আমাদের ভালোবাসার গল্প শুরু হয়েছিল স্কুলজীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত দিয়ে। প্রতিদিন সে নিজের অল্প পকেটমানি জমিয়ে আমার জন্য পেস্ট্রি নিয়ে আসত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করত শুধু একঝলক আমাকে দেখার জন্য। আমাকে সাহায্য করার কোনো সুযোগই সে কখনো হাতছাড়া করত না। অথচ শুরুতে আমি ওকে খুব ভয় পেতাম, দূর থেকে দেখলেই দৌড়ে পালিয়ে যেতাম।
কলেজজীবনেও ওর ভালোবাসার গভীরতা বদলায়নি। অনেক সময় সে আমার বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত, শুধু একবার আমাকে দেখার আশায়। একদিন কলেজে ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলাম দুজন। তখন আমাদের সম্পর্ক নিয়ে আমরা দুজনই খুব ভয়ে ছিলাম—কখন যে বাবা-মা জেনে ফেলেন! হঠাৎ করেই বাবা আমাকে নিতে এসে পড়লেন। ঠিক সেই সময় সে আমাদের দুজনের জন্য চকলেট কিনছিল। বাবার ভয়ে সে চকলেটগুলো আমাকে দিতে পারেনি। সেদিন একসঙ্গে চকলেট খাওয়াও হলো না। তারপর আমাদের আবার দেখা হলো দীর্ঘ ১৭ দিন পর।
১৭ দিন পর যখন আবার দেখা হলো, আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সে সেই একই চকলেটগুলো আমার জন্য রেখে দিয়েছিল। এত দিন ধরে সবার কাছ থেকে লুকিয়ে, নিজেকে সামলেও সে সেগুলো খায়নি—শুধু আমার সঙ্গে খাওয়ার জন্য। কে এমনটা করতে পারে? এই ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে মিষ্টি অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
এমন আরও অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। আমাদের মিষ্টি ভালোবাসার এমন গল্প আরও জমা হোক।