প্রতিবছর ইতুদের পেয়ারাগাছে অনেক পেয়ারা হয়। কিন্তু এ বছর খরার কারণে পেয়ারার গুটিগুলো শুরুতেই ঝরে গেছে। যে দু-চারটা পেয়ারা ছিল, সেগুলো কাঠবিড়ালি ও বুলবুলি সাবাড় করল। গাছের একটা মগডালে এখনো পেয়ারা ঝুলে আছে। প্রতিদিন ভোরে কাঠবিড়ালি আসে। পেয়ারাটা পেকেছে কি না দূরে বসে যাচাই করে। বুলবুলিও যাচাই করে। ইতুও যাচাই করে। তবে বুলবুলি সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। এমন মগডালের পেয়ারা খাওয়ার অধিকার কেবল বুলবুলিরই আছে। কেউ এই মগডাল থেকে পেয়ারা নিতে পারবে না। এমন কি কাঠবিড়ালিও পারবে না। নিরাপদ দূরত্বে বসে কাঠবিড়ালি মগডালে যাওয়ার অঙ্ক কষতে লাগল। বুলবুলি কাঠবিড়ালিকে দেখে শিস দিয়ে মুচকি হাসতে থাকে। বুলবুলির হাসি দেখে কাঠবিড়ালির জেদ আরও চাপে।

একদিন খুব ভোরে ইতুর ঘুম ভাঙল। গাছের নিচে গিয়ে চোখ চড়কগাছ। কাঠবিড়ালি মগডালে ঝুলে আছে। পাকা পেয়ারাটা হাতে নিয়ে কুড়মুড়ে হাসছে। তার পাশেই মন খারাপ করে বসে আছে বুলবুলি। ইতুর মন ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। সে মনে মনে বুদ্ধি আঁটতে লাগল। ইতু বলল,
—কাঠবিড়ালি ভাই, জানো, আমি তোমাকে নিয়ে দারুণ ছড়া শিখেছি। খুব মজার ছড়া। শুনবে?
—না গো, আরেক দিন শুনব। আমি বরং পেয়ারাটা মজা করে খাওয়া শুরু করি।
—শুনেই দেখো না। খুব মিষ্টি ছড়া। শুনলে তোমার খুব ভালো লাগবে। আর ছড়াটা শুনতে শুনতে মজা করে পেয়ারা খাবে।
—তুমি যা বলেছ, ঠিক আছে। ছড়া কাটো।
—আমার একটা শর্ত আছে, কাঠবিড়ালি ভাই।
—আবার শর্ত কেন? আগেই বলে রাখছি, পেয়ারার ভাগটাগ কিন্তু দিতে পারব না।
—পেয়ারার ভাগ আমি চাই না। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে, আমি ছড়া কাটব আর তুমি নাচবে। তুমি তো খুব ভালো নাচতে পার।
—আচ্ছা, তবে তা–ই হোক। তোমার ইচ্ছে পূরণ করতে আমি নাচব। কী বলো হে, বুলবুলি ভাই?

বুলবুলি কোনো কথা বলল না। বোকার মতো ইতু ও কাঠবিড়ালির কথা শুনছে। ইতু ছড়া কাটতে শুরু করল, ‘কাঠবিড়ালি কাঠবিড়ালি/পেয়ারা তুমি খাও/ গুড়-মুড়ি খাও...।’ ইতুর ছড়ার সঙ্গে হাত–পা ছুড়ে কাঠবিড়ালি নাচতে শুরু করল। এমন মগডালে নাচতে পারা আসলেই কঠিন কাজ। ইতু ছড়া কাটছে, কাঠবিড়ালি নাচছে। হঠাৎ মড়াৎ করে মগডাল ভেঙে গেল। পড়ি পড়ি করেও কোনোরকমে বেঁচে গেল কাঠবিড়ালি। কিন্তু পাকা পেয়ারাটা ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল। ইতু দ্রুত পেয়ারাটা তুলে নিয়ে নলকূপের দিকে চলে গেল। ইতুর চালাকি বুঝতে পেরে কাঠবিড়ালি ও বুলবুলি চক্ষু ছানাবড়া করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

বন্ধুদের লেখা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন