বন্ধুদের নিয়ে সোমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। রাস্তার ঠিক পাশেই বাড়িটি। সোমার জানালার দিকে তাকিয়ে আছি। হঠাৎ যদি দেখা দেয় একটু। কখন একপলক বাইরে তাকাবে, সে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বিল্ডিংয়ের দিকে তাকিয়ে দেখি, বিল্ডিং মনে হয় একটু বেঁকে আছে! আমার তো ভুল হওয়ার কথা না। প্রায়ই সোমাকে দেখতে এসে এ বিল্ডিং দেখা হয়।
বন্ধু জনিকে বললাম, ‘বিল্ডিং বেঁকে আছে কেন?’ জনি পাগলের প্রলাপ ভেবে হাসতে হাসতে মোবাইলে কিছু একটা করছে।
হঠাৎ সোমাদের বিল্ডিং কাত হয়ে যেতে লাগল। বিল্ডিংয়ের ভেতরের মানুষের আর্তচিৎকার। গাছ যেমন ধীরে ধীরে শিকড় উপড়ে পড়তে থাকে নিচের দিকে, তেমনি বিল্ডিংটিও ধীরে ধীরে পড়তে লাগল। একটু দূরে পাশের দোতলা বিল্ডিং ঘেঁষে থেমে গেল। তখন মনে হলো এটা কি ইট-কংক্রিটের বিল্ডিং নাকি প্লাস্টিকের কোনো বিল্ডিং।
কয়েক সেকেন্ড। আমি দৌড়ে বিল্ডিংয়ের মেইন গেট খুঁজে বের করলাম। সোমা যেন কোন রুমে থাকে? টেনশনে ভুলে গেলাম। প্রথমে ভেতরে ঢুকে দেখি কেউ নেই। এরপর সোমার ঘরে ঢুকে দেখি, সোমার ওড়না পড়ে আছে। অথচ ঘরে কেউ নেই।
কী হলো, সবাই গেল কই? সোমার কিছু হয়নি তো।
বিল্ডিং থেকে বের হয়ে দেখি এলাকার মানুষ ছুটছে দিগ্বিদিক। এক চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভেতরের সবাই কই?’ চাচা বলল, ‘যারা আহত হয়েছে, সবাইকে জানালা দিয়ে বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ আমি ভাবলাম, এত দ্রুত কী করে সম্ভব!
সোমাকে দেখতে হাসপাতালে যাব। দ্রুত বাইক স্টার্ট দেব। ঠিক তখনি ঘুমটা ভেঙে গেল। বাইরে করিম চাচা বাইক স্টার্ট দিয়ে আমার স্বপ্নটা ভেঙে দিল।
ঘুম ভেঙে ফেসবুকে ঢুকি। সোমার আইডি সার্চ করি। দেখি জানালায় দাঁড়িয়ে সেলফি পোস্ট করেছে সোমা। অনেক দিন হলো সোমা আমার থেকে দূরে সরে গেছে। কিন্তু সোমার জন্য আমার ভালোলাগা–ভালোবাসা এখনো অটুট। সোমা এখনো রয়ে গেছে আমার স্বপ্নে–সাধনায়।
চট্টগ্রাম বন্ধুসভা