পায়ে পায়ে ৬৪ জেলা
৬৪ জেলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জীবনধারণের ক্ষমতা, ভাষা, একেক জায়গায় জীবনযাত্রা একেক রকম। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা হলেও অঞ্চলভেদে এর ব্যবহার ভিন্ন রকম, তবে মূল ভাষা ঠিক থাকে।
হেঁটে হেঁটে দেশ দেখার ব্যাপারটা চলার পথে অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। একজন বাংলাদেশি হয়ে এমন কাজ করতে পারেন, এটা যেন অনেকের বিশ্বাসই হচ্ছে না। তাই রাস্তায় চলার পথে অনেকেই তাঁকে বিদেশি ভেবে ইংরেজি বা হিন্দি ভাষায় কথা বলেছেন। প্রত্যুত্তরে বাংলা ভাষা শুনে আশাহতও হয়েছেন। কেউ ভেবেছে বিকাশ কর্মী, কেউবা সিম বিক্রেতা, কেউ আবার এনজিওর লোক ভেবে বাড়ির উঠানে নিয়ে গেছেন। আবার রাস্তায় অনেকে পাগল বলেও সম্বোধন করেছেন। পড়ার সময় অবাক হচ্ছিলাম বিষয়গুলো চিন্তা করে।
‘পায়ে হেঁটে ৬৪ জেলা’ বইয়ে বাবর আলী হেঁটে তার বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণের কথা এভাবেই বর্ণনা করেছেন। পুরো ভ্রমণে লেখকের সঙ্গে বিভিন্ন সময় অনেকে সঙ্গী হয়েছেন, সঙ্গে হেঁটেছেন মাইলের পর মাইল, দিনের পর দিন। কিন্তু প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি একাই হেঁটেছেন। মাঝে অনেকে যুক্ত হয়েছেন, আবার চলেও গেছেন। কিন্তু তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের স্বপ্নের সঙ্গে হেঁটে চলেন এবং সফল হয়েছেন।
দিনের আলোয় লেখক হাঁটাহাঁটি করেছেন। বাংলার প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি পথচলা কতটা আনন্দের ও শান্তির তা তাঁর লেখা পড়েই কিছুটা আন্দাজ করা যায়। দিনের আলো শেষে রাতে কোথায় থাকবেন? এর জন্য অবশ্য লেখককে কষ্ট করতে হয়নি তেমন। কর্মজীবন, সাংগঠনিক জীবন ও শিক্ষাজীবনের পরিচিত অনেকেই এগিয়ে এসেছেন তাঁকে সহায়তা করতে। ৬৪ জেলায় ৬৪ দিন তিনি ৬৪ স্থানে রাত কাটিয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই কারো বাড়ি নয়তো বাসা। হোটেল বা বাংলোয় কমই ছিলেন।
আপ্যায়নের দিক দিয়ে বাঙালি সবাই যেন এক। মায়ের মততা নিয়ে প্রতিটি বাড়ি বা বাসার গৃহকর্ত্রী লেখকের যত্ন করেছেন। রাতে যেমন রান্না করে খাইয়েছেন, তেমনি শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালেও রান্না করে সকালের নাশতা করিয়ে আবার সঙ্গে খাবার দিয়ে দিয়েছেন। যেন আন্তরিকতার সবকিছুই রয়ে যায় এই সবে।
৬৪ জেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাটের অনেক চিত্র উঠে এসেছে বাবর আলীর লেখায়। ফুটে উঠেছে বাজার–হাটসহ দোকানপাটের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। চায়ের দোকানে মিনি সিনেমা হল, গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে মানুষের চলাচল, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসা-যাওয়া, মাঠে কাজ করা কৃষক, বাড়ির উঠানে মা সন্তানকে ভাত খাওয়ানোর দৃশ্য, গরুর গাড়ি ইত্যাদি। বিভিন্ন নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য, মানুষের সঙ্গে প্রকৃতি ও নদীর মেলবন্ধনও উঠে এসেছে লেখায়।
লেখকের ঠিকানা: নরসিংদী