ফিরে যেতে চাই ছোটবেলায়
ভীষণ ইচ্ছা করছে বাল্যকালের দিনগুলোতে ফিরে যেতে!
সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম হয়নি। সীমিত আয়ে মা হয়তো আমার মনের সব চাওয়া পূরণ করতে পারেননি। তবে যা পেয়েছি, তাতেও অনেক খুশি ছিলাম!
মায়ের অনেক নিষেধাজ্ঞা ছিল। রাত ১০টার মধ্যে ঘুমানো, আবার খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেওয়া। মা বলতেন, ভোরে পড়লে সেটা মাথায় থাকে বেশিক্ষণ! এত সব নিয়মে অনেক কান্না পেয়ে যেত।
সপ্তাহে একটা দিন শুক্রবার, যেদিন আমি থাকতাম মুক্ত, স্বাধীন। কোনো তাড়া থাকত না। দুপুরে মজার মজার খাবার। টেলিভিশনে সিনেমা, রাতে ‘আলিফ লায়লা’সহ আরও কত অনুষ্ঠান! তখন টেলিভিশনই ছিল বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম!
নতুন বছরে স্কুলে নতুন বই পেতাম। সেগুলো বাইন্ডিংয়ের জন্য মা কখনোই দোকানে পাঠাতেন না। পুরোনো বছরের ক্যালেন্ডার পাতা দিয়ে মলাট লাগিয়ে দিতেন। তারপর ওই ধবধবে সাদা মলাটের ওপর রঙিন কালির কলম দিয়ে বড় করে নাম, শ্রেণি, রোল—এসব লিখে দিতেন। কী যে আনন্দ! সঙ্গে নতুন খাতা, পেনসিল, ফ্লাস্ক পাওয়া! দারুণ সব স্মৃতি!
এখন প্রায়ই ঘুমাতে যাওয়ার সময় দূরের মসজিদের আজানের শব্দ শুনি। মন চাইলে একা একা চা বানাই। নিজের রুমে বসে রাতের শহর দেখি। কেউ কিছু বলেও না!
খাতায় মাঝেমধ্যে যাচ্ছেতাই আঁকিবুঁকি করি। আঁকার পর তাতে রং করতে ইচ্ছা হয়। ইচ্ছা হয় সন্ধ্যাবেলায় মায়ের বকা খেতে খেতে পড়ার টেবিলে বসতে। মায়ের শাসন, বাধা–নিষেধ, বকাবকি—এসবকে ফিরে পেতে ইচ্ছা করে! এক টাকার বার্মিজ আচারের সেই স্বাদও পেতে আজকাল খুব ইচ্ছা করে! হাত–পায়ে কেমন যেন আজ জমাট বাঁধা দৌর্মনস্য, কেমন যেন চিত্তক্ষোভ!