বুকের ভাঁজে অজস্র ব্যথা

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

একদিন নিরুদ্দেশ হব,
এই ছায়া ঢাকা মায়াবী পৃথিবীর অলকে!
ক্যালেন্ডারের প্রতিটি পাতায় একটি ক্ষতের
ব্যান্ডেজ পেঁচিয়ে।
রক্তাক্ত ডায়েরিতে কিছু জীবাণুনাশক ইনজেকশন ফুঁসে,
যাত্রী হব কোনো এক অজানার পথে!

হৃদয়ের ক্যানভাসে অর্ধসমাপ্ত স্বপ্নগুলো রোজ ঝরে পড়ে নিভৃতে।
যত দিন ফুরাবে যত শতাব্দীর মৃত্যু হবে চোখের পলকে,
ঘোড়ার দৌড়ের মতো ততই কিছু প্রাণের স্পন্দন যাবে ক্ষয়ে।
কিছু আত্মার মরণ হয় এখনো সঙ্গোপনে দুচোখের অগোচরে।
কেউ ভালো নেই আমার চেনা শহরের অলিতে-গলিতে!
ব্যথায় ভারী হয়ে ওঠে এক জনমে আজন্ম বেদনা সয়ে।

অভিযোগ গুছে অভিমানের ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে নির্বোধ বালিকার বেশে,
চলে যাব এই যান্ত্রিক জীবনের ধূলিকণা গায়ে মেখে।
দুঃসহ মনের প্রাচীর অজস্র খণ্ডে ভেঙে হারাব পথের শেষে।
বুকের ভাঁজে আর কত ব্যথাগুলো রাখব সাজিয়ে?

বসন্তের আগে শীতের কাঁথায় মুড়িয়ে যে প্রেম ঝরে গেছে অবেলায় শুকিয়ে!
তাতে পুড়ে পুড়ে ছাঁই হয়েছে কাঠফাটা রৌদ্রের নিয়মে।
এই পৃথিবীর মায়ায় আমায় আর রেখো না কেউ জড়িয়ে।
দিন শেষে গোধূলির আলোয় রক্তিম হয় পশ্চিমাকাশে,
পৃথিবীর গলিতে কিছু দুঃখ রয়ে যায় স্মৃতির দুয়ার খুলে।
আমি আমরণ রয়েছি সেথায় এক অদ্ভুত রহস্যময়ী হেসে।