ব্যালকনিটা ভীষণ প্রিয় ছিল বিদিশার। নিষাদের সঙ্গে কাটানো অজস্র মুহূর্তের সাক্ষী এই একচিলতে জায়গা। মাসখানেকের সাজানো সংসারে আচমকা একদিন ফোন এল—ও নেই! উফ্, কী দুঃসহ যন্ত্রণা! তারপর কেটে গেছে অনেকটা দিন।
কীভাবে সেই দুঃসময় পার হয়েছে, কেবল বিদিশাই জানে। ঋণের দায়ে এখন ঘরটাও বিক্রি করতে হচ্ছে। বাড়ির দলিলপত্রের জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও আলমারির লকারটা খুলতে হলো। নিষাদ চলে যাওয়ার পর এ ঘরে তেমন একটা আসা-যাওয়া হয় না। বিশেষ করে আলমারিতে ভাঁজ করে রাখা কাপড়গুলো দেখলে কান্নায় দম আটকে আসে।
কাগজগুলো হাতে নিয়ে খানিকটা ঘাঁটাঘাঁটি করতেই হঠাৎ বিদিশার নজরে এল একটি হলুদ খাম। ওপরে কোনো ঠিকানা নেই; শুধু লেখা—‘মুগ্ধতা’। ভাঁজ করা কাগজটা খুলতেই দেখে, নিষাদের হাতের লেখা!
প্রিয় মুগ্ধতা,
শেষ চিঠিটা লিখতে বসে ভাবছি, তোমাকে পেলে মন্দ হতো না! কিন্তু আমার তো সে জোর নেই। তোমার মায়ের চোখের জলে হার মেনে গেছি; আমি পারিনি স্বার্থপর হতে। ভালো থেকো। শুধু একটাই আক্ষেপ—আমাদের উপসংহারটা অমীমাংসিতই রয়ে গেল; প্রাপ্তি কেবল শূন্যতা।
পায়ের তলার মাটিটা যেন মুহূর্তে সরে গেল বিদিশার। নিষাদের মৃত্যুটা কি তবে...