ঝিঁঝিপোকা

প্রতীকী ফাইল ছবি
মডেল: নাহিদ ও মিথিলা

জানালার ওপাশে ঝিঁঝি পোকার ডাকে কান ধরে আসছে। শীতকালে এরা একটু বেশি জোরেই ডাকে বোধ হয়। মানুষের মতো লেপ-কম্বলে মুড়িয়ে ওদের তো শীত নিবারণের কোনো ব্যবস্থা নেই; থাকলে হয়তো ডাকার তীব্রতা কিছুটা কমে আসত! মাটির ঘরের জানালায় এত ফাঁকফোকর থাকে, শীত না এলে বোঝার উপায়ও ছিল না। তবে সে রকম খারাপ লাগছে না। ঢাকায় থেকে শীত বলে একটা কিছু আছে, সেটা এক প্রকার ভুলতেই বসেছিলাম।

এক কাপ কফি বা চা হলে মন্দ হতো না! এখন চা-কফি বানাতে হলে মাটির উনুন ধরাতে হবে। ‘থাক’ বলে আবার লেপে মাথা লুকিয়ে ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা করতে লাগলাম।

হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।

‘কে?’

কোনো সাড়াশব্দ নেই । তবে বাইরের ব্যক্তি আমার অনুমতির অপেক্ষা না করেই হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে এল।

‘নিতু, তুমি?’

‘ঝিঁঝির ডাক তুমি একাই শুনবে বলে মনে হচ্ছে?’

নিতুর ওপর একপ্রকার রাগ করেই গ্রামের এই ঝুপড়িতে আশ্রয় নিয়েছি কয়েক দিন হলো। ইচ্ছা ছিল বাকি জীবনটা একাই থাকব। তবে নিতুর ওপর রাগ পড়ে গেছে গতকালই। পুরুষ মানুষের হেরে যাওয়া নাকি বারণ, সে জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও এখানে থাকা। তবে এখন আর মিথ্যা রাগ পুষে রাখার মানে হয় না।

‘আচ্ছা বাইরে চলো। দুজন একসাথেই শুনি।’

ওর ঠান্ডা হাত ধরে যতক্ষণে বাইরে এসেছি, ততক্ষণে মনে হলো ঝিঁঝিরা সব ঘুমিয়ে পড়েছে।

‘আরে...শীতের রাতে তো ঝিঁঝি ডাকে না!’ মাথার ভেতর বিদ্যুৎ খেলে গেল। তাহলে এতক্ষণ আমি কী শুনলাম? ঝিঁঝির ডাক নাকি সবই আমার কল্পনা?