মামলার নথিতে লেখা শব্দের মানে জানেন কি

প্রতীকী ছবি

মামলা-মোকদ্দমার কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আদালত, আইনজীবী, বাদী-বিবাদী, সাক্ষী, শুনানি কিংবা রায়ের মতো নানা শব্দ। এসব শব্দ আদালতপাড়ায় খুব পরিচিত হলেও সাধারণ মানুষের কাছে অনেক সময় দুর্বোধ্য মনে হয়। কেউ জমি নিয়ে বিরোধে আদালতে গেছেন, কেউ আবার ফৌজদারি মামলায় আসামি বা সাক্ষী হয়েছেন। কিন্তু মামলার নথিতে ব্যবহৃত অনেক শব্দের অর্থ না জানায় পুরো প্রক্রিয়াটিই তাঁর কাছে জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আইনজীবীদের ব্যবহৃত সব আইনি পরিভাষা বোঝা সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি নয়। তবে মামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত কয়েকটি মৌলিক শব্দের অর্থ জানা থাকলে আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় ব্যবহৃত এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সহজ ভাষায় দেখে নেওয়া যাক।

কোনো ব্যক্তি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা বা প্রতিকার পাওয়ার জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা করলে তাঁকে সাধারণভাবে বলা হয় বাদী। যাঁর বিরুদ্ধে সেই মামলা করা হয়, তিনি বিবাদী। দেওয়ানি মামলা সাধারণত আর্জি দাখিলের মাধ্যমে শুরু হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ২৬ ধারায় আরজি উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলা দায়েরের বিধান রয়েছে।

বাদী আদালতের কাছে কী দাবি করছেন, কী ঘটনা ঘটেছে এবং তিনি কী ধরনের প্রতিকার চান—এসব বিষয় আরজিতে তুলে ধরেন। অন্যদিকে বিবাদী বাদীর দাবির জবাবে নিজের বক্তব্য ও প্রতিরক্ষার বিষয়গুলো লিখিতভাবে আদালতে দাখিল করেন। এটিকে বলা হয় লিখিত জবাব।

মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য যে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ বা নোটিশ দেওয়া হয়, তাকে সমন বলা হয়। মামলার ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী আদালত আসামি, পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হাজির করার জন্য সমন জারি করতে পারেন। তলব শব্দটি সাধারণ অর্থে কাউকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য ডাকার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে কোনো সাক্ষী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার জন্য তলব করা হতে পারে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৪ ধারায় পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট আসামির উপস্থিতির জন্য সমন বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওয়ারেন্ট জারি করতে পারেন।
তাই আদালত থেকে কোনো সমন, নোটিশ বা তলব হাতে এলে সেটিকে অবহেলা না করে এর বিষয়বস্তু বুঝে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মামলার কোনো বিষয়ে আদালতের সামনে পক্ষগুলোর বক্তব্য, আবেদন ও আইনগত যুক্তি উপস্থাপনের প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে শুনানি বলা হয়। মামলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে যিনি জানেন এবং আদালতে সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দেন, তিনি সাক্ষী। সাক্ষীর বক্তব্য আদালতের সামনে কীভাবে ও কোন পর্যায়ে গ্রহণ করা হবে, তার নির্দিষ্ট আইনগত নিয়ম রয়েছে। আদালতে কোনো ব্যক্তি বা সাক্ষীর দেওয়া আনুষ্ঠানিক বক্তব্যকে সাধারণভাবে জবানবন্দি বলা হয়। তবে কোন ধরনের জবানবন্দি, কখন ও কোন আইনি বিধানের অধীনে তা নেওয়া হয়েছে, তার ওপর এর আইনগত গুরুত্ব নির্ভর করে।

আরও পড়ুন

আদালতে কোনো দাবি বা বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে শুধু মুখে কথা বলাই যথেষ্ট নয়। মামলার ধরন অনুযায়ী সাক্ষ্য, দলিল, নথি, ছবি, ডিজিটাল রেকর্ড বা আইনসম্মত অন্যান্য উপাদান আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হতে পারে। এসব উপাদানকে সাধারণভাবে প্রমাণ বলা হয়। তবে কোনো কাগজপত্র আদালতে জমা দেওয়া হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয়ে যায় না। সেটি কীভাবে উপস্থাপন ও গ্রহণ করা হবে, তা প্রযোজ্য আইন ও সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিধানের ওপর নির্ভর করে। সাক্ষ্য আইনে দলিলের প্রাথমিক ও গৌণ প্রমাণের বিষয়েও পৃথক বিধান রয়েছে।

জমি নিয়ে বিরোধে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় স্বত্ব ও দখল। সহজ ভাষায় কোনো জমি বা সম্পত্তির ওপর কার আইনগত অধিকার রয়েছে, সেটি স্বত্বের বিষয়। অপর দিকে কোনো সম্পত্তি বাস্তবে কে ব্যবহার বা নিয়ন্ত্রণ করছেন, সেটি দখলের বিষয়। দুটিকে একই মনে করা ঠিক নয়। কারও স্বত্ব থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তাঁর দখল না–ও থাকতে পারে। আবার কেউ কোনো সম্পত্তি দখলে রাখলেও তার আইনগত স্বত্ব অন্য ব্যক্তির হতে পারে। এ কারণেই জমিসংক্রান্ত মামলায় স্বত্ব ও দখলের প্রশ্ন আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একাধিক ব্যক্তির যৌথ মালিকানাধীন বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি তাঁদের আইনগত অংশ অনুযায়ী ভাগ করে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে বাঁটোয়ারা বলা হয়। যেমন তিন ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন একটি জমি থাকলে প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণের পর সেই যৌথ সম্পত্তি আলাদা অংশে ভাগ করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের বিরোধে বাঁটোয়ারার মামলা হতে পারে।

কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে কাউকে বিরত রাখা বা কোনো বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়ার আদালতের আদেশকে সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা বলা হয়। মামলা চলাকালে কোনো সম্পত্তি বিক্রি, দখল পরিবর্তন বা অন্য কোনো কার্যক্রমের কারণে কোনো পক্ষের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আদালত আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন। দেওয়ানি কার্যবিধির অধীন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা সাধারণত মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। মামলা চলাকালে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা অধিকার সুরক্ষার জন্য দেওয়া একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা।

দেওয়ানি মামলায় রায় ও ডিক্রি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। বিচার শেষে আদালত কোনো সিদ্ধান্তে কেন পৌঁছেছেন, তার কারণ ও সিদ্ধান্ত রায়ে প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে পক্ষগুলোর অধিকার বিষয়ে আদালতের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত নির্ধারণকে ডিক্রি বলা হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ২ ধারায় ডিক্রির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে বলা হয়েছে, ডিক্রি প্রাথমিক বা চূড়ান্ত হতে পারে। তাই রায় ও ডিক্রিকে একই অর্থে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
নিম্ন আদালতের কোনো রায়, ডিক্রি বা নির্দিষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী উচ্চতর আদালতে প্রতিকার চাওয়ার প্রক্রিয়াকে আপিল বলা হয়। তবে প্রত্যেক আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না; সংশ্লিষ্ট আইনে আপিলের সুযোগ থাকতে হয়। অন্যদিকে মামলা বা আবেদন কোনো নির্দিষ্ট আইনগত কারণে আদালত গ্রহণ না করলে বা বাতিল করলে সাধারণভাবে বলা হয় সেটি খারিজ হয়েছে। তবে কোন আইনি বিধানের অধীনে এবং কী কারণে মামলা বা আবেদন খারিজ হয়েছে, তার ওপর এর ফলাফল নির্ভর করে।

দেওয়ানি মামলায় আদালত ডিক্রি দিলেই সব সময় বাস্তবে তার ফল পাওয়া যায় না। ডিক্রিতে যা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হলে ডিক্রি জারির প্রক্রিয়ায় যেতে হয়। দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে, ডিক্রি প্রদানকারী আদালত অথবা যে আদালতে ডিক্রি বাস্তবায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে, সেই আদালতের মাধ্যমে ডিক্রি কার্যকর করা যেতে পারে। অর্থাৎ আদালতের সিদ্ধান্তকে আইনগত প্রক্রিয়ায় বাস্তবে কার্যকর করাই ডিক্রি জারির মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন

ফৌজদারি মামলায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত শব্দগুলোর একটি রিমান্ড। তবে রিমান্ডকে শুধু ‘আসামিকে পুলিশের কাছে দেওয়া’ হিসেবে বোঝা ঠিক নয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করা সম্ভব না হলে এবং অভিযোগ বা তথ্যের ভিত্তি থাকার কারণ থাকলে তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় হেফাজতের আদেশ দিতে পারেন। ২০২৫ সালের সংশোধনের পর ধারা ১৬৭(২)-এ কোনো নির্দিষ্ট মামলায় পুলিশ হেফাজতের মোট সময় ১৫ দিনের বেশি না হওয়ার বিধান রয়েছে। এরপর আরও হেফাজতের প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী বিচারিক হেফাজতের আদেশ দেওয়া যেতে পারে। পুলিশ হেফাজতের আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে কারণও লিপিবদ্ধ করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রিমান্ড কোনো শাস্তি নয়। কোনো আদালত হেফাজতের আদেশ দিয়েছেন এমন তথ্যের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন। অপরাধের অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়।

ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে জিআর ও সিআর শব্দ দুটি আদালতের প্রচলিত ব্যবহারে প্রায়ই শোনা যায়। থানায় কোনো অপরাধের সংবাদ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী এজাহার বা এএফআইআর রেকর্ড হতে পারে এবং আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্ত করতে পারে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারে। আদালতের প্রচলিত ব্যবহারে পুলিশের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ ধরনের মামলাকে সাধারণত জিআর মামলা বলা হয়। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ বা নালিশ দায়ের করলে সেটি কমপ্লেইন্ট কেস হিসেবে শুরু হতে পারে এবং প্রচলিতভাবে এ ধরনের মামলাকে সিআর মামলা বলা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় অভিযোগের ভিত্তিতে আমলে নেওয়া মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারী ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উপস্থিত সাক্ষীদের শপথের অধীনে পরীক্ষা করতে পারেন। এরপর ২০২ ধারায় প্রয়োজন হলে অনুসন্ধান বা তদন্তের ব্যবস্থা করা যায়। পর্যাপ্ত ভিত্তি না থাকলে ২০৩ ধারায় অভিযোগ খারিজ করা যেতে পারে এবং কার্যক্রম চালানোর মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকলে ২০৪ ধারায় প্রক্রিয়া জারি করা যেতে পারে।

‘ধারা ১৪৪ জারি হয়েছে’ এ কথা আমরা প্রায়ই শুনি। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৪৪ মূলত জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়। কোনো এলাকায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ বা দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন হলে এবং মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য বিপদ, জনশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা, দাঙ্গা বা সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট লিখিত আদেশ দিতে পারেন। সেই আদেশে কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা বা তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সম্পত্তি সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। তবে ধারা ১৪৪ মানেই সব ক্ষেত্রে ‘চারজনের বেশি মানুষ একত্র হতে পারবে না’ এমন ধারণা সঠিক নয়। কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকবে তা সংশ্লিষ্ট আদেশের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে। ধারা ১৪৪-এর উদ্দেশ্য মূলত শাস্তি দেওয়া নয়, সম্ভাব্য বিপদ, জনশান্তির বিঘ্ন বা সংঘর্ষ প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। আইনে এ ধরনের আদেশের মেয়াদ সম্পর্কেও বিধান রয়েছে।

মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হলো বিষয়টি দেওয়ানি, নাকি ফৌজদারি? যেখানে মূল বিরোধ কোনো ব্যক্তির অধিকার, স্বত্ব, দখল, সম্পত্তির বণ্টন, চুক্তি বা পাওনা নিয়ে, সেখানে সাধারণত দেওয়ানি প্রতিকারের প্রশ্ন আসে। দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারায় দেওয়ানি প্রকৃতির মামলা আদালতে বিচার করার সাধারণ এখতিয়ার স্বীকার করা হয়েছে, যদি কোনো আইনে তা স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে নিষিদ্ধ না থাকে। অন্যদিকে কোনো আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকলে ফৌজদারি কার্যক্রম হতে পারে।

ধরা যাক, দুই ব্যক্তির মধ্যে একটি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে। এটি মূলত স্বত্ব বা অধিকারসংক্রান্ত দেওয়ানি বিরোধ হতে পারে। কিন্তু সেই বিরোধের সময় যদি মারামারি, ভাঙচুর, হুমকি, জালিয়াতি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ ওঠে, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী একই ঘটনার সঙ্গে ফৌজদারি বিষয়ও যুক্ত হতে পারে। তাই শুধু ‘জমির মামলা’ বা ‘বিরোধের মামলা’ বলেই সেটি দেওয়ানি কিংবা ফৌজদারি এভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। ঘটনার প্রকৃতি, দাবি ও প্রযোজ্য আইন দেখতে হয়।

আইনের ভাষা যতই কঠিন মনে হোক, তার পেছনে থাকে নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া। সেই নিয়মগুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকলে আদালত-সংক্রান্ত অনেক বিষয়ই সাধারণ মানুষের কাছে সহজ হয়ে ওঠে। তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলা, জমি, রিমান্ড, চেক, আপিল বা অন্য কোনো আইনগত বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রযোজ্য আইন দেখে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: আইনকোষ (বই) এবং লজ অব বাংলাদেশ

সাবেক সভাপতি, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা