ঘোষণাটা প্রথম চোখে পড়েছিল আজ থেকে মাস তিনেক আগে। সুযোগ মিলবে কি না, জানতাম না তখনো; তবে ইচ্ছা ছিল ভীষণ। অবশেষে ইচ্ছারা পেল পূর্ণতা...।
যদিও প্রতি দুই বছর পরপর হয়ে আসা এ আয়োজন এবার গড়াল দীর্ঘ পাঁচ বছর পর। সর্বত্র যখন আনন্দের জোয়ার আর জোরদার প্রস্তুতি, ঠিক তখনই হানা দিল অপশক্তি। কিন্তু কথায় আছে না, যেথায় আলোরা খেলা করে সেথায় আঁধারের কি ঠাঁই! হলোও তা–ই। সব আশঙ্কাকে তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে যথাসময়েই শুরু হলো আয়োজন। বন্ধুদের সমাবেশ, বন্ধু সমাবেশ।
‘আমরা সবাই বাংলাদেশ’ স্লোগানে উদ্দীপিত হয়ে প্রথম আলো বন্ধুসভার ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ ২০২৫-এ চট্টগ্রাম বন্ধুসভার একজন হয়ে আয়োজনের অংশ হওয়ার সৌভাগ্য হয় আমার। সঙ্গে ছিল খুব কাছের আরও কিছু মানুষ। নিজের এক আকাশ ইচ্ছার পাশাপাশি যার একান্ত আগ্রহ আমায় ইতিহাসের অংশ হতে সহায়তা করে, তিনি আমাদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক ইনজামাম ভাই। এ যাত্রায় সঙ্গী হিসেবে আরও ছিলেন অনেক বন্ধু, যাঁদের মধ্যে আলাদা করে কামরান ভাই, তিথি, শিহাব ভাই, ইকবাল ভাই, মাসুদ ভাই, আসাদ ভাই, সোহেল ভাই, পাপ্পু ভাই এবং অনিক ভাইয়ের কথা না বললেই নয়।
ব্যক্তিগতভাবে আমার গণ্ডি আমি যৌক্তিক কারণেই খুবই ছোট রাখি। ফলে সে অর্থে আমার ঘোরাফেরা বা আড্ডাবাজি একদম কম বলতে গেলে। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার ক্ষেত্রে বিষয়গুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ কারণেই আমি একে আমার দ্বিতীয় পরিবার ভাবি ও বলি। এ যাত্রায়ও প্রিয় এ সংগঠনের সঙ্গে রসায়নটা ছিল চমৎকার, সংগত কারণেই, প্রতিবারের মতনই।
আসা ও যাওয়া—দুইবারেই আমার সহযাত্রীর আসনে ছিলেন ইনজামাম ভাই। যাওয়ার পথে ইকবাল ভাইয়ের নেতৃত্বে ছিল মিশন ‘নিজেও ঘুমাব না আর কাওকে ঘুমাতেও দিব না’। যদিও ফেরার পথে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে আর জমেনি বিষয়গুলো। যাওয়া ও আসা—এই দুইয়ের মাঝের সময়গুলো ছিল ভীষণ সুন্দর। তাঁবুতে থাকার মতো এক নতুন অভিজ্ঞতা হলো, সঙ্গে হলো আরও বেশ কিছু অভিযোজিত হওয়ার অভ্যেস। বিভিন্ন তাঁবু ঘুরে ঘুরে দেশের নানা স্থানের বন্ধুদের বিভিন্ন সংস্কৃতি অবলোকনের পাশাপাশি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে অনেক বন্ধুর সঙ্গেই হয় ব্যক্তিগত পরিচয়। সেভাবে দর্শনীয় কোথাও যাওয়া না হলেও দেশের অষ্টম জেলা হিসেবে গাজীপুরে পা রাখা হলো। সবমিলিয়ে সময়গুলো কাটে নিখাদ আনন্দে।
যাহোক, ২৫-২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের দুর্দান্ত তিনটি দিন কাটল নিঃসন্দেহে। সত্যি বলতে কী, জানতাম আনন্দ হবে। কিন্তু এতটা যে হতে পারত, তা কল্পনায়ও ছিল না। মোদ্দাকথা, নতুন কোনো আচারের সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক নতুন শেখার এ আনন্দপূর্ণ যাত্রাটা মনে আক্ষরিকভাবেই দাগ কেটে থাকবে বহুদিন, অন্তত পরবর্তী সুযোগ আসার আগ অবধি!
বলতে চাইলে বলা যায় বহুকিছুই। নিদারুণ সুন্দর তিনটি দিনকে নিয়ে লিখতে বসলে টক মরু কালিও হয়ে যাবে নস্যি। বাস্তবতা মেনে নিয়ে এখানেই টানলাম স্মৃতিচারণার ইতি। সঙ্গে প্রত্যাশা ও আশাবাদ, আসছে সংস্করণটায়ও যেন অংশ হতে পারি, প্রিয় পরিবারটার একজন হয়ে!
বন্ধু, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা