যেখানে বন্ধুত্বই শক্তি

সিলেট বন্ধুসভার জন্যও আয়োজনটি ছিল স্মরণীয়।

গত ২৫ ডিসেম্বর সকালে যখন মৌচাক জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণকেন্দ্র মাঠে পৌঁছাই, চারদিক কুয়াশার চাদরে ঢাকা। আকাশ থেকে নামছিল শিশিরবৃষ্টি, এক অপার্থিব স্নিগ্ধতা। সেই স্নিগ্ধতার বুকে ধ্বনিত হলো ‘আমরা সবাই বাংলাদেশ’ স্লোগান। এই স্লোগান আমাদের বিশ্বাসের উচ্চারণ, দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। সমাবেশে আমরা বন্ধুরা ভিন্ন ভিন্ন জেলা, ভিন্ন পরিচয় থেকে এলেও আমাদের হৃদয়ের ঠিকানা একটাই—বাংলাদেশ।

পরদিন সকালে জাতীয় সংগীতের সুরে পতাকা উত্তোলনের মুহূর্তটি যেন সময়কে থমকে দিয়েছিল। লাল-সবুজের জাতীয় পতাকার পাশে প্রথম আলো বন্ধুসভার পতাকা যখন একসঙ্গে আকাশে ওড়ে, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক মানবিক, আলোকিত বাংলাদেশের স্বপ্ন।

আরও পড়ুন

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১ হজার ২০০ বন্ধুর একত্র হওয়া অনবদ্য মুহূর্ত তৈরি করে। পায়রা আর বেলুন ওড়ানোর সময় কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ যেন হঠাৎ করেই প্রাণ ফিরে পেল। বন্ধুসভার আবহসংগীত মনে করিয়ে দিল, আমরা সবাই একই সুরে বাঁধা, একই স্বপ্নে হাঁটছি।

তারপর ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদ, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের যাঁরা শহীদ হয়েছেন এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এই মুহূর্তটায় বেদনা, গর্ব আর দায়বদ্ধতা একসঙ্গে বুকের ভেতর চেপে বসেছিল। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার দায়িত্ব যে নিঃশব্দে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে।

মৌচাক থেকে ফিরেছি আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে, গভীর দায়িত্ব নিয়ে, দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে।

ব্যক্তিগত আনন্দের মুহূর্তও কম ছিল না। সমাবেশ নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। আলোচনা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, মানবিক উদ্যোগের গল্প—সবকিছু মিলিয়ে বুঝেছি, বন্ধুসভা মানে দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নিঃশব্দে সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবিচলভাবে কাজ করে যাওয়া।

সিলেট বন্ধুসভার জন্যও আয়োজনটি ছিল স্মরণীয়। ‘বৃক্ষরোপণ’, ‘সহমর্মিতার ঈদ’ এবং ‘বর্ষসেরা’ তিন ক্যাটাগরিতে সেরা ১০ বন্ধুসভার স্বীকৃতি পাওয়া; এই অর্জন আমাদের বন্ধুদের।

মৌচাক থেকে ফিরেছি আরও বড় স্বপ্ন নিয়ে, গভীর দায়িত্ব নিয়ে, দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে; যা আগামী সময়ে ইতিবাচক সব কর্মে জোগাবে প্রেরণা।

প্রশিক্ষণ সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা