সাইক্লিং বাঁচাবে সময় ও অর্থ

স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে প্রিয় বাহন হতে পারে বাইসাইকেলছবি: এআই/বন্ধুসভা

ইরান যুদ্ধের ফলে কয়েক মাস ধরে পৃথিবীজুড়ে জ্বালানিসংকট। জ্বালানি পাম্পে ভিড় লেগেই থাকছে। রাস্তায় নামতে যানবাহনগুলোর যে পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন, তা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক পাম্পের মালিক। এমন সময়ে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে প্রিয় বাহন হতে পারে বাইসাইকেল। সাইক্লিং বাঁচাতে পারে সময় ও অর্থ।

যানজট নিরসনে সাইক্লিং: যানজট নিরসনে সাইক্লিং হতে পারে অসাধারণ একটি মাধ্যম। শহরে যানজট থেকে বাঁচতে সাইকেল আপনার বিপদের বন্ধু। কম জায়গা লাগে বিধায় সাইকেলের যানজট লাগার চান্স শূন্যের কোঠায়। বিশেষ করে রাজধানী কিংবা বড় শহরে যে পরিমাণ যানজট লেগে থাকে, সেখানে সাইকেলের ব্যবহারে এ সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।

পরিবেশদূষণ রোধ: সাইকেল চালাতে লাগে না তেল, মবিল; প্রয়োজন শুধু কায়িক শ্রমের। দুই চাকার সাইকেল প্যাডেল চাপলেই দৌড়ায়। কোনো জ্বালানির প্রয়োজন নেই, বিধায় পরিবেশও দূষিত হয় না। মাইলের পর মাইল চালালেও পরিবেশের বিন্দুমাত্র ক্ষতি তো হয়ই না, বরং পরিবেশের সঙ্গে খাপে খাপ মিলে যায়।

শারীরিক স্বাস্থ্য থাকে ভালো: শরীর, স্বাস্থ্য মনকে যদি চাঙা রাখতে চান, তবে সাইক্লিংয়ের বিকল্প নেই। সাইকেল চালানোর মাধ্যমে শারীরিক ব্যায়াম হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য পরিমিত সাইক্লিং শরীর ও মনকে তাজা রাখে।

বাঁচবে সময় ও অর্থ: সময় ও অর্থ বাঁচাতে সাইক্লিং হয়ে উঠতে পারে আশীর্বাদ। স্বল্প দূরত্বের রাস্তা কিংবা অর্থের অপচয় ঠেকাতে সাইক্লিং হতে পারে বিকল্প যানবাহন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে দাঁড়িয়ে না থেকে ফাঁকফোকর দিয়ে কেটেকুটে বের হয়ে সঠিক সময় গন্তব্যে যেতে সাইকেল অপরিহার্য। আপনি যদি চাকরিজীবী কিংবা ব্যবসায়ী হোন, তবে টাইম ম্যানেজম্যান্টের ওপর গুরুত্ব দিতে চাইলে সাইকেল ব্যবহারে ফিরতে হবে।

আরও পড়ুন

সহজলভ্য: সাইকেল খুব সহজেই কম বাজেটে আপনি কিনে নিতে পারেন। কেনার ক্ষেত্রে আপনাকে গুনতে হবে না কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। দশ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকার মধ্যে কিনতে পারেন আপনার শখের সাইকেল। লাগবে না লাইসেন্স। স্বল্প খরচে পাওয়া যায় বলে ধনী, গরিব সবাই চাইলেই কিনতে পারে।

যেসব রোগ থেকে মুক্তি মিলবে: সাইকেল চালানো হার্টকে শক্তিশালী করে। হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। এটি শরীরে ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়ায়। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। শরীরের ক্যালরি বার্ন হয়। ফলে স্থূলতা কমে। মস্তিষ্কে হরমোন তৈরি করে। হাঁটু ও পায়ের পেশি শক্ত হয়। শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা বাড়ে।

সাইকেল চালানো ভালো বলে যে সারাক্ষণ কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে সাইকেল নিয়ে পরে থাকবেন এমনটা নয়। নিয়ম করে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সাইকেল চালান। খালি পেটে না চালানোই ভালো। ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নিন।

সাবেক সভাপতি, চাঁদপুর বন্ধুসভা