বাংলাদেশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ কীভাবে পেলাম
সব সময় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চেয়েছি। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে আমার আগের পড়াশোনায় একটি বিরতি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আবার যখন পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই, তখন এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজছিলাম যেখানে বাংলাদেশে থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব এবং একই সঙ্গে খরচটাও আমার জন্য সাধ্যের হয়।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল সম্পর্কে জানতে পারি। এটি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের পাসাদেনাতে অবস্থিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পান। তাদের এই শিক্ষাপদ্ধতি এবং স্কলারশিপের সুযোগ আমাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র, আইইএলটিএস স্কোর এবং অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করি। পরবর্তী সময়ে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পাই। বর্তমানে বাংলাদেশে থেকেই সেখানে আমার ব্যাচেলর ডিগ্রি চালিয়ে যাচ্ছি।
ভর্তি হতে আইইএলটিএস বা অন্য এক্সট্রা কারিকুলার অভিজ্ঞতা
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আইইএলটিএস স্কোর জমা দিতে হয়েছে। আমার স্কোর ছিল ৬।
পাশাপাশি নানা সময় বিভিন্ন সংগঠন ও নেতৃত্ববিষয়ক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে কমিউনিকেশন, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দক্ষ হতে সহায়তা করেছে। অভিজ্ঞতার সনদও জমা দিতে হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপলে পড়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা কী
আমার কাছে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বাংলাদেশে থেকেই একটি আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিবেশের মধ্যে পড়াশোনা করতে পারছি।
একই সঙ্গে ব্যবসার সঙ্গেও আমি যুক্ত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ক্লাস সূচির সঙ্গে সব সময় তাল মিলিয়ে চলা আমার জন্য কঠিন হতে পারত। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ক্লাস এবং ফ্লেক্সিবল পদ্ধতির কারণে আমি নিজের পেশাদার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারছি।
আরেকটি বড় সুবিধা হলো ৭০ শতাংশ স্কলারশিপ। অর্থনৈতিক দিকটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্কলারশিপ পাওয়ায় আমার পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হয়েছে।
তবে এখানে পড়ার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—নিজের পড়াশোনার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়।
আমার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে ই–মেইলের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। কোনো সমস্যা হলে পরামর্শক বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ই–মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়, এবং কখনো কখনো জবাব পেতে সময় লাগে। যেহেতু আমি একই সঙ্গে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাই প্রথমদিকে পড়া ও ব্যবসা—দুটো ম্যানেজ করা কঠিন ছিল। তবে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছি এবং এখন অনেক ভালোভাবে সব ম্যানেজ করতে পারছি।
অনলাইনে পরীক্ষা কীভাবে নেয় এবং একাডেমিক পারফরম্যান্স কেমন
আমি প্রথম টার্মে ভালো করার চেষ্টা করেছি। একটি কোর্সে ১০০–এর মধ্যে ৯২ পাই, এবং আরেকটি কোর্সে ৮০ পেয়েছি। এর আগে ইএসএল প্রোগ্রাম হয়েছে, যেটাকে ফাউন্ডেশন কোর্স বলে। এই কোর্স শেষ করে পরীক্ষা দিতে হয়েছে প্রক্টরের সামনে। মানে আমি একটা রুমে পরীক্ষা দেব এবং একজন পরীক্ষক আমাকে গার্ড দেবেন। কোনোভাবেই মুভমেন্ট করা যাবে না। পরীক্ষার আগে রুম দেখাতে হয়, পরীক্ষার টেবিলে একটি ল্যাপটপ ও ওয়েবক্যাম ছাড়া কিছুই রাখা যাবে না। এমনকি ল্যাপটপের স্ক্রিনের এক্সেসও তাঁরা নিয়ে নেয় সাময়িক সময়ের জন্য। বেশ কড়াকড়ি করে পরীক্ষা হয়। পাস করেছিলাম বি গ্রেড নিয়ে, ৮১.৫৬ শতাংশ মার্কস পাই।
আন্তর্জাতিক গ্রেডিং হিসেবে এগুলো এ এবং বি লেভেল পারফরম্যান্স হিসেবে ধরা হয়। এ ছাড়া নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট, আলোচনা, পড়া ও পরীক্ষার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে হয়।
এখান থেকে ভালোভাবে পাস করতে পারলে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা বা ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগও রয়েছে।
এমনকি ভালো একাডেমিক প্রোফাইল ও নির্দিষ্ট পেশাদার অভিজ্ঞতা থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানি বা সংস্থায় চাকরির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। জার্মানি, আমেরিকা এসব দেশে এখানকার শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরি উন্মুক্ত।
স্কলারশিপ পেতে কী করতে হলো
ভর্তি হওয়ার সময় আমি স্কলারশিপ বা অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য আবেদন করি। পরে আমার আবেদন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বিবেচনা করে ৭০ শতাংশ স্কলারশিপ দেওয়া হয়। আবেদন ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপলের ওয়েবসাইটে গিয়ে করতে হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিসি ও চুক্তি অনুযায়ী ক্রেডিট ট্রান্সপারের সুযোগ আছে। এখানে ৩৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করার পর ক্রেডিট ট্রান্সপারের বিভিন্ন সম্ভাবনা এক্সপ্লোর করার ইচ্ছা আছে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ক্রেডিট ট্রান্সপার করে আরও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিতে চাই।
আপাতত এটিই আমার অন্যতম বড় একাডেমিক লক্ষ্য।
শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল, যুক্তরাষ্ট্র