বিবিএতে কোন মেজর বেছে নেবেন

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু একটি বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করাই যথেষ্ট নয়
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বিবিএ পড়ার শেষ পর্যায়ে এসে প্রায় সব শিক্ষার্থীর মনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও দ্বিধা তৈরি হয়—কোন বিষয়ে মেজর নির্বাচন করবেন? ফিন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, মার্কেটিং, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম), কিংবা ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)। প্রতিটি ক্ষেত্রেরই রয়েছে নিজস্ব গুরুত্ব, কর্মক্ষেত্র, দক্ষতার চাহিদা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা। তাই মেজর নির্বাচন শুধু একাডেমিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বাস্তবতা হলো, অনেক শিক্ষার্থী মেজর নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহ, সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনার পরিবর্তে বন্ধুদের সিদ্ধান্ত, পরিবারের পরামর্শ, সামাজিক ধারণা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট পেশায় সম্ভাব্য বেতনের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর অনেকেই বুঝতে পারেন না—কোন ধরনের কাজ তাঁদের ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা ও আগ্রহের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু একটি বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করাই যথেষ্ট নয়। একজন শিক্ষার্থীকে জানতে হবে—তিনি কীভাবে চিন্তা করেন, কোন ধরনের কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কোন দক্ষতা অর্জন করতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে নিজেকে কোন ধরনের পেশায় দেখতে চান। তাই মেজর নির্বাচনকে কেবল একটি একাডেমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে হবে না; এটি একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও পেশাগত পরিচয় গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি এবং একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সংযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, একটি মেজর শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করে দেয়; কিন্তু সেই জ্ঞানকে কীভাবে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাহলে কোন বিষয়টি বিবিএ মেজর হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে ভালো?
এর উত্তর খুব সরল—সবার জন্য একই মেজর সেরা নয়। বরং যে মেজর একজন শিক্ষার্থীর সক্ষমতা, আগ্রহ, ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই তাঁর জন্য সঠিক।

ফিন্যান্স: যাঁরা সংখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন
যেসব শিক্ষার্থী সংখ্যা, হিসাব, বিশ্লেষণ, নির্ভুলতা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগ্রহী, তাঁদের জন্য ফিন্যান্স একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার ক্ষেত্র। এই ক্ষেত্র কেবল অর্থের হিসাব রাখা বা বাজেট তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি প্রতিষ্ঠানের অর্থ কোথা থেকে আসছে, কোথায় ব্যয় হচ্ছে, কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, কী ধরনের আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে এবং ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে—এসবই ফিন্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

একজন ফিন্যান্স গ্র্যাজুয়েট ভবিষ্যতে করপোরেট ফিন্যান্স, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস (এফপিঅ্যান্ডএ), ট্রেজারি, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ফিনটেকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে প্রায় প্রতিটি শিল্প ও প্রতিষ্ঠানে ফিন্যান্স পেশাদারদের প্রয়োজন রয়েছে।

তবে ফিন্যান্স মেজর বেছে নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীকে বুঝতে হবে যে শুধু সংখ্যায় ভালো হলেই হবে না। বিশ্লেষণী চিন্তা, অ্যাটেনশন টু ডিটেইল, এক্সেল, ফিন্যান্সিয়াল মডেলিং, ডেটা অ্যানালাইসিস এবং ব্যবসা বোঝার মতো দক্ষতাও গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ করে ভবিষ্যতের ফিন্যান্স পেশাদারদের জন্য প্রযুক্তি ও তথ্যগত জ্ঞান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই ফিন্যান্সের শিক্ষার্থীদের প্রথাগত ফিন্যান্সিয়াল জ্ঞানের পাশাপাশি ডেটা অ্যানালিটিকস এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল টুলস ব্যবহারে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন।

যদি কোনো শিক্ষার্থী সংখ্যার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তথ্য বিশ্লেষণ করতে ভালোবাসেন এবং একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা আর্থিক যুক্তি বুঝতে আগ্রহী হন, তাহলে ফিন্যান্স তাঁর জন্য উপযুক্ত মেজর হতে পারে।

অ্যাকাউন্টিং: যাঁরা নির্ভুলতা, কাঠামো ও আর্থিক স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দেন
ফিন্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলেও অ্যাকাউন্টিংয়ের নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র পেশাগত পরিচয় রয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা, আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করা, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা, অডিট পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাকাউন্টিংয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে অ্যাকাউন্টিং, অডিট, ট্যাক্সেশন, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং, ইন্টারনাল অডিট, কমপ্লায়েন্স, এবং করপোরেট অ্যাকাউন্টিংয়ের মতো ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

যেসব শিক্ষার্থী বিস্তারিত, কাঠামোগত এবং নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাঁদের জন্য অ্যাকাউন্টিং বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারে।

বর্তমানে অ্যাকাউন্টিং পেশাদারও প্রযুক্তির কারণে পরিবর্তিত হচ্ছে। অটোমেশন, ক্লাউড অ্যাকাউন্টিং, ডেটা অ্যানালিটিকস, এবং এআইভিত্তিক টুলস ভবিষ্যতের অ্যাকাউন্টিং পেশাদারদের আরও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলছে। ফলে অ্যাকাউন্টিংয়ের শিক্ষার্থীদের প্রথাগত অ্যাকাউন্টিং জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও বিশ্লেষণী দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।
অর্থাৎ অ্যাকাউন্টিং আর কেবল খাতা-কলমের হিসাব নয়; এটি এখন বিজনেস ট্রান্সপারেন্সি, কমপ্লায়েন্স, ফিন্যান্সিয়াল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ছবি: সংগৃহীত

মার্কেটিং: সৃজনশীলতা, যোগাযোগ ও বিশ্লেষণের সমন্বিত ক্ষেত্র
অনেক শিক্ষার্থীর কাছে মার্কেটিং বলতে বিজ্ঞাপন, সেলস কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বোঝায়। কিন্তু আধুনিক মার্কেটিংয়ের পরিধি অনেক বিস্তৃত।

একজন আধুনিক মার্কেটিং পেশাদারকে একদিকে ক্রেতার আচরণ, প্রয়োজন ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে হয়, অন্যদিকে ডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোন ক্রেতা কী চায়, কেন একটি পণ্য কিনছে, কোন ক্যাম্পেইন কার্যকর হচ্ছে, কোন মাধ্যম থেকে বেশি ক্রেতা আসছে এবং কীভাবে ক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই মার্কেটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

তাই মার্কেটিং এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী দক্ষতা—দুটির সমন্বয় প্রয়োজন।
ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, পারফরম্যান্স মার্কেটিং, গ্রোথ, প্রোডাক্ট মার্কেটিং, কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম), রিটেনশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কনটেন্ট মার্কেটিং—বর্তমানে মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন ক্যারিয়ার ট্র্যাক রয়েছে।

একজন শিক্ষার্থী মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ, ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ, ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, গ্রোথ এক্সিকিউটিভ কিংবা সিআরএম বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মার্কেটিং ম্যানেজার, হেড অব মার্কেটিং এবং পরবর্তী সময়ে চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও)–এর মতো নেতৃত্বের পর্যায়েও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে মার্কেটিংয়ে সফল হতে শুধু কমিউনিকেশন বা প্রেজেন্টেশন দক্ষতা যথেষ্ট নয়। ভোক্তার আচরণ, মার্কেট রিসার্চ, ডেটা অ্যানালিটিকস, ক্যাম্পেইন ম্যাজারমেন্ট, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই), ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তি সম্পর্কেও বাস্তব জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে এআই ও অটোমেশন মার্কেটিংয়ের কাজের ধরন দ্রুত পরিবর্তন করছে। তাই আগামী দিনের মার্কেটিং পেশাদারদের সৃজনশীলতার পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

যদি কোনো শিক্ষার্থী মানুষের আচরণ বুঝতে ভালোবাসেন, নতুন ধারণা তৈরি করতে আগ্রহী হন, কমিউনিকেশনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং ডেটা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত যাচাই করতে পছন্দ করেন, তাহলে মার্কেটিং তাঁর জন্য উপযুক্ত মেজর হতে পারে।

সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট: যাঁরা ব্যবসার জটিল সমস্যা সমাধান করতে চান
সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বর্তমানে ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্র। একটি পণ্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে উৎপাদন, ইনভেনটরি, ওয়্যারহাউজিং, ট্রান্সপোরটেশন, ডিস্ট্রিবিউশন এবং শেষ পর্যন্ত ক্রেতার কাছে পৌঁছানো—পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাপ্লাই চেইন যুক্ত।
ডিমান্ড প্ল্যানিং, প্রকিউরমেন্ট, সোর্সিং, লজিস্টিক, ইনভেনটরি ম্যানেজমেন্ট, ওয়্যারহাউজিং, ডিস্ট্রিবিউশন এবং অপারেশন—সবই সাপ্লাই চেইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে সাপ্লাই চেইন শুধু পণ্য পরিবহনের বিষয় নয়। এটি কস্ট অপটিমাইজেশন, এফিসিয়েন্সি, সাপ্লায়ার ম্যানেজমেন্ট, ইনভেনটরি কনট্রোল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, কাস্টমার স্যাটিসফেকশন এবং বিজনেস কনটিনিউটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

একটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো না এলে, ইনভেনটরি অতিরিক্ত হলে, সাপ্লায়ারের সঙ্গে সমস্যা তৈরি হলে কিংবা যাতায়াত খরচ বেড়ে গেলে ব্যবসার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করা, বিশ্লেষণ করা ও কার্যকর সমাধান তৈরির জন্য দক্ষ সাপ্লাই চেইন পেশাদার প্রয়োজন।

একজন শিক্ষার্থী সাপ্লাই চেইন বিশ্লেষক, প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ, লজিস্টিক কো–অর্ডিনেটর, ইনভেনটরি প্ল্যানার বা অপারেশনস এক্সিকিউটিভ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজার, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজার, অপারেশনস ম্যানেজার, সাপ্লাই চেইনের পরিচালক এবং ভবিষ্যতে চিফ সাপ্লাই চেইন অফিসারের (সিএসসিও) মতো নেতৃস্থানীয় পদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সাপ্লাই চেইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো বিভিন্ন শিল্প খাতে এর প্রয়োজনীয়তা। উৎপাদনশিল্প, তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প, খুচরা বিক্রয় ও ই–কমার্স, ওষুধশিল্প, খাদ্য ও কৃষি, প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো—বিভিন্ন শিল্পে সাপ্লাই চেইন পেশাদারদের প্রয়োজন রয়েছে।

এই মেজরের শিক্ষার্থীদের ডেটা অ্যানালাইসিস, প্রকিউরমেন্ট, নেগোসিয়েশন, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, লজিস্টিক প্ল্যানিং, ইনভেনটরি অপটিমাইজেশন এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সিস্টেমসের মতো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।

যদি কোনো শিক্ষার্থী বাস্তব সমস্যা সমাধান করতে ভালোবাসেন, ডেটা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হন, নেগোসিয়েশন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং একটি ব্যবসার বিভিন্ন অংশ কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করে তা বুঝতে আগ্রহী হন, তাহলে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট তাঁর জন্য একটি শক্তিশালী ক্যারিয়ার পথ হতে পারে।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট: মানুষ, নেতৃত্ব ও ব্যবসার সেতুবন্ধ
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বা এইচআরএম-কে একসময় নিয়োগ, উপস্থিতি, ছুটি ও কর্মী প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করা হতো। কিন্তু আধুনিক ব্যবসায় এইচআরের ভূমিকা অনেক বেশি কৌশলগত।

একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তার মানুষ। সঠিক মেধা নির্বাচন, সঠিক জায়গায় সঠিক ব্যক্তিকে নিয়োগ, কর্মী সমন্বয়, পারফরম্যান্স ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব উন্নয়ন, শিক্ষা ও উন্নয়ন, সফলতার পরিকল্পনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি—এসবই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত।

একজন আধুনিক এইচআর পেশাদারকে তাই শুধু পিপল স্কিলের অধিকারী হলেই চলবে না। তাকে বিজনেস স্ট্র্যাটেজি, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মাবলি, ডেটা অ্যানালিটিকস এবং প্রযুক্তি সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে।

এইচআরএম শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মী নিয়োগ, মানবসম্পদ ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, শিক্ষা ও উন্নয়ন, পারিশ্রমিক ও সুযোগ–সুবিধা, কর্মী সম্পর্ক, পারফরম্যান্স ব্যবস্থাপনা, মেধা ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্যারিয়ার রয়েছে।

একজন শিক্ষার্থী এইচআর নির্বাহী বা এইচআর বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে এইচআর ম্যানেজার, এইচআর বিজনেস পার্টনার, হেড অব এইচআর এবং পরবর্তী সময়ে চিপ এইচআর অফিসার (সিএইচআরও)-এর মতো নেতৃস্থানীয় পদে যেতে পারেন।

এইচআর এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে কমিউনিকেশন, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব, নেগোসিয়েশন এবং বিশ্লেষণী চিন্তার সমন্বয় প্রয়োজন।
যেসব শিক্ষার্থী মানুষের সঙ্গে কাজ করতে ভালোবাসেন, নেতৃত্ব ও পরামর্শে আগ্রহী, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মাবলি বুঝতে চান এবং মানুষ–সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ সমাধানে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এইচআরএম একটি উপযুক্ত মেজর হতে পারে।

এমআইএস: প্রযুক্তি ও ব্যবসার সংযোগস্থলে ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার
বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বা এমআইএসের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ব্যবসার প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন ডেটা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সিস্টেমসের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে যাঁরা ব্যবসা ও প্রযুক্তি দুই ক্ষেত্রের সমন্বিত জ্ঞান অর্জন করতে চান, তাঁদের জন্য এমআইএস একটি গুরুত্বপূর্ণ মেজর হতে পারে।

এমআইএস মূলত ব্যবসার চাহিদা এবং প্রযুক্তির মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরি করে। একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে ডেটা সংগ্রহ করবে, সংরক্ষণ করবে, বিশ্লেষণ করবে এবং সেই তথ্য ব্যবহার করে আরও কার্যকর ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেবে—এমআইএসের সঙ্গে এসব বিষয় গভীরভাবে সম্পর্কিত।

এমআইএসের শিক্ষার্থীরা বিজনেস অ্যানালাইসিস, ডেটা অ্যানালিটিকস, ইনফরমেশন সিস্টেমস, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, ইআরপি, বিজনেস ইনটেলিজেন্স, আইটি সম্পর্কিত বিজনেস অপারেশনস এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের মতো ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।

একজন এমআইএস গ্র্যাজুয়েট বিজনেস অ্যানালিস্ট, ডেটা অ্যানালিস্ট, সিস্টেমস অ্যানালিস্ট, ইআরপি কনসালটেন্ট, আইটি বিজনেস পার্টনার, বিজনেস ইনটেলিজেন্স বিশেষজ্ঞ কিংবা প্রযুক্তি প্রকল্পের সমন্বয়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। অভিজ্ঞতার সঙ্গে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা কিংবা বিজনেস সিস্টেমসের নেতৃস্থানীয় ভূমিকাতেও যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এমআইএসের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্লেষণী চিন্তা, ডেটা ইন্টারপ্রেটেশন, প্রযুক্তি সচেতনতা, সমস্যা সমাধান, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং বিজনেস কমিউনিকেশন গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।

বর্তমান সময়ে এআই, অটোমেশন, ক্লাউড প্রযুক্তি, ডেটা বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরম্যাশন ব্যবসার ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে আগামী দিনের ব্যবসায়িক নেতৃত্বে প্রযুক্তি ও ব্যবসার সমন্বিত জ্ঞান অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে।

যদি কোনো শিক্ষার্থী ব্যবসা বুঝতে চান, একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও ডেটা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হন, তাহলে এমআইএস তাঁর জন্য একটি সম্ভাবনাময় মেজর হতে পারে।

একটি মেজর শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করে দেয়; কিন্তু সেই জ্ঞানকে কীভাবে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
ছবি: সংগৃহীত

তাহলে কোন মেজর সবচেয়ে ভালো
এখন প্রশ্ন হলো—এই ছয়টি মেজরের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো?
এর উত্তর হলো—সবার জন্য একই মেজর সবচেয়ে ভালো নয়।

একজন শিক্ষার্থী ফিন্যান্সে অসাধারণ করতে পারেন, অন্যজন মার্কেটিংয়ে। কেউ সাপ্লাই চেইনের জটিল অপারেশনাল সমস্যা সমাধান করতে পছন্দ করতে পারেন। কেউ মানুষের সঙ্গে কাজ করে প্রাতিষ্ঠানিক ট্রান্সফরমেশন ঘটাতে আগ্রহী হতে পারেন। আবার কেউ ব্যবসা ও প্রযুক্তির সংযোগস্থলে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন।

তাই শুধু বন্ধুর মেজর দেখে, পরিবারের কারও পরামর্শে কিংবা কোনো একটি পেশায় বেশি স্যালারি রয়েছে—এমন ধারণার ভিত্তিতে মেজর নির্বাচন করা উচিত নয়।
বরং শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা উচিত—

আমি কি সংখ্যা ও ডেটা নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি?
আমি কি মানুষের আচরণ ও মনস্তত্ত্ব বুঝতে আগ্রহী?
আমি কি নতুন ধারণা তৈরি করতে এবং কমিউনিকেশন করতে ভালোবাসি?
আমি কি বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধান করতে পছন্দ করি?
আমি কি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে এবং নেতৃত্ব দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি?
আমি কি প্রযুক্তি, ডেটা ও ব্যবসার সমন্বিত কাজ উপভোগ করি?
আমি কি বিশ্লেষণী ক্ষমতাসম্পন্ন, সৃজনশীল, মানুষকেন্দ্রিক নাকি প্রযুক্তিকেন্দ্রিক?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একজন শিক্ষার্থীকে নিজের জন্য সঠিক মেজর নির্বাচনে সহায়তা করতে পারে।

মেজরের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে
বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু মেজরের নাম দিয়ে ক্যারিয়ার তৈরি হয় না। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ফিন্যান্সের শিক্ষার্থীদের এক্সেল, ফিন্যান্সিয়াল বিশ্লেষণ, ডেটা বিশ্লেষণ এবং ফিন্যান্সিয়াল মডেলিংয়ের মতো দক্ষতা অর্জন করা উচিত।
অ্যাকাউন্টিংয়ের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টিং সফটওয়ার, ফিন্যান্সিয়াল প্রতিবেদন, অডিট, ট্যাক্সেশন, নিয়ম-নীতি মেনে চলা, এবং ডেটা বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রযুক্তিভিত্তিক অ্যাকাউন্টিং টুলস সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।
মার্কেটিংয়ের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল মার্কেটিং, ভোক্তার আচরণ, ডেটা বিশ্লেষণ, কনটেন্ট তৈরি, কমিউনিকেশন এবং মার্কেটিং প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সাপ্লাই চেইনের শিক্ষার্থীদের ডেটা বিশ্লেষণ, ইআরপি, ক্রয় ব্যবস্থাপনা, নেগোসিয়েশন, মজুত ব্যবস্থাপনা, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং লজিস্টিক প্ল্যানিংয়ের মতো দক্ষতা তৈরি করতে হবে।
এইচআরএমের শিক্ষার্থীদের কমিউনিকেশন, এইচআর অ্যানালিটিকস, মেধা ব্যবস্থাপনা, কর্মী সম্পর্ক, পারফরম্যান্স ব্যবস্থাপনা, পরামর্শ এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এমআইএসের শিক্ষার্থীদের ডেটা বিশ্লেষণ, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ইআরপি, ইনফরমেশন সিস্টেমস, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, বিজনেস ইনটেলিজেন্স এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের মতো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।

অর্থাৎ একজন বিবিএ শিক্ষার্থীর লক্ষ্য হওয়া উচিত—ডিগ্রি + মেজর সম্পর্কে ধারণা + ব্যবহারিক দক্ষতা + প্রযুক্তি + ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ধারণা।

শুধু সিজিপিএ দিয়ে ক্যারিয়ার তৈরি হয় না
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ভালো সিজিপিএ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি সফল ক্যারিয়ার গঠনের জন্য এটিই একমাত্র মাপকাঠি নয়।

একজন গ্র্যাজুয়েটের কমিউনিকেশন দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, দলগত কাজ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণী চিন্তা, প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বাস্তব পৃথিবীর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ইন্টার্নশিপের গুরুত্ব অনেক বেশি। একজন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার আগেই যদি ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে ধারণা পান, তাহলে ক্লাসরুমের থিওরিটিক্যাল জ্ঞান বাস্তব ব্যবসায়িক পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ পান।

একইভাবে পেশাদার নেটওয়ার্কিং, ইন্ডাস্ট্রি ইভেন্টস, ক্যারিয়ার সেশনস, শিক্ষার্থীদের ক্লাব, প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছাসেবা এবং প্রফেশনাল সার্টিফিকেশন একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার প্রস্তুতি বাড়াতে পারে।

মেজরের চেয়ে ‘ফিট’ কেন গুরুত্বপূর্ণ
একজন শিক্ষার্থী যদি এমন মেজর নির্বাচন করেন যা তাঁর নিজের আগ্রহ, সক্ষমতা ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাহলে ডিগ্রি অর্জনের পরও ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্টি কম হতে পারে।

অন্যদিকে নিজের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মেজর বেছে নিয়ে যদি একজন শিক্ষার্থী নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক শিক্ষা, প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতার ওপর বিনিয়োগ করেন, তাহলে তাঁর ক্যারিয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তাই বিবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে—মেজর নির্বাচন করুন নিজের পরিচয় ও সক্ষমতা বুঝে; শুধু বাজারের ট্রেন্ড দেখে নয়।

আপনি যদি সংখ্যা ও অ্যানালাইসিস পছন্দ করেন—ফিন্যান্স হতে পারে আপনার ক্ষেত্র।

আপনি যদি নির্ভুলতা, কাঠামো ও ফিন্যান্সিয়াল প্রতিবেদনে আগ্রহী হন—অ্যাকাউন্টিং হতে পারে আপনার পথ।
আপনি যদি সৃজনশীলতা, কমিউনিকেশন ও ভোক্তা বোঝাপড়ায় শক্তিশালী হন—মার্কেটিং হতে পারে আপনার জন্য।
আপনি যদি সমস্যা সমাধান, নেগোসিয়েশন ও অপারেশনাল জটিলতা উপভোগ করেন—সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট হতে পারে আপনার ক্ষেত্র।
আপনি যদি মানুষ, নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে আগ্রহী হন—এইচআরএম হতে পারে আপনার উপযুক্ত মেজর।
আপনি যদি ব্যবসা, প্রযুক্তি ও ডেটার সমন্বয়ে কাজ করতে চান—এমআইএম হতে পারে আপনার জন্য একটি সম্ভাবনাময় পথ।

শেষ কথা
বিশ্ববিদ্যালয়ে মেজর নির্বাচন জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত নয়; এটি ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ শুরুর ধাপ। একটি মেজর একজন শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। কিন্তু সেই জ্ঞানকে কীভাবে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, কমিউনিকেশন, নেতৃত্ব ও শিক্ষার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত করা হবে—তার ওপরই ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের প্রকৃত শক্তি অনেকাংশে নির্ভর করে।

আজকের বিবিএ শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ব্যবসায়িক নেতা, উদ্যোক্তা, ম্যানেজার, বিশেষজ্ঞ ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানুষ।

তাই মেজর নির্বাচন করার আগে নিজেকে জানুন। নিজের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করুন। বিভিন্ন পেশা সম্পর্কে জানুন। ইন্ডাস্ট্রি পেশাদারদের সঙ্গে কথা বলুন। ইন্টার্নশিপ করুন। বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানের অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। নতুন প্রযুক্তি ও এআই সম্পর্কে শিখুন। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—শুধু একটি চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, একটি দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত পরিচয় গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিন।

মনে রাখতে হবে—সেরা মেজর বলে কিছু নেই; আপনার জন্য সঠিক মেজরই হলো সেরা মেজর। কারণ, একটি সফল ক্যারিয়ারের ভিত্তি শুধু একটি ডিগ্রি নয়; বরং নিজের সক্ষমতা, আগ্রহ, জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সুযোগের মধ্যে একটি সঠিক সমন্বয়।

লেখক: প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা, বিক্রয় মার্কেটপ্লেস লিমিটেড, এবং খণ্ডকালীন প্রভাষক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।