ডানা না থাকলেও ওড়া যায়

ছবি: লেখকের সৌজন্যে

ম্যাসেঞ্জারে হঠাৎ একদিন একটি মেসেজ এল—
‘আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। কেমন আছেন? আপনি কি ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে ট্যুর করেন?’
একটু অবাক হলেও উত্তর দিলাম। সেখান থেকেই শুরু।

মেয়েটির নাম মুন। ভ্রমণ নিয়ে তার আগ্রহ, কিন্তু সাহস কম। পরিবারের বাঁধন, নিজের দ্বিধা—সব মিলিয়ে সে কখনো দূরে কোথাও যায়নি।

আর আমি ঠিক উল্টো। পাহাড়, নদী, সমুদ্র—সবই যেন আমার আপন। ছবি তুলতাম, টুকটাক লেখালেখি করতাম, ঘুরতাম। কিছুদিন কথাবার্তার পর মুন বলল, ‘আপনাদের পরের ট্যুরে কি আমি যেতে পারি?’

প্রথম ট্যুর ছিল বান্দরবানের ডিম পাহাড়। মেঘের ভেতর দিয়ে বাইক উঠছিল, আর মুন পেছনে বসে চুপচাপ তাকিয়ে মেঘ দেখছিল। হঠাৎ বলল, ‘মাঝেমধ্যে আমার মুক্ত হতে ইচ্ছা হয় আপনার মতো।’ হেসে বললাম, ‘মুক্তি জায়গায় নয়, মনে লাগে।’

আরও পড়ুন

দ্বিতীয় ট্যুরে গেলাম সেন্ট মার্টিন। ভোরের সমুদ্র দেখে মুনের চোখ ভিজে উঠল। সে বলল, ‘আমি যদি এভাবে মুক্ত ডানার শঙ্খচিল হতে পারতাম!’
বললাম, ‘তুমি উড়ছই তো, শুধু আগে বুঝতে পারোনি।’

তৃতীয়বার গেলাম পাহাড়ি ঝরনায়। পাথরের ওপর বসে পা ভিজিয়ে মুন বলল, ‘আপনার ঘোরাঘুরি দেখে আমার খুব ঈর্ষা হয়।’
আমি মাটিতে একটা দাগ টেনে বললাম, ‘এই দাগের এপাশে ভয়, ওপাশে গল্প। তুমি আজ ওপাশে।’

ফেরার পথে মুন বলল, ‘জানেন, আমি আগে ভাবতাম, জীবন মানে একই রুটিন। এখন মনে হয়, জীবন মানে পথ, মানুষ, আর সাহস।’
হালকা হেসে বললাম, ‘তাহলে তুমি এখন ট্যুরিস্ট নও—ট্রাভেলার।’

মুন আকাশের দিকে তাকাল। মেঘ ভাসছিল। তার মনে হলো—ডানা না থাকলেও ওড়া যায়।