চিঠিটা খুলে বসলাম জ্বলন্ত লাল আগুনের আভায়

চিঠি আমার ভীষণ প্রিয়।

সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ের নিচে পানির স্রোতের বিপরীতে ভেসে চলেছে কুয়াশারা, যেন মনে হচ্ছে এই নিশিরাতে একরাশ মেঘ মাটিতে পাড়ি জমিয়েছে একটা কিছুর আভাস পেয়ে। তখন তাঁবুতে  নিশীথের কনকনে শীতে বসে ভাবছি, ঢাকাতে বাসে ওঠার সময় সে হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে বলেছিল, ‘ট্যুরের যে সময়টা তোমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর মনে হবে, তখন চিঠিটা পোড়ো, তার আগে চিঠিটা খুলবে না যেন।’

পেছনে ফেলে আসা সুউচ্চ পাহাড়, কাপ্তাইয়ের পানিতে ভেসে বেড়ানো কুয়াশা, তাঁবুতে একা আমি, সামনে শুকনা কাঠের জ্বলন্ত আগুন—এর চেয়ে সুন্দর সময় বোধ হয় আর হয় না! চিঠিটা খুলে বসলাম জ্বলন্ত লাল আগুনের আভায়। মিটমিটে কমে যাওয়া, বেড়ে যাওয়া লাল আগুনে আভায় পড়ে ফেললাম চিঠির, সব কটা কালো কালিতে লেখা শব্দ। চিঠি শেষে একটি দীর্ঘশ্বাসে সব দুঃখ–বেদনা রেখে এসেছি সেই পাহাড়দের কাছে।
এভাবেই কাপ্তাইয়ের বুকে সাক্ষী হয়েছিল তার দেওয়া প্রথম চিঠি।

আরও পড়ুন

চিঠি আমার ভীষণ প্রিয়। একটি লাল গোলাপের সঙ্গে একখানা চিঠি। তাড়াহুড়া করেই কার্জন হলের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সিঁড়িতে বসেই খুলে ফেললাম তার দেওয়া দ্বিতীয় চিঠি। সে বলল, ‘এই চিঠি লিখতে গিয়ে যে আমি কতগুলো পৃষ্ঠা নষ্ট করেছি। বাংলা লেখার চর্চা না থাকার কারণে তোমাকে চিঠি লিখতে ভয় লাগে।’
সেদিন মনে হচ্ছিল গণিতে পড়া শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষার চর্চা বাধ্যতামূলক করা হোক শুধু প্রেমিকাদের চিঠি লেখার জন্য।

আজকাল সে একই বাহানায় আর চিঠি লেখে না। আমি আজও অপেক্ষায় থাকি তার তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, অথবা শখানেক চিঠির আশায়।