‘কে কে কবি হতে চান? কে কে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ওঠে শুধুই কবি বা লেখক হতে চান? হাত তোলেন!’ দুবারই প্রবল উৎসাহে হাত তুললাম। আমার মতো অনেকেই হাত তুলেছেন! এবার কবি ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বললেন, ‘লেখালেখির জন্য বউ ছাড়তে পারবেন এমন কে কে আছেন, হাত তোলেন!’ গোলটেবিলে হাসাহাসি, কানাঘুষা এরই মধ্যে ভেতরের উত্তেজনা প্রকাশ্যে এনে হাত তুললাম!
হ্যাঁ, স্বপ্ন নয় সত্যি! ২ জুন বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে ‘লেখক বন্ধু উৎসব-২০২৩’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রিয় লেখকের সঙ্গে এভাবেই প্রশ্ন বিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশ থেকে নির্বাচিত লেখক বন্ধুদের অংশগ্রহণ, সেরা ১০ লেখক বন্ধু সম্মাননা এবং অংশগ্রহণকারীদের সনদ ও বই উপহার উৎসবকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
কর্মশালায় লেখালেখির কৌশল, শব্দ ও বাক্যের ব্যবহার, নিউজ ও ফিচারের পার্থক্য, ছন্দ ও রস, গদ্য ও পদ্য কবিতার পার্থক্যসহ লেখালেখির নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার পাশাপাশি গভীর উৎসাহ প্রদান করেন আলোচকেরা। প্রিয় লেখকদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে মনের অজানা প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়ার দুর্লভ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ লেখক বন্ধুদের লেখালেখি জীবনে এই উৎসব যেন প্রচণ্ড দাবদাহে শীতল–কোমল সুপেয় জলপানের আনন্দ।
উৎসবে অংশগ্রহণের আগেই জানতাম নির্বাচিত লেখক বন্ধুদের মধ্য থেকে ‘সেরা দশ’ লেখককে সনদ প্রদান করা হবে। জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক জাফর সাদিক ভাই একে একে সেরাদের নাম ঘোষণা করছিলেন, আর তাঁরা আনিসুল হকের হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করছেন। দুর্লভ এই সুযোগ কারা পাচ্ছেন, ভাগ্যবান লেখকদের দুর্দান্ত মুহূর্ত নিজ চোখে দেখার আনন্দে বিহ্বল ছিলাম, মনে সুপ্ত বাসনা জাগ্রত হচ্ছিল, ইশ্! প্রিয় কথাসাহিত্যিকের হাত থেকে সেরা লেখকের সম্মান যদি আমিও পেতাম!
একে একে নাম ঘোষণা হতে থাকে আর স্বপ্ন সারথিরা দুর্জয় গতিতে প্রাণবন্ত আকুতিতে সোজা চলে যাচ্ছেন লেখকের হাত থেকে সম্মাননা বুঝে নিতে। হঠাৎ কানে ভেসে আসে একটি নাম, এতবার এই নাম শুনেছি, এতকাল এই নামের সঙ্গে নিজেকে বয়ে চলেছি, তবু কেমন খটকা লাগল! একই সঙ্গে আনন্দে উদ্ভাসিত হলাম। উচ্চারিত নামটি ছিল আমার। স্বপ্ন হলো সত্যি! স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নে এগিয়ে গেলাম লেখকের কাছ থেকে স্বীকৃতি নিতে। শ্রদ্ধায়, কৃতজ্ঞতায় ভালোবাসায় মনের দিনলিপিতে আরও একটি সফল উৎসব ও প্রাপ্তি তুলে রাখলাম।
সভাপতি, কেরানীগঞ্জ বন্ধুসভা