মহাসময়
প্রাচীন পাখির ঠোঁটে বর্ণিল বর্ণমালায়
লিখেছে রাইম স্যামুয়েল কলরিজ
অভিমানী বৃষ্টির কাছে শূন্য নদী অসহায়
শুকনো মাস্তুল‚ নাবিকের কার্নিশ।
যে মৃত্যুর অপরিণত দূরত্বে আছে বেঁচে
সুদর্শন কবির দেশীয় হৃৎপিণ্ডের তন্তুরা
হবে সে দূরত্বের অবসান‚ সময়কে বেচে
যাবে গহিন অরণ্যে‚ ছিঁড়ে খাবে জন্তুরা।
রক্তের হ্রদে যাযাবর ক্ষুধার্ত মাংসাশী মাছ
পিরানহা-পিক্সেল কাটবে সাঁতার, চেয়ে দেখো তুমি।
তত দিনে আমি তৃতীয় স্তরের এক সুস্বাদু খাবার
মহাবিশ্বে বেঁচে খুঁজি পথ শুধু পালিয়ে যাবার।
অবুঝ শিশুর মতো সমস্ত নিষিদ্ধ-প্রসিদ্ধ ভাবনার
একটাই জানি ঠিকানা‚ তোমার ভেতর, তুমি জানলেই না।
আমি আছি মহাবিশ্বের দুর্গপ্রাচীরজুড়ে
উড়ি মহাসময়ের মহাপ্রলয়ে‚ তুমি মানলেই না।
প্রতিমা
প্রতারিত চোখ হ্যালোজেন বৃষ্টি চেনে না ইদানীং‚
ওদের বেওয়ারিশ এবং গন্তব্যহীন করে গিয়েছে
কাউন্ট ড্রাকুলার মতো এক রক্তপিপাসু।
দেখি অকালবোধন শেষে অরণ্যে রোদন
তার নিচে চাপা রাখা থাকে অজস্র অনার্য মোহ‚
যার খোঁজ মেলেনি কোনো জাগতিক রাডারে।
স্মৃতি-বিয়োগের মোহে উড়ে যাই ফানুসের দলে‚
এ মোহ ইথারের মতো অলীক জেনে
নিশিযাপন হয় কেবল স্মৃতির অবগাহনে।
সে—বারবার দল পালানো পরিযায়ী পাখির মতো
‘অবিশ্বাস ও ঘৃণার প্রতিমা শাশ্বত’।
ইজি
ইজিচেয়ার
টেনে বসি ফের
দেয়ালের মুখোমুখি
চোখ ফুঁড়ে বের হয় স্বপ্ন
যা আমাদের ব্যক্তিগত ভীষণ
‘ধরে নাও,
ছুঁয়ে ফেললাম
আঘাতে নীল
কোনো অনাদি মন
অথবা না–ও ধরতে পারো,
কোনো নিভে আসা
লালচে আগুন
চোখের কাজল
মুছে নাও।’
চুমুতে অতিক্রম গোটা পৃথিবী
নতজানু কাশফুল, প্রার্থনা
অর্থ তোমায় মনে পড়ে
টিকটিকি বলে ওঠে
ঠিক-ঠিক-ঠিক!
ঠিক তখনই,
আমি বের হই
নিজের ভেতর থেকে
পৃথিবীর অমীমাংসিত পথে।