রাজপথ ও অলিগলি দিয়ে আমাকে নিয়ে ছুটে চলে ত্রিচক্রযানটি! যদিও ভিআইপি রুটের আধিক্যের কারণে রিকশা রুট একটু বেশি অবহেলিত, তারপরও এলাকাভিত্তিক রিকশা ভ্রমণের আলাদা একটা ব্যাপার আছে! এই শহরে, প্রিয় সময়গুলোর একটি হচ্ছে একাকী উদ্দেশ্যহীন হয়ে রিকশাভ্রমণ!
মোটামুটি দূরের একটি গন্তব্য ঠিক করে বা ঘণ্টা-চুক্তি করে রিকশায় উঠে পড়া! যেতে যেতে দেখি চারপাশ দিয়ে কেটে চলে যায় অসংখ্য স্বপ্ন, ব্যথা, হতাশা, গ্লানি, সুখ, আনন্দে ভরা জীবনের সারি! এ যেন আশপাশের বিচিত্র মানুষগুলোর মধ্যে জীবনের অন্য রূপ খুঁজে ফেরা!
যানজটে পড়লেই দেখা যায়, সেই চকচকে চোখের বাদাম বিক্রেতা ছোট্ট ছেলেটার ড্যামকেয়ার ভাবমূর্তি, আধুনিক পোশাকে সজ্জিত কোনো রিকশা আরোহিণী। অথবা একাকী রমণীকে ঘিরে কিছু লোকের কামার্ত দৃষ্টি! পিকআপের ওপর শুয়ে-বসে থাকা চিমসে যাওয়া কিছু মুখ, তাদের মাঝে ফুটে ওঠে সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
আবার কোনো দামি প্রাইভেট কারে, সামান্য ঘষা লাগাতেই ড্রাইভারের নির্লজ্জ খিস্তি-খেউড়...মাঝেমধ্যে কোনো এক গাড়ি থেকে ভেসে আসা পুরোনো ফিডব্যাকের বিখ্যাত গান: ‘তবু কিছুই যেন ভালো যে লাগে না কেন, উদাসী পথের মাঝে মন পড়ে থাকে যেন, কোথায় রয়েছে ভাবি লুকিয়ে বিষাদ তবুও...!’
দেখতে দেখতে হঠাৎ জ্যাম ছুটে যায়, গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে এক্ষুনি, এই ভেবে গাড়ি-রিকশাগুলো তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে রাস্তায় আবারও জট লাগিয়ে ফেলে! বেঁচে থাকুক এই শহর, বেঁচে থাকুক রিকশা, সদাজাগ্রত থাকুক মনের ইচ্ছাগুলো।
লেখকের ঠিকানা: মালিবাগ, ঢাকা