তোমাকে ছেড়ে থাকা দিন
তোমাকে ছেড়ে থাকা দিনগুলোতে
আমি কৃষকের গোয়ালে মা–হীন বাছুর হয়ে যাই।
নরম গলায় বিরহের বাঁধনে আটকে থাকি গোয়ালের এক কোণে!
কতজন আসে কতজন যায়
কেউ আমার বাঁধন খুলে দেয় না।
আমারও আর মায়ের কাছে ফেরার মতো
তোমার কাছে ফেরা হয় না।
দুপুরে ভাত খেতে গেলে মনে হয়
বিশাল চাঁড়ির মধ্যে কিছু শুকনা খ্যাড়—
আর আমি সেই ছন্নছাড়া বাছুর!
কত হাত দেখি কত চোখ দেখি
কত ঠোঁট দেখি
তোমার মতো আমার মাথায় কেউ রাখে না।
তোমার মতো আমার দিকে কেউ তাকায় না।
তোমার মতো আমাকে কেউ ডাকে না।
গোয়ালা, কাস্তে, খ্যাড়, গোয়ালঘর, গোয়ালিনী সবারই সময় কেটে যায়
আমার সময় কাটে না!
কল্পনায় আমি ফিরে যাই
শীতের ঘুড়িতে ঘড়ির লাইট টেনে,
শর্ষে মাঠ, সবুজ ঘাস, আলপথ আর তুমি
মিলেমিশে একাকার।
তারপর সন্ধ্যার আজানে
আমার মনে পড়ে যায় আমি একজন প্রেমিকা
তুমিহীন অনুভবে মা–ছাড়া বাছুরের ভূমিকায় ছিলাম!