২০২০ সালের ১৭ জুলাই…
তখন নতুন করে একটা খাবারের পেজ খুলেছি। স্বপ্ন ছিল নিজের জন্য কিছু করার। জানতাম না, সেই পেজই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসাটা এনে দেবে।
একদিন একটি অর্ডার এল—এক বক্স রসমালাই। অর্ডারটা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু মানুষটা ছিল অদ্ভুত শান্ত স্বভাবের।
সেদিন সে আমার বাসার নিচে রসমালাই নিতে এল। প্রথমবার যখন সামনে দাঁড়াল, জানি না কেন বুকটা কেঁপে উঠেছিল। কথা খুব বেশি হয়নি…। কিন্তু তার চোখের ভদ্রতা আর লাজুক হাসিটা মনে থেকে গিয়েছিল।
ধীরে ধীরে কথা শুরু হলো। চ্যাট, খোঁজ নেওয়া, ছোট ছোট গল্প—অচেনা মানুষটা কেমন করে যেন আপন হয়ে গেল। একদিন সে আমাকে ভালোবাসার কথা বলল। আমি ভয় পেয়েছিলাম। তাই তিন মাস সময় নিই। ভেবেছিলাম এটা হয়তো সাময়িক অনুভূতি।
কিন্তু সেই তিন মাসে বুঝে যাই, সে সত্যিই আমার জন্য অপেক্ষা করতে পারে। তার ‘আমি তোমাকে ছাড়া ভাবতে পারি না’ কথাটা আমার মন গলিয়ে দেয়। আমি হ্যাঁ বলে দিই। সেদিন থেকেই শুরু আমাদের পথচলা।
ঢাকা আর কুমিল্লার দূরত্ব, মানুষের কথা, পরিবারের আপত্তি— সবকিছু আমাদের পরীক্ষা নিয়েছে। অনেক রাত চুপচাপ কেঁদেছি। সে কখনো হাত ছাড়েনি। প্রতিবার বলেছে, ‘শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকেই চাই।’
আমাদের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আজও মনে পড়ে—শীতের বিকেলে এক কাপ চা হাতে তার পাশে বসা, অভিমানের পর হঠাৎ তার নরম কণ্ঠে বলা—‘রাগ কোরো না প্লিজ।’ আর সেই অনুভূতি, যখন বুঝেছি—এই মানুষটাই আমার ঘর। সাড়ে চার বছর লড়াই, ধৈর্য আর ভালোবাসার পর ২০২৫–এ এসে অবশেষে আমরা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলাম।
আজ সে শুধু আমার প্রথম প্রেম না—সে আমার স্বামী, আমার ভরসা, আমার শান্তি। প্রথম প্রেম নাকি সবার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত থাকে না। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ, প্রথম ভালোবাসাটাই আমার সারা জীবনের সঙ্গী হয়েছে। আমি তাকে স্বামী হিসেবে পেয়েছি।