শৈশবের রঙিন ঈদ
দিনগুলোকে খুঁজি
শৈশব আমাদের সবার জীবনের সবচেয়ে রঙিন সময়। তখনকার ঈদ ছিল আরও রঙিন ও আনন্দময়। বড় হওয়ার পর শৈশবের ঈদকে আমরা খুঁজে ফিরি। বন্ধুসভার বন্ধুরা লিখেছেন শৈশবের সেই ঈদ নিয়ে।
ঈদের আগের রাত ছিল অন্য রকম প্রশান্তির। আমি আর আমার বোন মেহেদি দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকতাম আর ভাবতাম, কার মেহেদির রং গাঢ় হবে। তারপর আমি আমার পছন্দের লালুর (ছাগল) গায়ে মেহেদি দিতাম। আম্মু রাতে পিঠাপুলি আর সকালে সেমাই, পায়েস বানাত। সবচেয়ে প্রতীক্ষিত দিন ছিল এটি। সকাল হলে নতুন জামা পরব, আর ঈদগাহে অনেক মজা করব—এ ভাবনায় রাত পার হয়ে যেত।
খুব ভোরে উঠে গোসল করে নতুন জামা পরে আম্মুর কাছে সেজে আব্বু, দাদু, চাচ্চু, ভাইয়ার সঙ্গে ঈদগাহে যেতাম নামাজ পড়তে। ওখানে গিয়ে নতুন নতুন বন্ধু পেতাম। সবাইকে ঈদ মোবারক বলতাম। আব্বুদের নামাজ শেষে কোলাকুলির পর সবাইকে সালাম দিতাম সালামি নেওয়ার জন্য। সেই সালামি দিয়ে পছন্দের বেলুন, বাঁশি কিনতাম আর আম্মু ও দাদির জন্য মিষ্টি, জিলাপি, মুড়িমুড়কি নিতাম।
রাস্তায় মাঝেমধ্যে বাঁশি বাজাতে বাজাতে আসতাম। বাসায় এসে লালুকে (ছাগল) যেন কোরবানি না দেয়, তার জন্য কান্না শুরু করতাম। সারা দিন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতাম।
সেই দিনগুলো ছিল আনন্দে ভরা এক অন্য রকম জীবনের প্রাপ্তি। আজ শত ব্যস্ততার ভিড়ে সেই দিনগুলোকে খুঁজে পাই ছোটদের মধ্যে।
প্রশিক্ষণ সম্পাদক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা