বান্দরবানে গিয়ে কোথায় কোথায় ঘুরবেন

বান্দরবানে চিম্বুক পাহাড়ছবি: প্রথম আলো

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম সৌন্দর্যের আধার বান্দরবান। একদিকে উঁচু পাহাড় অন্যদিকে পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝরনা। বান্দরবান ঘুরতে চাইলে যে চারটি স্থান পছন্দের তালিকার ওপরে থাকে তা হলো নীলগিরি, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক পাহাড়। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ কিংবা ভ্রমণের মাধ্যমে যাঁরা নতুন কিছু খুঁজে পেতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য বান্দরবান দারুণ জায়গা।

নীলগিরি
বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নীলগিরি মূলত মেঘ দেখার জন্য বিখ্যাত। বর্ষাকাল ও শরৎকালে এখানকার যে দৃশ্য দেখা যায়, তা বাস্তবের চেয়ে বেশি স্বপ্নের মতো মনে হয়। নীলগিরির পাহাড়গুলোতে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকালে পাহাড়ের নিচে জমে থাকা মেঘগুলোকে সাদা তুলার মতো মনে হয়। বর্ষাকালে মেঘ এতটাই নিচে নেমে আসে, যেন মনে হয় আপনি হাত বাড়ালেই মেঘ ছুঁতে পারবেন। নীলগিরিতে যাওয়ার রাস্তাও সমান উপভোগ্য। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, রাস্তার দুই পাশের বনভূমি, মাঝেমধ্যে দেখা পাহাড়ি জনপদ ভ্রমণকে করে তোলে আকর্ষণীয়। বান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়ি, জিপ বা ব্যক্তিগত পরিবহনে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।

নীলগিরি
ছবি: মো. রায়হানুল হক

নীলাচল
নীলাচল অনেকের কাছেই বান্দরবানের সবচেয়ে আবেগঘন পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত। এই জায়গাকে ‘পাহাড়ের বারান্দা’ বলা হয়। নীলাচলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সময় হলো এর বিকেলবেলা। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় নীলাচলের সৌন্দর্যে যোগ হয় অন্য মাত্রা। সূর্যাস্তের ছবি ধারণ করার অন্যতম সেরা স্থান নীলচল। সূর্য ধীরে ধীরে পাহাড়ের আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার সময় আকাশে তৈরি হওয়া কমলা, লাল ও সোনালি রঙের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এখানে ভিড় করেন। সহজ যাতায়াত এবং শহরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে অল্প সময়ের ভ্রমণে নীলাচল ঘুরে দেখা সম্ভব।

নীলাচল পর্যটনকেন্দ্র
ছবি: মংহাইসিং মারমা

শৈলপ্রপাত
বান্দরবান-থানচি সড়কের পাশে অবস্থিত শৈলপ্রপাত বান্দরবানের অন্যতম পরিচিত ঝরনা। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলের ধারা এই ঝরনাকে দিয়েছে আলাদা আকর্ষণ। শৈলপ্রপাতের বিশেষ দিক হলো এর অবস্থান। এটি মূল সড়কের কাছে হওয়ায় সহজেই পৌঁছানো যায়। ফলে বান্দরবানের অন্যান্য গন্তব্যে যাওয়ার পথে এটি একটি জনপ্রিয় বিরতিস্থলে পরিণত হয়েছে। এখানে নামলেই আশপাশে স্থানীয় পাহাড়ি মানুষদের ছোট দোকান দেখা যায়। এসব দোকানে মৌসুমি ফল ও স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়। অনেক পর্যটক বান্দরবান যাত্রাপথে এখানে থেমে স্থানীয় পাহাড়ি ফল ও বিভিন্ন খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন। প্রকৃতিকে অনুভব করার জন্য যে বিশাল কিছুর প্রয়োজন হয় না, শৈলপ্রপাত তার এক সুন্দর উদাহরণ।

শৈলপ্রপাত ঝরনা
ছবি: প্রথম আলো
আরও পড়ুন

চিম্বুক পাহাড়
চিম্বুক পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই বান্দরবানের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র। প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড়কে অনেকেই বান্দরবানের প্রবেশদ্বার ও পাহাড়ি সৌন্দর্যের প্রতীক বলে মনে করেন। চিম্বুকের পথে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই চোখে পড়ে পাহাড়ের সারি, গভীর সবুজ বনভূমি এবং আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। চিম্বুকের দিকে যাত্রা শুরু করলেই বোঝা যায় কেন মানুষদের কাছে এটি এত জনপ্রিয়। রাস্তার প্রতিটি বাঁকে নতুন নতুন দৃশ্য। চিম্বুক পাহাড়ি সংস্কৃতির আভাস পাওয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বান্দরবানে চিম্বুক পাহাড়
ছবি: প্রথম আলো

কখন যাবেন
বান্দরবান বছরের যেকোনো সময়ই সুন্দর। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাহাড়গুলো সবচেয়ে বেশি সবুজ থাকে। অন্যদিকে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া থাকে তুলনামূলক শীতল ও আরামদায়ক। এ সময় আকাশ পরিষ্কার থাকায় দূরের পাহাড়গুলো স্পষ্ট দেখা যায় এবং ভ্রমণও বেশ স্বস্তিদায়ক হয়। যাঁরা মেঘ দেখতে চান তাঁদের জন্য বর্ষা ও শরৎকাল সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। যাঁরা ট্রাভেল ফটোগ্রাফি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য শীতের সকাল ও বিকেলের সূর্যাস্ত এনে দিতে পারে অনন্য অভিজ্ঞতা।

জরুরি কিছু বিষয়
এক দিনেই নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক ও নীলগিরি ঘুরে দেখা সম্ভব হলেও প্রকৃতিকে সময় নিয়ে উপভোগ করতে চাইলে অন্তত দুই দিনের পরিকল্পনা করা ভালো। নীলগিরির মেঘ, নীলাচলের সূর্যাস্ত, শৈলপ্রপাতের জলধারা আর চিম্বুকের পাহাড়—সব মিলিয়ে প্রতিটি গন্তব্যের রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য, নিজস্ব গল্প।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়