বড় সিদ্ধান্ত কীভাবে নেবেন? সহজ উপায়

প্রতীকীছবি: এআই/বন্ধুসভা

আমরা প্রত্যেকেই জীবনের কোনো না কোনো সময় এমন অবস্থার সম্মুখীন হই, যখন বড় সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। হোক সেটা কর্মক্ষেত্র, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা ক্যারিয়ার নিয়ে। কেউ তাঁর বর্তমান চাকরি নিয়ে হতাশ; ছেড়ে দেবেন নাকি দেবেন না, এ নিয়ে চিন্তিত। কেউ তাঁর পার্টনারের সঙ্গে সুখী নন; দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্কে অস্বস্তি। এ অবস্থা থেকে বের হতে চেয়েও পারছেন না, সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।

চাকরি, সম্পর্ক, কিংবা পরিবারিক কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমাদের মনে অনেক আবেগ কাজ করে। বিভিন্ন দিক ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা এবং আশা করি, সিদ্ধান্তটি ঠিক হবে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলাতে নিচের সাতটি বিষয় কাজে লাগতে পারে।

১. নিজের মনের কথা শুনুন: নতুন চাকরির চেষ্টা করবেন, নাকি বর্তমান চাকরিতেই থাকবেন? সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসবেন, নাকি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন?

এ ক্ষেত্রে প্রথম অনুভূতিটি গুরুত্বপূর্ণ। মন আসলে কী চাইছে, সেটি বুঝতে চেষ্টা করুন। কারণ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নানা ধরনের ভালো-মন্দের হিসাব মাথায় ঘুরতে থাকে। নিজের স্বাভাবিক অনুভূতি সেই হিসাবের বাইরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখাতে পারে।

যদি আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেন বা আপনার এডিএইচডি থাকে; যার কারণে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়, তাহলে শুধু মনের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক না–ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে একটু থামুন, পরিস্থিতি থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখুন এবং যুক্তি দিয়ে বিষয়টি ভাবুন।

২. ঠিক কী পরিবর্তন করা দরকার, তা স্পষ্ট করুন: যদি চাকরি নিয়ে হতাশার কারণগুলো খুঁটিয়ে দেখেন; কিংবা বুঝতে চেষ্টা করেন কেন সম্পর্কটি শেষ হয়ে গেছে, তাহলে সমস্যাটি খুব সহজভাবে বলতে পারবেন।
সমস্যাটি কী—দশটি শব্দের মধ্যে বলতে পারলে কেমন হয়, তা ভেবে দেখুন।

আপনার বস, কিংবা আপনার পার্টনার যদি বুঝতে না পারেন যে আপনি আসলে কী চান; তাহলে সমস্যার সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তাঁরা শুধু অস্পষ্ট অভিযোগ শুনতে থাকেন।

সমস্যাটি স্পষ্টভাবে বোঝা শুধু সমাধানের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে নিজের জীবনে কী সবচেয়ে বেশি দরকার, কী নেই এবং ভবিষ্যতে কী চান, সেটিও বোঝা যায়। অর্থাৎ শুধু কোন পরিস্থিতি থেকে বের হতে চান, তা নয়; কোন দিকে এগোতে চান, সেটিও স্পষ্ট হয়।

৩. যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন কি না বুঝতে হবে: মূল বিষয় হলো নিজের সীমা বা ‘কতটা পর্যন্ত চেষ্টা করা সম্ভব’, তা বোঝা। কখন মনে হবে, ‘আর নয়, এবার পরিবর্তন দরকার’, সেটি জানাও গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগগুলো স্পষ্টভাবে বুঝুন: আপনি হয়তো নতুন চাকরিটি নিতে চান, কিন্তু নতুন কাজ শেখার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। আবার কেউ হয়তো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান; কিন্তু বেরিয়ে এলে যদি সমস্যার সমাধান না হয়, এ নিয়ে ভাবছেন।

এসব ভয় বা দুশ্চিন্তা এড়িয়ে না গিয়ে স্বীকার করা জরুরি। তাহলে আগে থেকেই সেগুলো মোকাবিলার পরিকল্পনা করা যায়। এ ক্ষেত্রে বসের সঙ্গে কাজের প্রত্যাশা ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে কথা বলতে পারেন। পার্টনারের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে কথা বলতে পারেন।

৫. সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কল্পনা করুন: এটিও মূলত আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়। ধরা যাক, কোনো কারণে কোম্পানি নতুন নিয়োগ বন্ধ করে দিল এবং নতুন চাকরিটি পেলেন না। অথবা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তে আপনার পার্টনার ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুললেন।

এমন পরিস্থিতিতে কী করা যায় এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে, তা আগেই ভেবে রাখা ভালো। এতে নিজেকে অসহায় বা আটকে পড়া মনে হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

আরও পড়ুন

৬. এ অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখলেন, তা বুঝুন: সিদ্ধান্তের পর কিছু শিক্ষা থেকে যাবে। ভবিষ্যতে সে শিক্ষা কাজে লাগানো যায়। তবে শিক্ষা নিতে গিয়ে বিষয়টিকে খুব সহজ করে দেখা ঠিক নয়।

৭. অন্যদের সঙ্গে কথা বলুন: বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় চিন্তাভাবনা করা এবং নিজে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শেষ সিদ্ধান্ত অবশ্যই আপনাকেই নিতে হবে। তবে এর অর্থ এ–ই নয় যে পুরো প্রক্রিয়াটি একা করতে হবে।

আপনার বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁদের কাছে নিজের চিন্তা তুলে ধরুন। তাঁরা আপনার কথা শুনতে পারেন, আপনার যুক্তির বিপরীত দিকটি দেখাতে পারেন কিংবা আপনি যা ভাবছেন, সেটি আরও পরিষ্কার করতে সাহায্য করতে পারেন। তাই বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজেকে একা করে ফেলবেন না।

সময়ের সঙ্গে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেতে পারে
ধরুন, দুই বছর পর আপনি আপনার নতুন চাকরিতে ভালো আছেন। তখন হয়তো মনে করবেন, চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি ঠিক ছিল। এমনকি মনে হতে পারে, আরও আগেই চাকরি পরিবর্তন করা উচিত ছিল।
আবার সম্পর্কের ক্ষেত্রে যিনি ছাড়াছাড়ির পর ভালো থাকেন, তিনিও হয়তো মনে করবেন, তাঁর সিদ্ধান্তটি ঠিক ছিল।

কিন্তু পরিস্থিতি অন্য রকমও হতে পারে। আপনি যদি নতুন চাকরিতে অসুখী হন, তাহলে মনে হতে পারে, খুব তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আবার সম্পর্কে বিচ্ছেদের পর মনে হতে পারে, সম্পর্কটি আরও কিছুদিন টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা উচিত ছিল।

আমরা বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে অতীতের সিদ্ধান্তগুলোকে বারবার নতুন করে বিচার করি। তাই সময়ের সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে। অনুভূতিও সব সময় একই থাকে না।
বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি যে পরিস্থিতিতে আছেন, সেই পরিস্থিতিতে নিজের পক্ষে যতটা সম্ভব ভালোভাবে ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে