পুনর্মিলনে

অলংকরণ: তুলি

আমাদের আবার দেখা হওয়ার সেই দৃশ্য মস্তিষ্কে সাজিয়েছিলাম সাড়ে সাত মাস ধরে। তবে ভুল করে একটিবারও ভাবিনি, বিধাতা ঠিক এমন কিছুই ঘটাবেন।

আমাদের দেখা হয়েছে চিরচেনা একটি ঘরে। সেই আবছা অন্ধকার ঘরটিতে আমার ডান দিকে ঠিক দুই কদম দূরত্বে বসে আছ তুমি। আলোছায়ার মধ্যে তোমার চোখে চোখ পড়তেই আমি ভুলে গেলাম, এ ঘরে তুমি ছাড়া আরও দশটা মানুষ আছে। সে সময় ঘরের দেয়ালে ঝোলানো বিশাল পর্দায় বিপ্লবী নায়কের করুণ মুখ আমাকে আর টানছে না। উল্টো আমার চোখ দুটো উপচে পড়ে যেতে চাইছে মাটিতে। তারা হামাগুড়ি দিয়ে চলে যাবে তোমার দিকে। দেখবে তোমার নিকোটিনে পুড়ে কালো হওয়া ঠোঁট দুটি। জিজ্ঞাসা করবে, তুমি ভালো আছ কি না? দুপুরে ভাত খেয়েছ কি না? তোমার পরীক্ষা কবে? ইত্যাদি সব প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

তবে আমার মুখটি এখনো পর্দার সেই নায়কের দিকে। কিন্তু চোখ ভরে আমি দেখছি যেন তোমাকে। আর বলছি তোমার ঈষৎ কালো সেই ঠোঁটের কথা। আমি বলছিলাম, তোমার আগুন একজোড়া চোখের কথা, যা আমাকে ক্রমেই সমাজ বিচ্ছিন্ন করে তুলছিল। তোমার ঠোঁটের ধ্বনিতে, তোমার চোখের আগুনে দিশাহারা হচ্ছিল সব সমাজ–সংসার, আর কুৎসিত সব নিয়মেরা। আমি সেই আগুনে খুব করে পোড়াচ্ছি তাদের, যেন তারা তোমার আমার মধ্যে জেঁকে বসতে না পারে।

অথচ এত সব ছাই করে, অতীত ঘুরে বর্তমানে ফিরেই দেখতে পেলাম, আমাদের মধ্যের সেই দুই কদম দূরত্বে আজ হাজির আছে সাতটি মহাদেশ, তাদের ভেতরকার সব সাগর, উপসাগর, দ্বীপ, উপদ্বীপগুলো। মুখ ফেরাতেই মনে হলো, আচ্ছা, এ ঘরের আর দশটি মানুষ জানে এই সাত মহাদেশের কথা? জানে, তোমার আমার অন্তরঙ্গ সেই অতীতের কথা? যে অতীতে কথা বলতে তুমি, শোনা যেত আমাকে। আয়নায় মুখ থাকত আমার, আর দেখা যেত তোমাকে!

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়