পৃথিবীর শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি প্রত্যন্ত গ্রাম, নাম আন্ধারপুর। গ্রামের এক প্রান্তে একটি প্রাচীন কবরস্থান ছিল, যার বয়স প্রায় ২০০ বছর। কবরস্থানের চারপাশে ঘন জঙ্গল। গাছগুলো এত ঘন যে দিনের আলো সেখানে পৌঁছাতে পারে না। গ্রামবাসীরা বলত, সেখানে একটি পুরোনো মোমবাতি আছে, যা রাতের বেলা অদ্ভুতভাবে জ্বলে ওঠে। কেউ জানে না কে সেটি জ্বালায়, কিংবা কেন।
একদিন গ্রামের তরুণ আবির কৌতূহলবশে বন্ধুদের নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বড়রা নিষেধ করলেও তারা মানল না। রাতের অন্ধকারে সবাই বাতি হাতে কবরস্থানের দিকে রওনা দিল।
যতই গভীরে এগোয়, বাতাসের গর্জন যেন ভয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়। হঠাৎ তারা দেখতে পেল সেই মোমবাতিটি, যা নিভে নিভে জ্বলছে। আবির এগিয়ে গিয়ে মোমবাতিটি ধরতেই চারপাশে একটি বিকট শব্দ হতে লাগল। সবাই আতঙ্কিত হয়ে পেছনে তাকাল। কিন্তু কিছুই দেখা গেল না।
আবির মোমবাতি হাতে নিয়ে বলল, ‘এটা একটা চিহ্ন। এখানে কিছু লুকানো আছে।’ কথাটি শেষ হতে না হতেই মাটির নিচ থেকে একটি কাঠের বাক্সের মতো কিছু উঁকি দিল। সবাই মিলে সেটি টেনে তুলল। বাক্সটি খুলতেই দেখতে পেল প্রাচীন কাগজে লেখা কিছু বার্তা।
‘মানুষের মন যত দিন অন্ধকারে থাকবে, তত দিন অন্ধকার আপনাদের গ্রাস করবে। এই মোমবাতি আলো দেখানোর জন্য নয়, বরং সত্য খোঁজার জন্য। যে সত্যের আলো মানুষকে মুক্তি দেয়।’
সাংগঠনিক সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভা