মায়াবতীদের আসলে মন খারাপে মানায় না, তাদের হাসতে দেখতে যেমন সুন্দর দেখায়, তেমনি তাদের চোখের মায়ার ওপরও প্রেম বাড়তে থাকে।
শীতের বিকেল। কর্ণফুলীর নদীসংলগ্ন অভয়মিত্র ঘাটের এক কোণে চড়ুই পাখির মতো সরল এক জুটি রিসাত ও অনন্যা নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। দুজন দুই দিকে একমনে তাকিয়ে কী যেন দেখছে। হঠাৎ করে এই চড়ুই জুটির নিশ্চুপ থাকাটা অনেক কৌতূহলের জন্ম দেয়।
এভাবে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর হঠাৎ ধৈর্য হারিয়ে ফেলে রিসাত। গায়ে জড়ানো চাদর ঠিক করতে করতে অনন্যাকে জিজ্ঞেস করে—
‘তোমার এত মন খারাপ হয় কেন?’ অনন্যা একটু আশ্চর্য হয়ে রিসাতের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল—
‘কই আমার তো মন খারাপ হয় না!’
‘তোমার প্রায় সময়ই মন খারাপ হয়। কিন্তু কেন মন খারাপ হয় তুমি তা বল না।’
‘তুমি পাঞ্জাবির সঙ্গে কেন চাদর গায়ে জড়াও, তা কি আমি জিজ্ঞেস করেছি কখনো?’
‘তা অবশ্য করো নি। তবু একজন মায়াবতী যদি শাড়ি পরে সঙ্গে গোলাপি রঙের শাল গায়ে জড়িয়ে আমার পাশে বসে থাকতে পারে। তাহলে আমিও সেই মায়াবতীর পাশে পাঞ্জাবির সঙ্গে চাদর গায়ে জড়িয়ে বসে থাকতে পারি।’
অনন্যার মুখে মৃদু হাসি দেখতে পেল রিসাত। অনন্যাকে হাসতে দেখলে রিসাতের মনে যেন শীতলতা অনুভূত হয়। ‘দেখো, মাঝেমধ্যে মানুষের মন খারাপ কোনো কারণ ছাড়াও হয়। কিন্তু কেন হয়? তার উত্তর গায়ে জড়ানো রঙিন শাল বা চাদরের মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যায় না।’
রিসাতকে বলল অনন্যা।
‘বুঝতে পেরেছি। আজ মায়াবতীর ভীষণ মন খারাপ। কিন্তু আমি চাই না আমার মায়াবতীর মন খারাপ হোক। মায়াবতীর মন খারাপের বদলে ভালো হোক। এই যে দেখো আমার পাঞ্জাবির পকেটটা আবারও ছিড়ে গিয়েছে। ওরে! তোমার জন্য দুটো গোলাপ এনেছিলাম, সেগুলো গেল কই?’
‘আপনার বাঁ হাতে কি এটা? কলম?’
রিসাত কিছুটা বোকা হওয়ার ভাব নিল। তার বাঁ হাতের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল—
‘এই দেখো, আমার নিজের হাতে গোলাপ থেকেও পকেটে গোলাপ খুঁজি।’
‘ভুলোমনের মানুষের ভান ধরেও হয়ে আপনার নাটক আমি বুঝি!’
‘বাহ্, কি কবিতা ছিল। হা, হা, হা।’
এটি শুনে অনন্যাও রিসাতের সঙ্গে উচ্চস্বরে হাসতে লাগল। যেন মনে হচ্ছে অনন্যার অকারণে মন খারাপ থাকার অসুখটা সেরে উঠেছে। মায়াবতীদের আসলে মন খারাপে মানায় না, তাদের হাসতে দেখতে যেমন সুন্দর দেখায়, তেমনি তাদের চোখের মায়ার ওপরও প্রেম বাড়তে থাকে। তাই রিসাতের মতো সরল প্রেমিকদের হয়তো ভাগ্যবান চড়ুই প্রেমিকও বলা চলে।
বন্ধু, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা