জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যৎ নয়, আমরা এর মধ্যেই বসবাস করছি
বদলে যাচ্ছে ঋতু, জীবিকা ও মানুষের জীবন—জলবায়ু সংকট এখন আর দূরের কোনো আশঙ্কা নয়।
কয়রার এক কৃষক এবার ধান বুনতে পারেননি। জমির মাটিতে লবণাক্ততা এত বেড়ে গেছে যে বীজ গজায়নি। পাশের গ্রামে এক জেলে বলছেন, নদীর পানি আগের চেয়ে অনেক নোনতা—মাছও কমে গেছে। শহরে আবার তীব্র গরমে রিকশাচালকেরা দুপুরে কাজ করতে পারছেন না, হাসপাতালে বাড়ছে হিটস্ট্রোকের রোগী। এ দৃশ্যগুলো কল্পনা নয়—এগুলো আজকের বাংলাদেশ।
আমরা প্রায়ই জলবায়ু পরিবর্তনকে ভবিষ্যতের বিপদ হিসেবে ভাবি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা এর মধ্যেই বসবাস করছি। এটি শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খাদ্য উৎপাদনে সংকট, নিরাপদ পানির অভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং লাখো মানুষের জীবিকা হারানোর গল্প।
খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটের মতো উপকূলীয় জেলাগুলোতে লবণাক্ততা শুধু কৃষিকে নয়, বদলে দিচ্ছে মানুষের খাওয়াদাওয়া, স্বাস্থ্য ও পারিবারিক জীবনযাত্রা। বহু পরিবার বাধ্য হয়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে।
এই সংকটের ভার সবচেয়ে বেশি বহন করছে তরুণ প্রজন্ম। যে ভবিষ্যতের কথা তাদের বলা হয়েছিল, সেটিই এখন বর্তমান। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা—সবকিছুর ওপর ছায়া ফেলছে এই অনিশ্চয়তা।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে জলবায়ু ন্যায়বিচারের। যারা এই সংকট তৈরির জন্য তুলনামূলকভাবে কম দায়ী, তারাই কেন সবচেয়ে বেশি ভুগছে? বাংলাদেশের মতো দেশগুলো বিশ্বের কার্বন নিঃসরণে সামান্য অবদান রেখেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে।
তবে শুধু সংকট নয়, সমাধানের পথও আছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, উপকূলীয় বাঁধ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ—এসব মিলিয়েই তৈরি হতে পারে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ। তরুণদের ক্রমবর্ধমান জলবায়ু আন্দোলন এই লড়াইয়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা কি জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি, নাকি এমন একটি বর্তমানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি, যেটি ইতিমধ্যে বদলে গেছে?
দপ্তর সম্পাদক, খুলনা বন্ধুসভা