কীভাবে একটি আইডিয়া হয়ে ওঠে সফল কনটেন্ট
প্রথম আলো বন্ধুসভা ও অল ব্রডকাস্টার্স কমিউনিটির (এবিসি) যৌথ উদ্যোগে অনলাইনে চলছে উপস্থাপনাবিষয়ক বিশেষ কর্মশালা। ‘প্রেজেন্টেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শিরোনামে কর্মশালার দ্বিতীয় সেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৬ সেপ্টেম্বর। এতে ‘ভ্লগিং ও উপস্থাপনা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বাপকা বেটার প্রতিষ্ঠাতা শুভাশিস ভৌমিক। এই লেখা তাঁর বক্তব্যের প্রতিলিপি। সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি।
আমার কাছে কনটেন্ট তৈরি হলো কোনো আইডিয়া, গল্প, তথ্য, অভিজ্ঞতা বা অনুভূতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। আপনি মানুষকে হাসাতে পারেন, সেটা এন্টারটেইনমেন্ট। শেখাতে পারেন, ইনফোটেইনমেন্ট। আপনার চিন্তা বা ভাষার মাধ্যমে কাউকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, সেটা মোটিভেশনাল কনটেন্ট। বাস্তব জীবনের সঙ্গে কোনো বিষয়কে রিলেট করাতে পারেন, সেটা লাইফস্টাইল কনটেন্ট।
আবার মানুষকে কোনো বিষয় অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে, কমেন্ট করতে বা কোনো অ্যাকশনে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। কোনো পণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ সেটি কিনে ফেললে সেটাও একধরনের মার্কেটিং কনটেন্ট।
অর্থাৎ কনটেন্ট আপনাকে কিছু অনুভব করায়, ভাবায় এবং কখনো কোনো অ্যাকশন নিতে বাধ্য করে। এটাই কনটেন্ট ক্রিয়েশন।
সংক্ষেপে বললে, কনটেন্ট হলো মনোযোগ আকর্ষণ + বিশ্বাস + ইনফ্লুয়েন্স + প্রভাব।
তবে শুধু মনোযোগ আকর্ষণ করলেই হবে না। মনোযোগ কখনোই বিশ্বাসে রূপান্তরিত হবে না, যদি আপনি পারসোনাল ব্র্যান্ডিং তৈরি করতে না পারেন। সেই জায়গাটা অর্জন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, আপনার কনটেন্ট দর্শকের মধ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।
কনটেন্ট তৈরির আগে সমস্যাটা বুঝুন
প্রতিটি কনটেন্ট তৈরির আগে প্রথমেই বুঝতে হবে সমস্যাটা কী। আপনি কোন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইছেন এবং দর্শক আসলে কোন সমস্যাটিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন, সেটা বুঝতে হবে। এরপর সেই সমস্যাকে কেন্দ্র করে কনসেপ্ট তৈরি করতে হবে।
তারপর আসে স্ক্রিপ্ট লেখা। সমস্যাটি কীভাবে আরও সহজভাবে বোঝানো যায়, কীভাবে গল্পের মতো করে উপস্থাপন করা যায়, সেটা ভাবতে হবে।
সবশেষে আসে এক্সিকিউশন। এক্সিকিউশনে নতুনত্ব কীভাবে আনা যায়, কোথায় গিয়ে শুট করব, কীভাবে কথা বলব, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করব, আমার পোশাক কী হবে, আমার পজিশন কী হবে—এসব নিয়েও কল্পনা করতে হবে।
কনটেন্ট আইডিয়া কোথা থেকে আসবে
কনটেন্টের আইডিয়া আসতে পারে মানুষের বাস্তব সমস্যা ও অভিজ্ঞতা থেকে। যেমন—
• মানুষের কোনো একটি সমস্যার সমাধান দিতে পারেন।
• মানুষ সাধারণত যে ভুলগুলো করে, সেগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন।
• দুটি বিষয়ের মধ্যে তুলনা করতে পারেন। এ ধরনের ভিডিও সব সময়ই জনপ্রিয় হয়।
• মানুষের কোনো ভুল ধারণা ভাঙতে পারেন।
• কোনো বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন।
• কাজের পর্দার পেছনের গল্প দেখাতে পারেন।
• কেস স্টাডি বা বাস্তব কোনো উদাহরণ বিশ্লেষণ করতে পারেন।
• কোনো বিষয় ধাপে ধাপে শেখাতে বা দেখাতে পারেন। মানুষ এ ধরনের কনটেন্ট খুব পছন্দ করে।
• চলমান ট্রেন্ড বা কোনো আলোচিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে সেটি যেন আপনার ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্টের সঙ্গে মানানসই হয়।
• কোনো বই পড়ে বা লেখা পড়ে কিছু শিখে থাকলে সেই শিক্ষাও শেয়ার করতে পারেন।
তবে ট্রেন্ড দেখেই হুট করে কোনো বিষয়ে কনটেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। ধরুন, একটি রাজনৈতিক বিষয় ট্রেন্ডে আছে। আপনি হুট করে সেই বিষয় নিয়ে কনটেন্ট শুরু করলেন। হয়তো সাময়িকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন। মনে হতে পারে, এটাই বুঝি আপনার নতুন জনরা। কিন্তু সেই জনরায় বিশ্বাস, ইনফ্লুয়েন্স ও প্রভাব তৈরি করতে হলে অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়। তাই ট্রেন্ডের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্টের সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
কনটেন্ট পিলার নির্ধারণ করুন
আমার মতে, কনটেন্টের চারটি পিলার হওয়া উচিত—
১. এডুকেট: নতুন কিছু শেখানো
২. ইন্সপায়ার: মানুষকে অনুপ্রাণিত করা
৩. এন্টারটেইনমেন্ট: বিনোদন দেওয়া
৪. প্রোডাক্ট/সার্ভিস: আপনার পণ্য বা সার্ভিসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
কনটেন্ট পিলার তৈরি করার আগে নিজেকে চারটি প্রশ্ন করতে হবে—
১. আমার অডিয়েন্স কী জানতে চায়?
২. আমি কোন বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানি?
৩. কোন বিষয়ের চাহিদা বেশি?
৪. আমার কনটেন্টের মাধ্যমে আমি কী অর্জন করতে চাই?
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার কনটেন্টের দিক নির্ধারণে সাহায্য করবে।
আপনার অডিয়েন্সকে বুঝুন
কনটেন্ট তৈরির আগে জানতে হবে, আপনি কার জন্য কনটেন্ট বানাচ্ছেন। আপনার প্রোফাইল কেমন? আপনাকে কারা দেখে? কোন বয়সী মানুষ আপনার কনটেন্ট দেখে? তারা কোন ধরনের কনসেপ্ট পছন্দ করে? কারা আসলে আপনার অডিয়েন্স, সেটা কি কখনো বিশ্লেষণ করেছেন?
বাংলাদেশে দেখবেন, বেশির ভাগ ফলোয়ার থাকে ১৮-২৪ বছর বয়সী। এই বয়সীরা বেশির ভাগ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো। আমার কনটেন্টের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফলোয়ার ২৫ বছরের বেশি বয়সী।
কোন বিভাগ ও কোন দেশ থেকে মানুষ আপনার কনটেন্ট দেখছে, কেন দেখছে, সেটাও বুঝতে হবে।
মানুষ কেন আপনার কনটেন্ট সেভ করবে
কোনো কনটেন্ট তৈরির আগে এটাও ভাবতে হবে, মানুষ কেন আপনার কনটেন্টটি সেভ করে রাখবে। মানুষ সাধারণত কোনো কনটেন্ট সেভ করে রাখে, যদি—
• পরে কাজে লাগবে মনে করে;
• কোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়;
• চেকলিস্ট দেওয়া থাকে;
• স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড থাকে;
• ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
সুতরাং কনটেন্ট তৈরির আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন মানুষ আমার কনটেন্টটা সেভ করে রাখবে? এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উপস্থাপনায় ব্যক্তিত্ব ও গল্পের সংযোগ
ব্যক্তিত্ব এবং গল্পের সংযোগ কীভাবে করাবেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই বিষয়টি প্রযোজ্য।
আপনি যা নন, সেটা যদি উপস্থাপন করতে যান, দর্শকেরা তার সঙ্গে কানেক্ট করতে পারবে না। আপনি ফেক হলে মানুষ কানেক্ট করবে না। হয়তো সামান্য সময়ের জন্য সুবিধা পেতে পারেন, কিন্তু সব সময় পারবেন না। আপনার শক্তির জায়গা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
আমার ও আমার ছেলের জার্নিটা শুরু হয়েছিল গান দিয়ে। এরপর বুঝতে চেষ্টা করেছিলাম, আমাদের শক্তির জায়গাটা কোথায়। আমার কাছে মনে হয়েছে, গান আমরা গাই ঠিকই, তবে সেটা আমাদের সবচেয়ে শক্তির জায়গা নয়।
ওইটা যখন বুঝতে পারলাম, তখন দেখলাম, আমার ছেলের শক্তির জায়গা লেখা। সে খুব ভালো লেখে। ওকে সেভাবেই গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি, যাতে ওর লেখার হাতটা ভালো হয়। ও স্কুল থেকেই গল্প লেখা শুরু করেছিল। আর আমার শক্তির জায়গা হচ্ছে সহজে গল্প বলা।
এভাবে নিজের শক্তির জায়গাটা বুঝে কনটেন্টের ধরন নির্ধারণ করা যায়।
একটি কনটেন্ট কীভাবে পরিকল্পনা করবেন
আমি যখন কনটেন্টটা স্ক্রিপ্ট করি, চিন্তা করি, তখন ১৪টি জিনিস মাথায় রাখি। সব সময় মাথায় রাখি, এই কনটেন্ট বানানোর আগে টপিকটা কী?
প্রতিটি কনটেন্ট বানানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করি—এই কনটেন্ট থেকে আমার দর্শকেরা নতুন কী পাবে? নতুন কোনো ভ্যালু পাবে কি না?
ভ্যালু দিতে গেলে একজন এক্সপার্টের ক্যামিও রাখা যেতে পারে। একজন কোচকে ভিডিওতে রাখতে পারেন। পাশাপাশি প্রথম তিন সেকেন্ডের অংশে কিছু মোশন রাখা যায়। কাট-শট ও অ্যাঙ্গেলও দর্শককে আটকে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিটি পয়েন্টের সময় কোনো না কোনো অঙ্গভঙ্গি বা অ্যাকটিভিটি করার চেষ্টা করা যায়।
বিজ্ঞাপন বা ব্র্যান্ড কনটেন্টেও বিশ্বাসযোগ্যতা জরুরি
আপনাদের প্রথমে যে ভিডিওটা দেখালাম, আমি কিন্তু শুরুতেই ব্র্যান্ডের নাম বলিনি। শুধু কনটেন্টের জন্য নয়, সত্যি সত্যিই আমি তার আগের ৩ মাসে ১০ কেজি ওজন কমিয়েছি।
পাশাপাশি আমি কিন্তু বলিনি যে আপনি ওই পণ্যটা কিনুন। কেবল বলেছি, যাচাই করে দেখতে পারেন। এটা ভালো অপশন হতে পারে। তার আগে আমি দেখিয়েছি, আন্তর্জাতিক রেফারেন্স কী। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলাম, সেটাও বলেছিলাম।
অর্থাৎ কোনো পণ্য বা সার্ভিস নিয়ে কথা বললেও নিজের অভিজ্ঞতা, তথ্য ও রেফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে।
সহজ ও শ্রোতাবান্ধব ভাষায় কথা বলুন
চেষ্টা করি, যতটা সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়। শ্রোতাবান্ধব ভাষায়। আমি মোটিভেশনাল বক্তব্য দিতে চাইনি। আমি আমার অনুভূতি শেয়ার করতে চেয়েছি।
কনটেন্টে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার জন্য ভাষা সহজ হওয়া জরুরি। আপনার বক্তব্য যেন দর্শকের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
গল্পকে কতভাবে বলা যায়
একটি গল্পকে কত ভিন্ন অ্যাঙ্গেল দিয়ে চিন্তা করে করা যায়, এটা মজার। একই বিষয়কে আপনি তথ্য হিসেবে বলতে পারেন, নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে বলতে পারেন, গল্পের মাধ্যমে বলতে পারেন, সমস্যা ও সমাধানের কাঠামোয় বলতে পারেন কিংবা বিনোদনের মাধ্যমে বলতে পারেন।
তাই শুধু বিষয় নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়। একটি বিষয়কে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে উপস্থাপন করবেন, সেটিও কনটেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট দেবেন
কনটেন্ট তৈরি করার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, কোন প্ল্যাটফর্মে সেটি প্রকাশ করবেন? ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, নাকি ইউটিউব?
এ নিয়ে অনেকে কনফিউজড হয়ে যায়। অনেকে মনে করে, সব প্ল্যাটফর্মের জন্যই কনটেন্ট বানাতে হবে। হয়তো করা উচিত। তবে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব ধরন ও দর্শক আছে।
যে ব্যক্তি ট্রাভেল কনটেন্ট বানায়, যার ভিডিওর দৈর্ঘ্য ও ধরন একরকম, তার জন্য হয়তো ইউটিউব পারফেক্ট।
আমি যেহেতু সমস্যা সমাধান, ব্যবসায়িক টপিক, জটিল কোনো বিষয় ও ইনফোটেইনমেন্ট নিয়ে কনটেন্ট বানাই, আমার কাছে মনে হয়েছে, এগুলোর জন্য ফেসবুক সঠিক প্ল্যাটফর্ম।
আমি ব্যক্তিগতভাবে ইনস্টাগ্রামে খুব একটা অ্যাকটিভ নই। ইউটিউবেও খুব একটা অ্যাকটিভ নই। তবে ফেসবুক পেজে একটা রিদম ফলো করে গেছি। কনটেন্ট প্রকাশে ধারাবাহিক থাকার চেষ্টা করেছি। মাসে ৭-৮টি কনটেন্ট প্রকাশ করে যাচ্ছি।
আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিটি কনটেন্টের জন্য ব্রিদিং স্পেস থাকা উচিত। কনটেন্ট মানুষের কাছে পৌঁছানোর পর সেটি উপলব্ধি করারও একটা ব্যাপার আছে।
একই কনটেন্ট সব প্ল্যাটফর্মে নয়
যেটা ফেসবুকের জন্য বানাবেন, সেটা কিন্তু লিংকডইনের জন্য নয়। ইউটিউবের জন্য যে ক্যাপশন লিখবেন, সেটা কিন্তু ফেসবুকের জন্য নয়। এগুলো জানতে হবে, ধাপে ধাপে শিখতে হবে।
ভিডিওর রেশিওটাও গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউবের জন্য যেটা বানাই—১৬:৯ রেশিও, সেটা ফেসবুকে দিলে সব সময় ভালো কাজ না–ও করতে পারে। আবার ফেসবুকের জন্য বানানো ৪:৫ রেশিওর কনটেন্ট ইউটিউবের জন্য উপযুক্ত নয়।
তবে ফেসবুকের জন্য বানালে সেটা ইনস্টাগ্রামে একই রকম দেওয়া যায়, টিকটকেও চালানো যায়।
আবার এখন ১:১ রেশিওর কনটেন্টও ট্রেন্ডি। এই রেশিওতে কনটেন্ট বানালে অনেক জায়গায় প্রকাশ করা সম্ভব।
সুতরাং শুরুতেই ভাবতে হবে, আমি আসলে কনটেন্টটা কীভাবে বানাব এবং কোথায় প্রকাশ করব?
কনটেন্ট প্রকাশের সময় ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ
কনটেন্ট প্রকাশ করার পর সেটার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখতে হবে—
• এক মিনিটের ভিউ কেমন হচ্ছে;
• তিন সেকেন্ডের ভিউ কেমন হচ্ছে;
• ওভারঅল ওয়াচটাইম কেমন;
• মানুষ রিলস বেশি দেখছে, নাকি স্টোরি;
• ফটো বেশি দেখছে কি না;
• থাম্বনেইলসহ ও থাম্বনেইল ছাড়া কোন ধরনের কনটেন্ট ভালো কাজ করছে।
এই অ্যানালাইসিস গুরুত্বপূর্ণ। কোন সময়ে মানুষ মূলত আপনার কনটেন্ট দেখছে, সেটাও বিশ্লেষণ করতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কখন পোস্ট করছেন। আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিক টাইম থাকে। তবে নিজের অডিয়েন্সের ডেটা বিশ্লেষণ করে সময় নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কনটেন্ট তৈরিতে কী ধরনের ডিভাইস লাগবে
আমার পরামর্শ থাকবে, শুরুটা স্মার্টফোন দিয়ে করা উচিত। পাশাপাশি ভালো মাইক্রোফোন গুরুত্বপূর্ণ। ইনডোরে শুট করলে লাইটিং গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ভালো একটি ট্রাইপড বা গিম্বল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ভালো কনটেন্ট শুরু হয় আইডিয়া দিয়ে, ইকুইপমেন্ট দিয়ে নয়।
কনটেন্ট থেকে কীভাবে আয় আসে
একটি কনটেন্ট একেকজনকে একেক জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। আমাকে এক জায়গায় নিয়ে গেছে। শুরু করেছিলাম একভাবে, এক থট প্রসেস নিয়ে; পরে চলে গেছি আরেক জায়গায়।
কনটেন্টের যাত্রাটা হতে পারে—
কনটেন্ট → মনোযোগ আকর্ষণ → বিশ্বাস → স্বীকৃতি → পারসোনাল ব্র্যান্ড → সুযোগ → আয়
অর্থাৎ সুযোগগুলো আপনাকে অনেকভাবে আয়ের উৎস এনে দিতে পারে। তাই আয়ের জন্য শুরুতেই দৌড়ানো যাবে না। প্রতিটি ধাপ পার হলে আয় আপনা–আপনিই আসা শুরু করবে। সব ধাপ পার হওয়ার পর আপনি বিভিন্নভাবে আয় করতে পারেন। যেমন—
• ব্র্যান্ড ডিল;
• অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং;
• কমিউনিটির সঙ্গে কাজ;
• ইভেন্টে কথা বলা;
• ওয়েবিনারে কথা বলা;
• পডকাস্টে অংশ নেওয়া;
• কনসালটিং;
• ডিজিটাল কোর্স;
• ওয়ার্কশপ;
• নিজের ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল পণ্য লঞ্চ;
• নিজের দক্ষতা অনুযায়ী সার্ভিস বা সেবা দেওয়া।
অর্থাৎ কনটেন্ট নিজেই শুধু আয়ের মাধ্যম নয়; ভালো কনটেন্ট থেকে তৈরি হওয়া বিশ্বাস, পরিচিতি ও সুযোগও আয়ের বিভিন্ন পথ তৈরি করতে পারে।