সাজ্জাদ শরিফের কবিতার ক্লাস: শব্দ পেরিয়ে উপলব্ধির শিল্প

সাজ্জাদ শরিফ

‘কবিতা হলো এমন একটা শিল্প, যা আমরা ভাষা দিয়ে লিখি, ধ্বনির মাধ্যমে মনের মধ্যে অর্থের আলোড়ন তৈরি করি। কবিতা কথা বলে সুর দিয়ে, ছবি দিয়ে। কবিতা হলো উপলব্ধির বিষয়।’

২৭ জুলাই রাত সাড়ে আটটায় বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত লেখালেখি কর্মশালা ২০২৬–এর তৃতীয় সেশনে ‘কবিতা’ বিষয়ে আলোচনায় এ কথা বলেন কবি ও প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। তিনি কবিতা লেখার কৌশল, কবিতার ইতিহাস, গদ্য কবিতা ও ছন্দ কবিতার পার্থক্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পুরো সেশন ছিল যেন কবিতার মতো। সমুদ্রের ঢেউ যেমন তীরে আছড়ে পড়ে ক্লান্ত মন আনন্দে ভরিয়ে দেয়, তেমনি সাজ্জাদ শরিফের সেশনটি মনের ভেতর কবিতা লেখার আনন্দ জাগিয়ে তুলেছে।

কবিতার ইতিহাস আলোচনায় সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘ধরে নেওয়া হয় কবিতার উদ্ভব হয়েছে আজ থেকে প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে। তখন গুহায় বসবাসরত মানুষ ছিল প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে জীবন যাপন করত। সেই সংঘবদ্ধ মানুষ তালে তালে লিখত, সুর করে গাইত। তারা বিশ্বাস করত, এতে প্রকৃতি তাদের ওপর সহানুভূতিশীল হবে।’

সাজ্জাদ শরিফ আরও বলেন, ‘একের পর এক ছন্দের ঐক্যই হলো কবিতা। আজও কবিতা মানুষকে সংঘবদ্ধ করে রেখেছে। আমাদের রীতিনীতি আলাদা, ধর্মীয় উৎসব আলাদা হতে পারে, কিন্তু কবিতার বেলায় যেন আমরা একসঙ্গে মিশে যাই। আমাদের একটাই পরিচয় হয় তখন—আমরা কবিতার মানুষ। কবিতা মানুষের মনে সুরের আবেশ তৈরি করে। কবি কখনো সরাসরি আমাদের বলেন, আবার কখনো বিভিন্ন উপমায় গভীর ভাবাবেগ প্রকাশ করেন।’

আরও পড়ুন

সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘কবিতা লেখার জন্য বেশি বেশি কবিতা পড়তে হবে, ছন্দ শিখতে হবে, মনের চোখ খুলে দিয়ে চারপাশের জগৎ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একটা সময় শব্দের অর্থকে পার করে যেতে হবে। তাহলেই তৈরি হবে কবিতা।’

প্রশিক্ষণের ফাঁকে সাজ্জাদ শরিফ কবিতা আবৃত্তি করে শোনান, অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমেই শেষ করেন সেশন। মনে হলো যেন কবিতার ভেতর ছিলাম পুরোটা সময়।

শব্দের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে গল্প আর কবিতা। তরুণ লেখকদের জন্য প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগটি বেশ প্রশংসনীয়। প্রতিটি সেশনেই শিখছি নতুন কিছু।

বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা