ভালোবাসা দিবস আর পয়লা ফাল্গুন এলেই আমার চারপাশ যেন হঠাৎ করেই রঙিন হয়ে ওঠে। বাতাসে বাসন্তী রঙের ছোঁয়া, কিশোরী রোদ, ফুলের গন্ধ—সবকিছু মিলিয়ে মনে হয় প্রকৃতি নিজেই যেন ভালোবাসার গল্প লিখছে। আর সেই গল্পের প্রতিটি পাতায় থাকে শুধু তুমি।
আমাদের ভালোবাসার শুরুটা ছিল একদম সাধারণ। না ছিল বড় কোনো আয়োজন, না ছিল নাটকীয় কোনো প্রস্তাব। ছিল শুধু দুজনের নীরব বোঝাপড়া। প্রথম যেদিন আমরা পাশাপাশি বসে চা খাচ্ছিলাম, কথার চেয়ে নীরবতাই বেশি ছিল। সেই নীরবতার ভেতরেই খুঁজে পেয়েছিলাম এক আশ্চর্য শান্তি। মনে হয়েছিল, এই মানুষটির পাশেই নিশ্চিন্তে সারা জীবন বসে থাকা যায়।
ভালোবাসার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য বুঝেছি ছোট ছোট মুহূর্তে। বিকেলের নরম আলোয় হাত ধরে হাঁটা, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এক প্লেট ফুচকা ভাগ করে খাওয়া, কিংবা কোনো তুচ্ছ কথায় হঠাৎ দুজনের একসঙ্গে হেসে ওঠা—এসব সাধারণ মুহূর্তই আমার জীবনের সবচেয়ে অসাধারণ স্মৃতি। ক্লান্ত দিনের শেষে যখন ঘরে ফিরি, তোমার একটুখানি হাসি যেন সব ক্লান্তি গলিয়ে দেয়। মনে হয়, পৃথিবী যতই কঠিন হোক, তোমার পাশে থাকলে সব সহজ।
আমাদের মাঝেও অভিমান আসে। কখনো চুপ করে থাকি, কখনো তর্কে জড়িয়ে পড়ি। কিন্তু দিনের শেষে বুঝে যাই, এই অভিমানও ভালোবাসারই আরেক নাম। সব রাগ, সব নীরবতার পরও মনটা আবার তোমার কাছেই ফিরতে চায়।
ভালোবাসা দিবস আসুক কিংবা না আসুক, পয়লা ফাল্গুনের রং লাগুক বা না লাগুক—আমার কাছে ভালোবাসা মানে তুমি। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে তোমার জন্য আমার মনে একটুখানি নির্জন জায়গা আছে। সেখানে জমে থাকে আমাদের হাসি, অভিমান, নীরবতা আর অগণিত ছোট ছোট সুখের স্মৃতি। এগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বন্ধু, দিনাজপুর বন্ধুসভা