পেঁয়াজের ভাঁজে ভাঁজে যে রং লুকিয়ে থাকে, সেই রকম রং তোমার পরনে। দোলনার মতো ঝুলে আছে আঁচল। আঁচল ছুঁয়ে গেছে লাল ফ্লোর। ফ্লোরের প্রতিটি ফোঁটা রক্ত আমি। তুমি আমার লাল রক্ত পায়ে জড়িয়ে, আলপনা আঁকতে আঁকতে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাচ্ছ নীল আকাশে। ধরতে চাইছ ভোঁকাট্টা সব ঘুড়ি।
আর আমি তোমার ভালোবাসায় রক্তাক্ত।
পুরোনো দালানবাড়ির ইট-সুরকিতে তুমি যেন পানাম নগরের কারুকার্য। দাঁড়িয়ে আছ দেবী মূর্তির মতো। যুগলবন্দী পাহাড়দ্বয় অভ্র ভেদ করে যেন এক্ষুনি আমাকে ছোঁবে। এক হাতের আঙুল ধরে আছে অন্য হাত। হাতের লাল নীল কাচের চুড়ি যেন লোহার পেরেক। আমি গেঁথে আছি প্রাচীরের কার্নিশে অবহেলায় বেড়ে ওঠা পাকুড়ের মতো।
আর আমি তোমার ভালোবাসায় রক্তাক্ত।
খোঁপা খোলা প্যাঁচানো চুল যেন কাঁটাযুক্ত বেতগাছ। ক্ষতবিক্ষত করে আমাকে। ঈশান কোণে জমে থাকা কালবৈশাখী মেঘের মতো কালো চুল ঝড় তোলে উঠনে। আমি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাই কৃষকের টিনের চালার মতো। আমার প্রতিটি রক্তকণা ফলবতী গাছের গোড়ায় সার হয়ে ছড়িয়ে আছে। তাতে তুমি বেড়ে ওঠো আকাশপানে।
আর আমি তোমার ভালোবাসায় রক্তাক্ত।