গুরুর আশ্বাসের হাত ভাবশিষ্যের পিঠে

কবি ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের হাত থেকে সম্মাননা নেওয়ার মুহূর্তে।

দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী অনলাইনভিত্তিক লেখালেখি কর্মশালা শেষে মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত লেখকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৬’। গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রাণের উৎসব। উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশ থেকে আসা তরুণ লেখকদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দে এর শুভসূচনা হয়।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সৌমেন্দ্র গোস্বামী ‘আজি এ প্রভাতে রবির কর...’ পঙ্‌ক্তির মধ্য দিয়ে যেন সোনালি সকালের এক স্মৃতিময় দিনের দ্বার উন্মোচন করেন।

লেখালেখি কর্মশালায় দেশ-বিদেশ থেকে অংশ নেন প্রায় ৩০০ লেখক বন্ধু। অনলাইনে গল্প, কবিতা, অনুবাদ, সংবাদ ও ফিচার বিষয়ে চারটি কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কর্মশালা শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত তরুণ লেখকেরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পান লেখক বন্ধু উৎসবে। তাঁদের মধ্য থেকে বন্ধুসভার ওয়েবসাইটে এবং স্বতন্ত্রভাবে লেখার জন্য পাঁচজনকে ‘সেরা লেখক বন্ধু’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। সেরাদের একজন হতে পেরে আমি আনন্দিত।

সাহিত্যের বিস্তীর্ণ উঠানে নবীন শিশু হিসেবে কেবল হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। লেখালেখির শুরুতে কখনোই ‘সেরা পাঁচ’ কিংবা সেরা তরুণ লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখিনি; বরং সাহিত্যের প্রতি প্রবল অনুরাগ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে ভর্তি হয়েছি। সেই অনুরাগই ধীরে ধীরে আমাকে লেখালেখির পথে টেনে এনেছে; আর এই পথ চলতে চলতেই পেয়েছি কিছু মানুষের স্নেহ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা।

লেখালেখির শুরুর দিকে গল্পের কলাকৌশল শেখার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠিত লেখকের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে প্রথম আলো বন্ধুসভার সুবাদে অনলাইন ও অফলাইনে পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক স্যারের বহু সেশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কীভাবে একটি কাহিনি গল্প হয়ে ওঠে, কীভাবে গল্পের ভেতর জীবন ও মানুষকে ধারণ করতে হয়—এসব বিষয় ধীরে ধীরে শিখতে শুরু করেছি তাঁর কাছ থেকেই। তাঁর প্রতিটি নির্দেশনা ধম্মপদের কোটেশনের মতোই হৃদয়ে ধারণ করেছি।

আরও পড়ুন

বাংলা সাহিত্যের জীবিত লেখকদের মধ্যে আনিসুল হক আমার প্রিয় কথাসাহিত্যিকদের একজন। সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে তাঁর দিকনির্দেশনা আমার লেখালেখির ভুবনে দীর্ঘমেয়াদি ও সাড়াজাগানিয়া প্রভাব ফেলবে—এমনটাই প্রত্যাশা করি। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া এ শিক্ষা হয়তো আমার লেখকজীবনের পথচলায় বহুদিন আলোর মতো সঙ্গে থাকবে।

এই পথচলায় প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘সেরা লেখক বন্ধু’র স্বীকৃতি আমার কাছে নিছক কোনো অর্জন নয়; বরং সাহিত্যচর্চায় আরও মনোযোগী, নিষ্ঠাবান ও দায়বদ্ধ হওয়ার এক গভীর অনুপ্রেরণা। এই স্বীকৃতি আমাকে সাহিত্যের বিস্তীর্ণ উঠানে আরও কয়েক পা এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেবে। হয়তো পথটি দীর্ঘ, হয়তো সামনে আরও অনেক শেখার বাকি—তবু এই স্বীকৃতি সেই পথের প্রতি আমার আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।

বন্ধুসভার একজন নিবেদিতপ্রাণ লেখক হিসেবে ভবিষ্যতে আরও পরিণত, জীবনঘনিষ্ঠ ও সমৃদ্ধ সাহিত্য সৃষ্টি করতে চাই। মানুষের মনস্তত্ত্ব, যাপিত জীবনের আবেগ এবং গ্রামীণ ও নাগরিক জীবনের বাস্তব রূপ আমার লেখায় আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে চাই। সেরার স্বীকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে সাহিত্যের বিস্তীর্ণ উঠানে আরও দূরে এগিয়ে যাওয়াই এখন আমার স্বপ্ন।

অংশগ্রহণকারী, লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৬