চিরকুটে বন্ধুত্ব

প্রতীকী ছবি
বন্ধুসভা

স্যাঁতসেঁতে ভাব ধরেছে। বেশ মলিন। সাদা পাতায় কালো কলমের আঁকা আবছা ভেসে আসে। আধখোলাই দেখা যায়। একটু আধটু, অস্পষ্ট। তবে নীল কাগজেরগুলো বেশি মনে ধরে। যদিও তারতম্যের বাইরে। তবুও, প্রিয় জিনিস তো প্রিয়ই হয়। সব তুলনার ঊর্ধ্বে।

তাইতো আজও পুরোনো বাক্স খুলতেই নীল–সাদার সমাহার। খুব যত্ন করেই রাখা আছে ওসব। ওসব যে মনে গাঁথা। নীল আর সাদার চিরকুটে প্রতিশ্রুত অনন্ত ভালোবাসা। সাথে আধখোলা ডায়েরির ভাঁজে গোলাপের শুকনো পাতা। সতেজতার সুবাস ফুরিয়েছে। তবুও ওই পাতা আজও ভ্যাপসা গন্ধে মাখা। আর তার পাশে আজও সেই প্রিয় বন্ধুর নামটি আঁকা!

সেই দিন তার অনুপস্থিতিতেও মনে শান্তি ছিল। কারণ, হৃদয়জুড়ে জানা ছিল ভালোবাসার শহরজুড়ে সে একান্তই আমার ছিল। অনেকটাই ছিল। প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা বন্ধুত্বের ভালোবাসা। দুঃখ কষ্টের ঊর্ধ্বে বেঁধে রাখা, দূরে গিয়েও ছেড়ে না যাওয়ার আস্থা, বন্ধুত্বের শ্রেষ্ঠ বিশ্বাসের জায়গা, সবটাই ছিল সে, সবটাই!

ছিল! আর আজ, আজ সে নেই। নেই সেই পুরোনো বন্ধুত্ব। নেই সেই পুরোনো আস্থার জায়গা। আর না আছে সেই পুরোনো প্রতিশ্রুতির অপেক্ষা! কারণ, জানাই আছে, সে আর ফিরবে না। সেকালের গভীরে বন্ধুত্ব যে আজ অন্য কোথাও ঠাঁই নিয়েছে। আমার কাছে আসা প্রতিদিনের নীল–সাদা চিরকুটের মেয়াদ ফুরিয়েছে। সেই চিরকুটের গন্তব্য আজ অন্য কোথাও। এই পুরোনো পথ ভুলে ডাকপিয়ন আজ নতুন পথ চিনেছে। এদিকটায় আসে না আর কোনো চিরকুট। হয়তো তার বন্ধুত্বের মেয়াদ এতটুকুই ছিল।

তবুও আজও আমার ডায়েরিজুড়ে তাকে নিয়েই গল্পের পাতা, ছন্দে ছন্দে কবিতা লেখা, তবে কেন? জানি সে ফিরবে না, তবুও কেন? তবে এটা কি মায়ার টান? এটাই কি বন্ধুত্বের গভীরতা? জানি সেই পুরোনো বন্ধু আর ফিরে আসবে না, তবুও আজও কেন তার ফিরে আসার অক্লান্ত অপেক্ষা? হয়তো এটাই বন্ধুত্ব, এটাই ভালোবাসা!

শিক্ষার্থী (১০ম), বেগম রোকেয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, রংপুর।