে সব সময় ভালো ও পজিটিভ থাকি
আমার জীবনে অতীতের কিছু ঘটনা আছে। প্রায় সবার জীবনেই এমন ঘটনা থাকে, যাকে অনেকে ‘ট্রমা’ বলে। ঘটনাগুলো যখন মনে পড়ে, তখন মন খারাপ হয়। কিন্তু আমার মন খারাপ হয় না। সেদিন এক বড় ভাই জিজ্ঞাসা করল, ‘কেন ট্রমা অনুভব করি না?’ জবাবে বললাম, ‘ভালো থাকাটা চয়েজ। জীবনের অনেক কিছুই আমাদের হাতে নেই। না চাইলেও কিছু ঘটনা ঘটবে, আমরা আটকাতে পারব না। তাই সেটা নিয়ে ট্রমা অনুভব করার কোনো মানে নেই। জীবনের চলার পথে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিয়েছি।’
এই বিষয় আমি বিশ্বাস করি এবং মেনে চলি। ভালো থাকাটা চয়েজ। মানুষ চাইলেই ভালো থাকতে পারে। পৃথিবীতে যত ঘটনা ঘটে, সবকিছুরই কোনো না কোনো পজিটিভ দিক আছে। প্রশ্ন হলো, আপনি কোন দিকটা মনে রাখতে চাচ্ছেন?
আমার সঙ্গে যারা মিশে ও গল্প করে, তারা প্রায় সময়ই বলে, আমার কাছ থেকে কখনো নেগেটিভ বার্তা পায়নি।
আমিও ভেবে দেখেছি বিষয়টা সত্য। ব্যাপারটি এমন নয় যে আমি ইচ্ছা করে পজিটিভ থাকি; আমার মন ও মস্তিস্ক সব সময় পজিটিভ থাকে। এটি দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফল।
তার মানে, আমার কি কখনো মন খারাপ হয় না? হয়। কারও সঙ্গে ঝগড়া বা কারও ওপর রাগ হয় না? হয়। কিন্তু সেটা যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি।
মাস কয়েক আগে পারিবারিক একটা স্পর্শকাতর বিষয়ে এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা হয়। সাধারণত কারও সঙ্গে দেখা হলে এই বিষয় ইগনোর করি। কিন্তু সেদিন ওই আত্মীয় বিষয়টা এমনভাবে তুললেন যে ইগনোর করতে পারিনি। পরে উনি বুঝতে পারলেন আমার মন খারাপ হয়েছে। এ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপও করলেন।
মন খারাপ নিয়েই ওনার বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি। গন্তব্যে যাওয়ার পথ ২০ মিনিট। এই ক্ষণিক সময়ের মধ্যে আমি মন খারাপের কথা পুরোপুরি ভুলে গেলাম।
কিছুদিন আগে পারিবারিক আরেকটি বিষয়ে আমার ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়। ঠিক ঝগড়া বলব না। একটা বিষয় সমাধান না হওয়ায় মেজাজ খারাপ হয়ে গেছিল। সেটা নিয়ে কিছুক্ষণ মুড অফ থাকে। এই সময়ে নিজেকে একা রেখেছি। নিজেকে বোঝালাম, কাজটার তো সমাধান হলো না। এই না হওয়ারও নিশ্চয়ই আরেকটা সমাধান আছে। সেই সমাধান মনে মনে খুঁজতে লাগলাম এবং কিছুক্ষণ পর পেয়েও যাই। এরপরই মুড ঠিক হয়ে যায়।
আরেকটা ঘটনা শেয়ার করি। বছর দুই–তিন আগে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রাত ১১টার ট্রেন ধরতে হবে। তখন মোহাম্মদপুরে থাকতাম। ঘড়িতে রাত সাড়ে ৯টা বাজে। বাস ধরলে সময়মতো হয়তো পৌঁছাতে পারব না। একটা বাইক নিলাম। বেশ কয়েক জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বাইকের পথ আটকে দেয় অটোরিকশা। এ নিয়ে বাইক রাইডার রিকশাচালকের সঙ্গে ঝগড়া করতে যাচ্ছিল, প্রতিবারই আমি ওনাকে সেটা থেকে বিরত রেখেছি। বলেছি, ‘ওদের সঙ্গে ঝগড়া করে কোনো লাভ নেই। উল্টো আপনার নিজেরই মেজাজ খারাপ হবে।’
প্রতিবারই এই বলে ওনাকে ঝগড়া করা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হই। কমলাপুর পৌঁছানোর পর বাইক রাইডার আমাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ভাই, এসব বিষয় দেখলে আপনার মেজাজ গরম হয় না? নিজেকে কীভাবে শান্ত রাখেন।’
জবাবে বলি, ‘রিকশাচালকদের সঙ্গে ঝগড়া করে তো আপনার কোনো লাভ হচ্ছে না। উল্টো আপনার মেজাজ খিটখিটে হবে। রাস্তার মানুষ তাকিয়ে থাকবে, কেউ কেউ বিরক্ত হবে। এর চেয়ে ভালো ইগনোর করা। কিছুক্ষণ পর ঘটনাটি এমনিতেই ভুলে যাবেন।’
দিন শেষে মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত ভালো থাকা। সেটা আপনি চাইলেই পারবেন। দরকার শুধু নিজের ইচ্ছাশক্তি ও পজিটিভ থাকার বাসনা।