সরল আনন্দ

শৈশব আমাদের সবার জীবনের সবচেয়ে রঙিন সময়। তখনকার ঈদ ছিল আরও রঙিন ও আনন্দময়। বড় হওয়ার পর শৈশবের ঈদকে আমরা খুঁজে ফিরি। বন্ধুসভার বন্ধুরা লিখেছেন শৈশবের সেই ঈদ নিয়ে।

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

ঈদ এখনো আসে, চাঁদ ওঠে, নতুন জামা কেনা হয়, ঘরে ঘরে রান্নার আয়োজনও থাকে। কিন্তু শৈশবের সেই ঈদের অপেক্ষা, উচ্ছ্বাস, সরল আনন্দ আর পারিবারিক উষ্ণতা, সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে স্মৃতির অ্যালবামে বন্দী হয়ে গেছে।

কোরবানির ঈদের আগেই স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হতো। পরীক্ষা শেষের স্বস্তি আর ঈদের আনন্দ মিলেমিশে তৈরি করত অন্য রকম অনুভূতি। তখন ঈদ হতো বছরের শেষ দিকে, আবহাওয়ায় থাকত হালকা শীতের ছোঁয়া। সকাল শুরু হতো গরম পানিতে গোসলের ব্যস্ততায়। এরপর নতুন জামা পরে সাজগোজের পালা। ছোট্ট মেয়েদের মাথাভর্তি ক্লিপ, ফিতা আর রঙিন ব্যান্ডে ফুটে উঠত ঈদের রং।

ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দগুলোর একটি ছিল সালামি। কাজিনদের মধ্যে চলত প্রতিযোগিতা—কে কত টাকা পেল। ঈদগাহ মাঠে যাওয়ার আনন্দও ছিল আলাদা। বড়দের সঙ্গে দল বেঁধে ঈদের নামাজে যাওয়া, ফেরার পথে মেলা কিংবা অস্থায়ী দোকান থেকে পছন্দের খেলনা বা খাবার কেনা—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে উঠত রোমাঞ্চকর।

নতুন জামার প্রতি ছিল অন্য রকম টান। বাবা ঈদের কয়েক দিন আগেই নতুন জামা কিনে আনতেন। সেই জামা লুকিয়ে রাখতাম, যেন ঈদের সকাল পর্যন্ত নতুনত্ব অটুট থাকে।

আরও পড়ুন

ঈদের আগের দিন থাকত মেহেদি উৎসব। বাড়ির ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে মেহেদিপাতা বেটে হাতে লাগাতাম। কার হাতের রং বেশি লাল হলো, কে বেশি সময় মেহেদি না ধুয়ে রাখতে পারল—এসব নিয়েও চলত আনন্দঘন প্রতিযোগিতা।

কোরবানির ঈদে নামাজের পর গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানে একসঙ্গে পশু কোরবানি দেওয়া হয়। শৈশবে দল বেঁধে দাঁড়িয়ে আমরা মাংস কাটা দেখতাম, কৌতূহলী চোখে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতাম।

ঈদের বিকেল মানেই ছিল নানাবাড়িতে যাওয়া। মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে রাতভর আড্ডা, গল্প আর দ্বিতীয় দফায় সালামি নেওয়ার আনন্দ ঈদকে করত পরিপূর্ণ।

সময়ের সঙ্গে জীবন বদলেছে। শহুরে ব্যস্ততা, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন আর ছোট হয়ে আসা পারিবারিক পরিসরে সেই পুরোনো ঈদের অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে। এখন ঈদ আসে, কিন্তু শৈশবের মতো করে আর হৃদয় ছুঁয়ে যায় না।

সাধারণ সম্পাদক, কুড়িগ্রাম বন্ধুসভা