২০১৯ সালের কথা। মনে মনে স্বপ্ন বুনছিলাম—পড়াশোনা শেষে ভালো একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ব। কিন্তু কীভাবে শুরু করব, পথটা জানা ছিল না। কলেজজীবন থেকেই এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসের সঙ্গে কিছুটা যুক্ত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়ে পুরোদমে এর সঙ্গে মিশে যাই। প্রথম বর্ষেই একটি বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টে আয়োজক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাই।
প্রতিটি ইভেন্টে নতুন নতুন করপোরেট ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে দেখা, কথা বলা এবং নিজেকে নতুনভাবে চেনানোর সুযোগ তৈরি হতে থাকে। হাল্ট প্রাইজ, এপিইউএফের মতো আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম আয়োজনের পাশাপাশি বেশ কিছু বিজনেস কেস কম্পিটিশনেও মেলে সফলতা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অভিজ্ঞতাগুলো যে কতটা কার্যকরী ছিল, তা টের পাই ২০২২ সালে। ফাইনাল ইয়ারে পড়া অবস্থাতেই দেশের সর্ববৃহৎ এডটেক প্ল্যাটফর্ম ‘১০ মিনিট স্কুল’-এ শুরু হয় কর্মজীবন। সেখানে দুই বছর কল সেন্টার টিম লিড হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সুযোগ আসে দেশের এক নম্বর সংবাদপত্র প্রথম আলোর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট টিমে। এখানে কাজ করতে গিয়ে দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য, শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং ব্র্যান্ড হেডদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা হচ্ছে।
আজ ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে স্পষ্ট বুঝতে পারি—বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে যদি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিসের সঙ্গে যুক্ত না হতাম, তবে করপোরেট দুনিয়ায় এত সহজে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না।
যাঁরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু করছেন বা ভবিষ্যতে কর্মজীবনে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ—
• জড়তা কাটানোই প্রথম ধাপ: শুধু সিজিপিএ দিয়ে বর্তমান ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এবং কেস কম্পিটিশনে অংশ নিয়ে নিজের মানসিক জড়তা ও ভয় দূর করতে হবে।
• কমফোর্ট জোন ত্যাগ করা: বিশেষ করে যাঁরা মার্কেটিং এবং সেলসে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাঁদের অবশ্যই নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেকে যত বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবেন, ক্যারিয়ারে তত দ্রুত উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন।
• নেটওয়ার্কিং ও যোগাযোগ: ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা ক্লাবিংয়ের মাধ্যমে তৈরি হওয়া করপোরেট নেটওয়ার্ক কর্মজীবনে বিশাল সুযোগের দরজা খুলে দেয়।
বর্তমানে চাকরিদাতারা কেবল রেজাল্ট দেখেন না, দেখেন আপনার সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও লিডারশিপ কোয়ালিটি। তাই ক্যাম্পাস লাইফ থেকেই নিজেকে তৈরি করুন। কারণ, প্রস্তুত মনের জন্যই সুযোগ সব সময় অপেক্ষা করে।
লেখক: নির্বাহী, এডভারটাইজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, প্রথম আলো