আকাশের ঠিকানায় চিঠি

প্রতীকী ছবি

প্রিয়তমাষু অনিন্দিতা,

এই তীব্র বর্ষায় একগুচ্ছ কদমের শুভেচ্ছা জানবে। যখন তোমায় লিখছি, আমার আকাশ তখন বাদল মেঘে পরিপূর্ণ। অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। বর্ষা আমার কখনো প্রিয় ছিল না। কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ঘোরায় সে, বৃষ্টিকে মনে হয় আকাশের কান্না। একধরনের ভারী পরিবেশ চারদিক বিরাজ করে, আর বৃষ্টি আকাশের কান্না হয়ে পৃথিবীর পরে ঝরে পড়ে। কারও কান্না বোধ হয় কারও জন্য সুফল নিয়ে আসে। তা যদি নাই হবে, তবে আকাশের কান্নায় গাছগুলো অমন হাসছে কেন বলতে পারবে?

তুমি বর্ষা ভালোবাস। কারণ, কান্না তোমায় গাছেদের মতো হাসায়, তোমার গাঢ় চোখে বিজলি চমকায়, তোমার মুখে ওঠে চিরহরিৎ হাসির রেখা। আমার কান্নার বেলাতেও হয়তো তাই। সে জন্যই আমি আমার সব অনুভূতিকে চাপা দিয়ে রেখেছি। সেগুলো গুমরে ওঠে, চিৎকার করে কাঁদে, কেউ দেখতে পায় না। আর বুঝবে! সে আশা নিরাশা। আমি সেসব দেখতে না পেলেও বেশ বুঝতে পারি।

এই বিশাল পৃথিবীতে অমন মানুষ খুব কমই আছে, যারা চোখে না দেখেও অনুভবে বুঝতে পারে।
আচ্ছা, তুমি কি বুঝতে পার আমার অব্যক্ত কথামালা? আমি যে তোমায় ছোঁয়ার জন্য বারবার হাত বাড়িয়ে দিই আর প্রতিবার তুমি আবছায়া হয়ে সরে সরে যাও! ধরা যদি নাই দেবে, কেন তবে মনের পরে অমন উৎপাত কর?

অনিন্দিতা, কেন আমি দিগন্তে তাকিয়ে তোমাকে দেখি? কেন এই ঘনঘোর বরষার বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে আমার চোখে তাকিয়ে মিটিমিটি হাস? আমার বুকের পরে মেঘ ঘনিয়ে আসে, অঝোরে নামে শ্রাবণধারা। চশমার কাচ কুয়াশায় ঢেকে যায়। আমি আর কিছু দেখতে পাই না, আমি আর কিছু লিখতে পারি না...

ইতি
অপ্রেমিক প্রেতাত্মা

বন্ধু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা