উৎসবমুখর আনন্দোচ্ছল একটি দিন

কবি ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের হাত থেকে সনদ ও উপহার গ্রহণ করছেন লেখকছবি: সংগৃহীত

‘কবিতা কি বোঝার বিষয়?’ ‘গল্পের শব্দসংখ্যা নির্ধারণের মাধ্যমে লেখকের ভাবনাকে কি সীমাবদ্ধ করা হয়?’ ‘ফিচার ও প্রবন্ধের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?’ নবীন লেখকদের এমনই সব প্রশ্নের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দিয়েছেন কবি, লেখক ও কথাসাহিত্যিকেরা।

২ জুন প্রথম আলো কার্যালয়ে বন্ধুসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৩’। উৎসবের খবর জানার পর থেকে খুবই আগ্রহ নিয়ে এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত দিনটি এল এবং আনন্দোচ্ছল পরিবেশে অতিবাহিত করলাম।

‘সেরা ১০ লেখক বন্ধু’–কে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ পুরস্কারটি আমি না পেলেও পরবর্তী সময়ে যাতে পাই, তার জন্য চেষ্টা করব।

ওই দিন তীব্র গরমের মধ্যে যখন বন্ধুসভার অফিসে পৌঁছলাম, দেখি ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক বন্ধু এসে উপস্থিত। তাঁদের চোখেমুখে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির ছাপ থাকলেও সবার মধ্যে উৎসাহ এবং নতুন কিছু জানার আগ্রহ স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল। সকালের নাশতার পরে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। সংক্ষিপ্ত পরিচয়পর্ব ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার পর কবিতা নিয়ে প্রথম অধিবেশনে আলোচনা করেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক ও কবি সাজ্জাদ শরিফ। মনোমুগ্ধকর আলোচনা ও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি খুব সহজভাবে তুলে ধরেন তিনি। আলোচনার পর কবিতা লেখা ও বোঝার প্রচলিত ধারণার কিছুটা হলেও নিজের মধ্যে পরিবর্তন হয়েছে।

দ্বিতীয় সেশনে গল্প নিয়ে আলোচনা করেন শাহনাজ মুন্নী। গল্পের প্লট সংগ্রহ, সেটা মনে মনে সাজানো ও সবশেষে উপস্থাপন করা—এ বিষয়গুলো তিনি নিজের গল্প রচনার অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরেন। তৃতীয় সেশনে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক নবীন লেখকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। নিজের লেখক-জীবনের সংগ্রাম এবং বর্তমান অবস্থায় পৌঁছানো—এ বিষয়গুলো তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

প্রথম আলো কার্যালয়ে উৎসব শেষে সারা দেশের নির্বাচিত লেখক বন্ধুদের সঙ্গে আলোচক ও অতিথিরা
ছবি: তানভীর আহেম্মদ

এরপর ‘সেরা ১০ লেখক বন্ধু’–কে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ পুরস্কারটি আমি না পেলেও পরবর্তী সময়ে যাতে পাই, তার জন্য চেষ্টা করব। নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বন্ধুদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। তাঁদের লেখালেখির আগ্রহের বিষয়, কোন বিষয়ে পড়তে পছন্দ করেন, সমসাময়িক সাহিত্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অনেক কথা হলো।

দিনের সবশেষ সেশনে আলোচনা করেন প্রথম আলোর সাহিত্য সম্পাদক আলতাফ শাহনেওয়াজ। তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল ফিচার। সহজ ভাষায় কীভাবে উৎকৃষ্ট ফিচার লেখা যায়, সেটা তাঁর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় উঠে আসে। পরে মুক্ত আলোচনায় বন্ধুরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, অনুষ্ঠান নিয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। সবশেষে মনোরোগ চিকিৎসক ও কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পর নিজেকে অনেক সমৃদ্ধ ও ঋদ্ধ মনে হচ্ছিল। লেখালেখি বিষয়ে আত্মবিশ্বাস যে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বলা বাহুল্য। উৎসবমুখর পরিবেশে নবীন লেখকদের নিয়ে বন্ধুসভার এই আয়োজন যে পুরোপুরি সফল, এ কথা বললে বোধ হয় অত্যুক্তি করা হবে না।

বন্ধু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা